নামাজের বাহিরে (৭) এবং ভিতরে (৬) মোট ১৩টি ফরজ রয়েছে। 

 

নামাজের বাহিরে ৭ ফরজঃ



শরীর পাক, কাপড় পাক, নামাজের যায়গা পাক, সতর ঢাকা, ক্বিবলামূখী হওয়া, ওয়াক্ত মত নামাজ পড়া, নামাযের নিয়ত করা। 

 

নামাজের ভেতরে ৬ ফরজঃ



তাকবীরে তাহরীমাহ বলা, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া, ক্বির আত পড়া, রুকু করা, দুই সিজদা করা, আখিরী বৈঠক।


ছালামের সহিত নামায ভঙ্গ করা সুন্নত। নামায আদায় করতে গিয়ে উপরোক্ত ১৩টি [বাহিরের ৭ টি + ভেতরের ৬টি] ফরযের কোন একটি ভুলেও ছেড়ে দিলে নামায শুদ্ধ হবে না। নামায পুণরায় পড়তে হবে।

 

নামাজের ওয়াজিব ১৪টিঃ


এগুলো একটি ভুল করে ছেড়ে দিলে শেষ বৈঠকে সিজদায় সাহু পড়তে হবেঃ

  1. আলহামদু শরীফ পুরা পড়া
  2. আলহামদুর সঙ্গে সুরা মিলানো
  3. রুকু ও সেজদায় দেরী করা
  4. রুকু হইতে সোজা হয়ে খাঁড়া হওয়া।
  5. দুই সেজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা
  6. দরমিয়ানী বৈঠক ( ৩ ও ৪ রাকাত নামাজে )
  7. দোন বৈঠকে আত্ত্যাহিয়াতু পড়া
  8. ঈমামের জন্য কেরাত আস্তে এবং জোরে পড়া।
  9. বিতিরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়া
  10. দুই ঈদের নামাজে ছয় ছয় তাকবীর বলা ৷
  11. ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাত কেরাতের জন্য
    ঠিক করা।
  12. প্রত্যেক রাকাতের ফরজ গুলির তরতীব ঠিক
    রাখা ৷
  13. প্রত্যেক রাকাতের ওয়াজিব গুলির তরতীব ঠিক
    রাখা ৷
  14. আস্আলামু আ’লাইকুম ও’রাহ…বলিয়া নামাজ
    শেষ করা। 

 

নামায ভঙ্গের কারণ ১৯টিঃ 

 

  1. নামাযে অশুদ্ধ পড়া। 
  2. নামাযের ভিতরে কথা বলা।
  3. কোন লোককে সালাম দেয়া।
  4. সালামে উত্তর দেয়া।
  5. উহ্-আহ্ শব্দ করা।
  6. বিনা ওযরে কাশি দেয়া।
  7. আমলে কাছীর করা।
  8. বিপদে বা বেদনায় শব্দ করে কাঁদা।
  9. তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় সতর খুলে থাকা।
  10. মুত্তাদি ব্যতীত অপর ব্যক্তির লোকমা গ্রহণ করা
  11. সুসংবাদের বা দুঃসংবাদের উত্তর দেয়া। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন বলা।
  12. নাপাক জায়গায় সিজদা করা।
  13. কিবলার দিক হতে সিনা ঘুরে যাওয়া।
  14. নামাযে কুরআন শরীফ দেখে পড়া।
  15. নামাযে শব্দ করে হাসা।
  16. নামাযে দুনিয়াবী কোন কিছু প্রার্থনা করা।
  17. হাঁচির উত্তর দেয়া। (জাওয়াবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা)
  18. নামাযে খাওয়া বা পান করা।
  19. ইমাম হতে এগিয়ে মুক্তাদির খাড়া হওয়া।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

 

ইমামের যে সকল যোগ্যতা থাকা আবশ্যক / আনা ইমামুল্লিমান হাজারা ও মাইয়্যাফজুরু/ ওয়ামাইইয়াহজুরু

https://www.hadithbd.com/showqa.php?b=19&s=238

 

আরবী ‘ইমাম’ শব্দের অর্থ নেতা। আর এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Leader. ইংরেজি একটি প্রবাদ বাক্যে Leader. বা নেতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, He is the Leader, Who knows the way, who go’s the way and who show’s the way. অর্থাৎ ‘যিনি সঠিক পথ সম্পর্কে জানেন, সেই পথে চলেন এবং মানুষকে পথ দেখান তিনিই নেতা।’ অর্থাৎ নেতাকে জানতে হবে জীবন চলার সঠিক পথ সম্পর্কে; শুধু জানলেই হবে না বরং তাঁকে অনুসরণ করতে হবে সেই পথ এবং একইসাথে তিনি অনুসারীদেরকে সেই সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।

 

পবিত্র কালামে পাকের সূরা বাকারা-এর আয়াত-১১২, সূরা মুমিনিন-এর আয়াত-০১, সূরা আহযাব-এর আয়াত-২২ তে একজন ইমামের যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে একজন ইমামের যে সকল যোগ্যতা থাকা আবশ্যক তা হলোঃ
১.    মুসলমান হওয়া;
২.    আলেম হওয়া; অর্থাৎ দ্বীনী ইল্ম বা শরিয়াতের পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে;
৩.    বালিগ হওয়া;
৪.    সুস্থ্য ও স্বাভাবিক হওয়া:
৫.    পুরুষ হওয়া;
৬.    স্বাধীন হওয়া;
৭.    বিভিন্ন প্রকার ওযর ও অসুবিধামুক্ত হওয়া।

 

ইমামতির সবচেয়ে বেশী যোগ্য তিনি, যিনি কুরআনের হাফেয; যিনি (তাজবীদ সহ্‌) ভালো কুরআন পড়তে পারেন। তাজবীদ ছাড়া হাফেয ইমামতির যোগ্য নয়। পূর্ণ হাফেয না হলেও যাঁর পড়া ভালো এবং বেশী কুরআন মুখস্থ আছে তিনিই ইমাম হওয়ার অধিক যোগ্য।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তিন ব্যক্তি হলে ওদের মধ্যে একজন ইমামতি করবে। আর ইমামতির বেশী হ্‌কদার সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে বেশী ভালো কুরআন পড়তে পারে।” (মুসলিম, মিশকাত ১১১৮নং)

তিনি আরো বলেন, “লোকেদের ইমাম সেই ব্যক্তি হবে যে বেশী ভালো কুরআন পড়তে পারে। পড়াতে সকলে সমান হলে ওদের মধ্যে যে বেশী সুন্নাহ্‌ জানে, সুন্নাহর জ্ঞান সকলের সমান থাকলে ওদের মধ্যে যে সবার আগে হিজরত করেছে, হিজরতেও সকলে সমান হলে ওদের মধ্যে যার বয়স বেশী সে ইমাম হবে। আর কোন ব্যক্তি যেন অপর ব্যক্তির জায়গায় তার বিনা অনুমতিতে ইমামতি না করে এবং না কেউ কারো ঘরে তার বসার জায়গায় তার বিনা অনুমতিতে বসে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, মিশকাত ১১১৭নং)

 

ইমাম হওয়ার জন্য অনেক শর্ত-শারায়িত উল্লেখ রয়েছে। তবে যেসব শর্ত না হলে কারো জন্য মসজিদের ইমাম হওয়া কিংবা ইমাম নিয়োগ দেয়া উচিত নয় তা হচ্ছে- (১) ক্বিরায়াত বিশুদ্ধ হওয়া, (২) ইমাম হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাসয়ালা-মাসায়িল জানা এবং ক্বলবী ইলম তথা ইলমে তাছাওউফ অর্জনের উদ্দেশ্যে কোশেশে নিয়োজিত থাকা, (৩) সম্মানিত সুন্নত উনার পাবন্দ হওয়া, (৪) ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক না করা, (৫) বেপর্দা না হওয়া, (৬) হালাল-হারাম তমিজকারী হওয়া, (৭) আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত উনাদের অনুযায়ী হওয়া ইত্যাদি।

 

নামাজের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত,মুস্তাহাব,মাকরূহ ও নামাজ ভঙ্গের কারনসমুহ


http://wahiralo.article/namazer-foroz/
com/

 

নামাজের ফরজ



আহকাম ও আরকান মিলিয়ে নামাজের ফরজ মোট ১৩টি। নামাজ শুরু হওয়ার আগে বাইরে যেসব কাজ ফরজ, সেগুলোকে নামাজের আহকাম বলা হয়।নামাজের আহকাম ৭টি। যথাঃ


১. শরীর পাক হওয়াঃ  এ জন্য অজুর দরকার হলে অজু বা তায়াম্মুম করতে হবে, গোসলের প্রয়োজন হলে গোসল বা তায়াম্মুম করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغْسِلُوا۟ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى ٱلْمَرَافِقِ وَٱمْسَحُوا۟ بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى ٱلْكَعْبَيْنِ ۚ
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)।  (সূরা মায়েদাঃ ৬)


২. কাপড় পাক হওয়াঃ  পরনের জামা, পায়জামা, লুঙ্গি, টুপি, শাড়ি ইত্যাদি পাক পবিত্র হওয়া।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর। (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৪)


৩. নামাজের জায়গা পাক হওয়াঃ  অর্থাৎ নামাজির দু’পা, দু’হাঁটু,দু’হাত ও সিজদার স্থান পাক হওয়া।


৪. সতর বা শরীর ঢাকাঃ  পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং মহিলাদের দু’হাতের কব্জি,পদদ্বয় এবং মুখমন্ডল ব্যতীত সমস্ত দেহ ঢেকে রাখা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ
يَٰبَنِىٓ ءَادَمَ خُذُوا۟ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ
অর্থঃ হে বনী আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশ-ভূষা গ্রহণ কর।  (সূরা আরাফঃ৩১)


৫. কিবলামুখী হওয়াঃ  কিবলা মানে কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ
আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকে তোমাদের চেহারা ফিরাও।  (সূরা বাকারাঃ ১৫০)


৬. ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ পড়াঃ  প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ সময়মতো আদায় করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃإِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ كِتَٰبًا مَّوْقُوتًا নিশ্চয় সলাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।  (সূরা নিসাঃ১০৩)


৭. নামাজের নিয়্যাত করাঃ  নামাজ আদায়ের জন্য সেই ওয়াক্তের নামাজের নিয়্যাত করা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ إنما الأعمال بالنية নিশ্চই আমলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়্যাতের ওপর নির্ভরশীল।  (বুখারী,হাদিস-১)

নামাজ শুরু করার পর নামাজের ভেতরে যেসব কাজ ফরজ, সেগুলোকে নামাজের আরকান বলা হয়। নামাজের আরকান ৬টি।যথাঃ


১. তাকবিরে-তাহরিমা বলাঃ  অর্থাৎ আল্লাহর বড়ত্বসূচক শব্দ দিয়ে নামাজ আরম্ভ করা। তবে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে  নামাজ আরম্ভ করা সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেনঃ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।  (সূরা মুদ্দাসসিরঃ৩)


২. দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াঃ  মানে কিয়াম করা। আল্লাহ বলেনঃ حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلْوُسْطَىٰ وَقُومُوا۟ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ
তোমরা সলাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর এবং আল্লাহর জন্য দাঁড়াও বিনীত হয়ে।  (সূরা বাকারাঃ ২৩৮)


৩. ক্বেরাত পড়াঃ  চার রাকাতনিশিষ্ট ফরজ নামাজের প্রথম দু’রাকাত এবং ওয়াজিব,সুন্নাত,নফল নামাজের সকল রাকাতে ক্বিরাত পড়া ফরজ। আল্লাহ বলেনঃ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ
অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়।  (সূরা মুযাম্মিল,আয়াতঃ ২০)


৪. রুকু করাঃ  প্রতিটি নামাজের প্রত্যেক রাকাতে রুকু করা ফরজ।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,
وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ
অর্থঃআর তোমরা সলাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর।  (সূরা বাকারাঃ৪৩)


৫. সিজদা করাঃ  নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সিজদা করা ফরজ।আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱرْكَعُوا۟ وَٱسْجُدُوا۟ وَٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمْ وَٱفْعَلُوا۟ ٱلْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۩
অর্থঃ হে মুমিনগণ, তোমরা রুকূ’ কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদাত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে।  (সূরা হজ্জঃ৭৭)


৬. শেষ বৈঠক করাঃ  নামাজের শেষ রাকাতে সিজদার পর তাশহুদ পড়তে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় বসা।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ثُمَّ اجْلِسْ فَاطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ قُمْ فَإِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ
অর্থ, “অতঃপর ধীর স্থিরভাবে উঠে বসবে। পরে উঠে দাঁড়াবে। এইরূপ করতে পারলে তবে তোমার সালাত পূর্ণ হবে।স


সূত্রঃ বুক অব ইসলামিক নলেজ, লেখকঃ ইকবাল কবীর মোহন



নামাযের ওয়াজিবসমূহ



ওয়াজিব অর্থ হলো আবাশ্যক। নামাযের মধ্যে কিছু বিষয় আছে অবশ্য করণীয়। তবে তা ফরজ নয়, আবার সুন্নাতও নয়। যা ভুলক্রমে ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়।আর ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে নামায ভঙ্গ হয়ে যায়। নিচে ওয়াজিবসমূহ উপস্থাপন করা হলো । রুকন এর পরেই ওয়াজিব এর স্থান, যা আবাশ্যিক। যা ইচ্ছাকৃতভাবে তরক(বাদ) করলে নামায বাতিল হয়ে যায় এবং ভূলক্রমে তরক করলে ‘সিজদায়ে সাহু’ দিতে হয়। নামাযের ওয়াজিব মোট ১৪টি।যথাঃ
১. সূরা ফাতিহা পাঠ করাঃ  ফরয নামাযের প্রথম দু’ রাক‘আতে এবং সকল প্রকার নামাযের প্রত্যেক রাকা‘আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব। ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল সব ধরণের নামাযের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। এটাই ইমাম আবু হানিফা (রহতুল্লাহ আলাই) এর অভিমত। তবে ইমাম শাফেয়ী (রহমতুল্লাহ আলাই)এটাকে ফরয হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর দলিল-
لاً صَلاَة لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَا تِحَةِ الْكِتاَبِ
“যে নামাযে ফাতিহা পাঠ করেনি তার নামায হয়নি”  (বুখারী)


২. সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানোঃ  ফরয নামাযসমূহের প্রথম দু’রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে যেকোনো সূরা বা আয়াত মিলিয়ে পড়া কমপক্ষে বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পাঠ করা আবশ্যক।


৩. তারতীব মত নামায আদায় করাঃ  তারতীব অনুযায়ী নামায অর্থাৎ নামাযে যে সকল কাজ বারবার আসে ঐ কাজগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা ওয়াজিব। যেমন রুকু, ও সিজদা যা নামাযের প্রতি রাক’আতে বারবার আসে। কিরা’আত পাঠ শেষ করে রুকু’ এবং রুকু শেষ করে উঠে সিজদা  করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে নামায নষ্ট হবে এবং নতুন করে নামায আদায় করতে হবে।


৪. প্রথম বৈঠকঃ  চার রাকা’আত ও তিন রাকা’আত বিশিষ্ট নামাযে দু রাকা’আত শেষ করে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতে যতটুকু সময় লাগে, সে পরিমাণ সময় পর্যন্ত বসে থাকা ওয়াজিব।


৫. আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করাঃ  নামাযের উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা ওয়াজিব। আমরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, তুমি আত্তাহিয়্যাতু পড়। সুতরাং আলোচ্য হাদীসটিই প্রথম ও শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত করে।


৬. প্রকাশ্য কিরা’আত পাঠ করাঃ  যে সকল নামাযে প্রকাশ্য বা উচ্চঃস্বরে কিরা’আত পাঠ করার নির্দেশ রয়েছে সেগুলোতে প্রকাশ্য কিরা’আত পাঠ করা ওয়াজিব। যেমন-ফজর, মাগরিব, ইশা, জুমু‘আ’ দু’ঈদের নামায ও তারাবীর নামায। অবশ্য একাকী আদায় করলে কিরা’আত উচ্চঃস্বরে পাঠ করা আবশ্যক নয়।


৭. চুপিসারে কিরা‘আত পাঠ করাঃ  যেমন নামাযে চুপে চুপে কিরা’আত পাঠ করার নির্দেশ রয়েছে সেসব নামাযে নীরবে বা চুপে চুপে কিরা’আত পাঠ করা ওয়াজিব। যেমন- যোহর ও আসরের নামায।


৮. তা’দীলে আরকান বা ধীরস্থিরভাবে নামায আদায় করাঃ  নামাযের সব কাজ ধীরে-সুস্থে করতে হবে। যেমন রুকু’ ও সিজদা নিশ্চিত ও প্রশান্ত মনে তাড়াহুড়া না করে ভালোভাবে আস্তে আস্তে আদায় করা ওয়াজিব।


৯. রুকু’থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোঃ  অর্থাৎ রুকু’ শেষে সিজদা করার পূর্বে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।


১০. সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসাঃ  দু’ সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা ওয়াজিব।


১১. সালাম বলাঃ  নামায শেষে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে নামায শেষ করা। ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহ আলাই এর মতে এটি ফরজ।


১২. তারতীব ঠিক রাখাঃ  প্রত্যেক রাকা’আতের তারতীব বা ধারাবাহীকতা ঠিক রাখা অর্থাৎ আগের কাজ পেছনে এবং পেছনের কাজ আগে না করা।


১৩. দু’আ কুনুত পাঠ করাঃ  বেতরের নামাযে দু’আ কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।


১৪. ঈদের নামাযে তাকবীরঃ  দুই ঈদের নামযে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীর বলা ওয়াজিব।

সূত্রঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায, দারুস সালাম বাংলাদেশ



আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

নামাজের মাকরুহসমূহ




১. নামাযে কোন অসুবিধা হলে তাসবীহ বলা অথবা হাততালি দেয়া
عن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا ناب احدكم شيء في صلاته فليسبّح فان التسبيح للرجال , والتصفيق للنساء.
“সাহল ইবনে সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কারো নামাযের মধ্যে কোন সমস্যা হয়, তাহলে সে যেন সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ পুরুষের জন্য “সুবহানাল্লাহ’ বলা এবং স্ত্রীলোকদের জন্য হাততালি দেয়া বিধেয়।   (মুজামুল কাবীর তাবারানী,হাঃ ৫৮৫৭) তবে অযথা হাততালি দেয়া নিষেধ ।


২. নামাযের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন
عبد الله بن شدّاد, “سمعت نشيج عمر , وانا في آخر الصفوف يقراُ : إنَّماَ اَشْكُوْ بَثِّي وَحُزْنِي اِلىَ اللهِ.
তাবিয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ বলেন, আমি শেষ কাতারে দাঁড়িয়ে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেলাম, তিনি তখন পড়ছিলেন (অর্থ) “আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর নিকট নিবেদন করছি।”    (সূরা ইউছুফঃ৮৬)(বুখারী)


৩. মুসল্লীর সামনে দিয়ে গমনকারীর পাপ
عن ابو جهيم قال: رسول الله صلي الله عليه وسلم : لو يعلم المارُّ بين يدى المصلىِّ ماذا عليه , لكان ان يقف اربعين خيرا له من ان يمرَّ بين يديه.
আবু জুহায়িম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নামায আদায়রত মুসল্লীর সামনে দিয়ে গমনাগমন করে, সে যদি জানত যে তার এ কর্মে কঠিন অপরাধ, তাহলে তার জন্য চল্লিশ বছর যাবৎ দাঁড়িয়ে থাকা মুসল্লীর সামনে দিয়ে চলার চেয়ে উত্তম হতো।   (বুখারীঃহাঃ ৫১০)


৪. নামাযের মধ্যে কাঁকর সমান করা, কপাল মোছা ও অকারণে নড়াচড়া মাকরূহ
عن عبد الله بن بريدة, عن ابيه, رضي الله عنه, انَّ رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: ثلاث من الجفاء: ان يبول اللرجل قاءئما, او يمسح جبهته قبل ان يفرغ من صلاته, او ينفخ في سجوده.
“হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুরায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি কাজ অভদ্রতা ও অশালীনতার অন্তর্ভুক্ত। তন্মধ্যে কোন ব্যক্তি দাড়িয়ে পেশাব করা  নামায শেষ করার আগেই কপালের ধুলাবালি মোছা, অথবা সাজদার মধ্যে ফু দেয়া (ফুঁ দিয়ে সাজদার স্থান পরিস্কার করার উদ্দেশ্য) । (মুসনদে বযযারঃ হাঃ ৪৪২৪)


৫. নামাযের মধ্যে আঙ্গুল ফুটানো
عن علي، ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: لاتفقع  أصابعك وأنت في الصلاة
আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,নামাযের মধ্যে তুমি তোমার আঙ্গুল ফুটাবে না। (ইবনে মাজাহঃ হাঃ ৯৬৫)


৬. নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রেখে দাঁড়ানো
عن أبي هريرة  رضي الله عنه ، قال: نهى النبي صلي الله عليه وسلم  أن يُصلي الرّجُل مُختصرًا
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন  যে, যেন কোন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রেখে না দাড়ায়। (বুখারী, হাঃ ১২২০)


৭.নামাযের মধ্যে উপরের দিকে তাকানো
عن جابر بن سمرة, قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: لينتهين اقوام يرفعون أبصارَهُمْ إلى السماء في الصّلاة، أو لا ترجع إليهم
জাবির ইবনে সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল মানুষ নামাযের মধ্যে তাদের দৃষ্টি (আকাশের দিকে) উপরে উঠায় তারা যেন অবশ্যই তা থেকে বিরত হয়, তা না হলে তাদের দৃষ্টি (মনোযোগ) আর তাদের কাছে ফিরে আসবে না।   (মুসলিম, হাঃ ৪২৮/১১৭)


৮. নামাযের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা
عن ابي هريرة ,ان رسول الله صلي الله عليه وسلم نهي عن السدل في الصلاة وان يغطي اللرجل فاه.
“আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো নিষেধ করেছেন, নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেন তার মুখ আবৃত করে না রাখে”।   (আবু দাউদ, হাঃ ৬৪৩)


৯. উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করা মাকরূহ
عن عبد الله بن مسعود انه: كره ان يئومهم علي المكان المرتفع
“আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত , তিনি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে মুসল্লীদের ইমামতি করতে অপছন্দ করতেন,(মাকরূহ মনে করতেন)   (মুজামুল কাবীর তাবরানী, হাঃ ৯৫৬১)


১০. মেহেরাবে দাঁড়িয়ে ইমামতি করা
عن عبد الله بن مسعود انه: كره الصلاة في المحراب.
“ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি মেহরাবের মধ্যে নামায আদায় করা অপছন্দ করতেন (মাকরূহ মনে করতেন)।তিনি বলেন, এ মেহেরাবগুলো ছিল গির্জায়; কাজেই তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুসরণ করো না।   (মুসনদে বযযার,হাঃ ১৫৭৭)


১১. নামাযের মধ্যে চক্ষু বন্ধ রাখা
عن ابن عباس , قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: إذا اقام احدكم في الصلاة فلا يغمض عينيه.
“ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদে কেউ নামাযে দাঁড়াবে, তখন সে যেন তার চক্ষুদ্বয় বন্ধ না করে।   (তাবারানী, হাঃ ১০৯৫৬)


১২.নামাযের মধ্যে হাই তোলা
عن ابي هريرة ,ان النبي صلي الله عليه وسلم قال: التثاؤب في الصلاة من الشيطان, فاذا تثاءب احدكم فليمظم مااستطاع.
“আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযের মধ্যে হাই তোলা শায়তানের পক্ষ থেকে। যদি তোমাদের কারো নামাযের মধ্যে হাই উঠার উপক্রম হয়, তাহলে সে যেন তা যথাসাধ্য সংবরণ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। (তিরমিযি,হাঃ ৩৭০)


১৩. নামাযের মধ্যে হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করানো
عن كعب بن عجرة ’قال إن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: إذا توضّا احدكم فاحسن وُضوءه, ثم خرج عامدا الي المسجد فلا يشبكن يديه فانه في صلاة.
“কা’ব ইবনে আজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ অজু করবে এবং এর পর মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে, তাখন সে যেন তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়; কারণ সে এ অবস্থায় নামাযের মধ্যে রয়েছে।   (আবু দাউদ, হাঃ ৫৬২)


১৪. নামাযের মধ্যে পায়ের গোড়ালির ওপরে বা নিতম্বের ওপরে বসা
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَا عَلِيُّ أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي وَأَكْرَهُ لَكَ مَا أَكْرَهُ لِنَفْسِي لاَ تُقْعِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বলেছেন হে আলী আমার জন্য যা পছন্দ করি তোমার জন্যও তা পছন্দ করি, আমার জন্য যা না পছন্দ করি তোমর জন্যও তা না পছন্দ করি। দুই সিজাদার মাঝে নিতম্ব ভূমিতে রেখে দুই হাটু তুলে বসবে না।  (তিরমিযি,হাঃ ২৮২) [গ্রন্থকার বলেন, যদি কোনো ওজর না থাকে, তাহলে চারজানু হয়ে বসা অপছন্দনীয়। ওজর বা অসুবিধা থাকলে এভাবে বসতে কোন আপক্তি নেই।]


১৫. নামাযের মধ্যে মুখ ঢাকা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلاَةِ وَأَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ ‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্তিকাস্পর্শী লম্বা কাপড় পরিধান করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন এবং নামাযের সময় মুখ ঢাকতেও নিষেধ করেছেন-  (তিরমিযী,হাঃ৬৪৩, ইবনু মাজাহ)।


১৬. নামাযের মধ্যে দাঁড়ি নাড়াচাড়া করা
عن معمر’ عن رجل’ قال:راى سعيد بن المسيب رجلا وهو يعبث بلحيته في الصلاة ’ فقال: لو خشع قلب هذا ’ لخشعت جوارحه.
“মা’মার এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, হযরত সাঈদ ইবনুল মাসাঈব এক ব্যক্তিকে নামাযের মধ্যে নিজের দাড়ি নাড়াচাড়া করতে দেখে বলেন, এ ব্যক্তির অন্তর যদি ভীত-বিনম্র হতো, তাহলে এর অঙ্গ প্রতঙ্গও ভীত-বিনম্র ও শান্ত হতো।  (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা,হাঃ ৬৭৮৭)


১৭. নিজ ঘরে নফল নামায না পড়ার অভ্যাস
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
عن ابي هريرة , قال :قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لا تجعلوا بيوتكم قبورا.
“হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ঘরগুলোকে কবর বানিও না।   (আবু দাউদ,হাঃ ২০২৪)


১৮. বায়ু নির্গমন সন্দেহে নামায ছেড়ে দেয়া
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَوَجَدَ حَرَكَةً فِي دُبُرِهِ أَحْدَثَ أَوْ لَمْ يُحْدِثْ فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ فَلاَ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا ‏”‏
”আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে থাকাকালীন যদি অনুভব করে যে, তার পশ্চাৎ-দ্বার দিয়ে কিছু নির্গত হয়েছে বা হয়নি এবং তা তার মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে তার নামায ত্যাগ করা উচিত নয়; যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গমনের শব্দ শোনে অথবা দুর্গন্ধ অনুভব করে।”  (আবু দাউদ, হাঃ ১৭৭)


১৯. ফরয নামায পড়ার পর পরই সে স্থানে নফল নামায পড়া
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
دَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَطَاءِ بْنِ أَبِي الْخُوَارِ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسْأَلُهُ عَنْ شَىْءٍ، رَأَى مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ صَلَّيْتُ مَعَهُ الْجُمُعَةَ فِي الْمَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمْتُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَقَالَ لاَ تَعُدْ لِمَا صَنَعْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاَةٍ حَتَّى تَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ فَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِذَلِكَ أَنْ لاَ تُوصَلَ صَلاَةٌ بِصَلاَةٍ حَتَّى يَتَكَلَّمَ أَوْ يَخْرُجَ ‏.‏
আল-হাসান ইবনে আলী (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) নাফে ইবনে যুবায়ের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনে আতা (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) তাঁকে সায়েব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিদমতে এই সংবাদ সহ পাঠান যে, আপনি নামায আদায়কালে মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আপনাকে কি করতে দেখেছেন? তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদের মেহ্‌রাবে তাঁর সাথে জুমার নামায আদায় করি। নামাযের সালাম ফিরাবার পর আমি স্বস্থানে নামায আদায় করি। এ সময় মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর ঘরে গিয়ে আমার নিকট সংবাদ পাঠান যে, তুমি এখন যেরূপ করেছ আর কখনো এরূপ করবে না। জুমার ফরয নামায আদায়ের পর, স্থান না বদলিয়ে বা কথা না বলে পুনঃ নামাযে দাড়াঁবে না। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কেউ যেন এক নামাযের (ফরয নামাযের) সাথে অন্য নামায না মিলায়, যতক্ষণ না সে ঐ স্থান ত্যাগ করে বা কথা বলে।  (আবু দাউদ,হাঃ১১২৯) তবে বের হওয়ার কোনো জায়গা না থাকলে অথবা বিশেষ প্রয়োজনে পড়া যেতে পারে।


২০. নামায পড়া অবস্থায় আসসালামু আলাইকুম বলা
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنِي شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ وَلَكِنْ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ ذَلِكَ أَصَابَ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ – أَوْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ – أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ لْيَتَخَيَّرْ أَحَدُكُمْ مِنَ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُو بِهِ ‏”‏ ‏.‏
মুসাদ্দাদ (রহমাতুল্লাহ আলাইহি)  আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে নামাযে রত থাকা অবস্থায় তাশাহ্হুদের মধ্যে ‘‘ওয়া আলা ইবাদিহীস সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’’ এর পূর্বে ‘‘আসসালামু আলাল্লাহে’’ বলতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ‘আসসালামু আলাল্লাহে’ বল না; কেননা আল্লাহ পাক নিজেই ‘সালাম’ বা শান্তি বর্ষণকারী। আর তোমরা যখন তাশাহ্হুদের সময় বসবে তখন অবশ্যই পড়বে ‘‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত্ তায়্যেবাতু আস্-সালামু আলায়কা আয়্যুহান-নাবীয়্যু ওয়ার্মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আল-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন’’। তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন এর ছাওয়াব আসমান-যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে যে সমস্ত নেক বান্দা রয়েছেন তাদের উপর পৌঁছাবে। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’’ পাঠ করতে বলেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের পছন্দনীয় উত্তম দুআ বেছে নিয়ে তা পাঠ করবে।  (আবু দাউদ,হাঃ৯৬৮)(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা, তিরমিযী)।


২১. রুকু-সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করা
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
عن ابن عباس, قال: قال النبي صلي الله عليه وسلم الا واني نهيت ان اقرا القرآن راكعا او ساجدا’ فاما الركوع فعظموا فيه الرب عزوجلّ, واما السجود فاجتهدوا في الدعاء , فقمن ان يستجاب لكم.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জানো না যে, আমাকে রুকু, অথবা সিজদারত অবস্থায় মহান প্রভুর মহত্ত্ব কীর্তন করবে এবং সিজদারত অবস্থায় বেশি বেশি দু’আ করবে, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা উক্ত দু’আ কবুল করবেন।   (মুসলিম, হাঃ৪৭৯)


২২. জামা’আতের সামনের কাতার খালি রেখে পিছনে দাঁড়ানো
علي بن شيبان قال: صلينا خلفه يعني النبي صلي الله عليه وسلم فقضي نبي الله صلي الله عليه وسلم الصلاة , فراى رجلا فردا يصلي خلف الصف, فوقف عليه نبي الله صلي الله عليه وسلم حتىَّ قضى صلاته, ثم قال له: استقبل صلاتك, فلا صلاة لفرد خلف الصف.
হযরত আলী ইবনে শায়বান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে নামায পড়ছিলাম। নামায শেষে তিনি এক ব্যক্তিকে মুসল্লীদের কাতারের পেছনে একাকী নামায পড়তে দেখলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দাঁড়িয়ে তার নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন। অতঃপর নামায শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমার নামায আবার নতুন করে পড়ে নাও।   (সহীহ ইবনে খুযায়মা,হাঃ ১৫৬৯)


২৩. নামাযরত অবস্থায় এদিকে-সেদিক তাকানো
مُسَدَّدٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ قَالَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الْعَبْدِ
“আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।  (বুখারী,হাঃ৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ৭১৫)
২৪. নামাযের কাতারের মাঝে খালী রাখা
عن ابن عباس, قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم إياي والفرج يعني : في الصلاة.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযরত অবস্থায় নামাযীদের মাঝে খালী জায়গা রাখা থেকে আমাকে দূরে রাখো তথা আমাকে যেন তা আর কখনো দেখতে না হয়।   (মুজামূল কবীর আত তাবারানীঃ হাঃ ১১৪৫২)


২৫. নামাযে কাপড় অথবা চুল বাঁধা
عن ابن عباس , قال: اُمر النبي صلي الله عليه وسلم ان يسجد على سبعة, ونهي ان يكفّ شعره, وثيابه.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করতে আদেশ করছেন এবং নামাযে চুল ও কাপড় বাঁধতে নিষেধ করেছেন।   (মুসলিম, হাঃ ৪৯০)
২৬. ইক্বামতের পর সুন্নাত অথবা নফল নামায পড়া
عن أبي هريرة ,عن النبي صلي الله عليه وسلم قال: اذا اٌقيمت الصلاة فلا صلاة الا المكتوبة.
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো (ফরজ)নামাযের ইক্বামত দেয়া হয় তখন উক্ত নামায ছাড়া অন্য কোনো (সুন্নাতা অথবা নফল) নামায পড়া যাবে না।  (মুসলিমঃ হাঃ ৭১০)
২৭. নামাযে দু’আ করা অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো
عن إبي هريرة ,ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: لينتهين اقوام عن رفعهم ابصارهم عند الدعاء في الصلاة الي السماء,او لتخطفن ابصارهم.
“হযরত আবুহুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,নামাযে দু’রাকাত অবস্থায় আকাশের দিকে চক্ষু তুলতে জাতিকে অবশ্যই নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, এতে তাদের দৃষ্টিশক্তি উঠিয়ে নেয়া হবে।  (মুসলিম, ৪২৯)
২৮. মল-মূত্রের বেগ অথবা ক্ষুধার জ্বালা রেখে নামায পড়া
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
عن عائشة رضي الله عنها قالت: اني سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: لاصلاة بحضرة الطعام, ولاهويدافعه الاخبثان.
“হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ খাবার উপস্থিত (ক্ষুধা থাকাবস্থায়) এবং মল-মূত্রের বেগ রেখে নামায পড়লে, সে নামায আদায় হবে না।  (মুসলিম, হাঃ ৫৬০)
২৯. ইমাম সাহেবের পূর্বেই কোনো রুকন আদায় করা
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
عن انس, قال: صلي بنا رسول الله صلي الله عليه وسلم ذات يوم فلما قضي الصلاة اقبل علينا بوجهه, فقال: ايها الناس, اني امامكم فلا تستبقوني بالركوع ولا بالسجود. ولا بالقيام ولا بالانصراف.
“হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বললেনঃ হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয়ই আমি তোমদের ইমাম। সুতরাং আমার আগে রুকু, সিজদস, উঠা, বসা ও সালাম (কোনো রুকুন) আদায় করবে না।  (মসলিম, হাঃ ৪২৬)
৩০. নামাযে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে থুথু ফেলা
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
عن عبدالله بن عمر, ان رسول الله صلي الله عليه وسلم فقال: اذا كان احدكم يصلي فلا يبصق قبل وجهه, فان الله قبل وجهه اذا صلى.
“হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। করণ, যখন সে নামায পড়ে তখন আল্লাহ তা’আলা তার সামমেই থাকেন। (মুসলিম, হাঃ ৫৪৭)
তবে নামাযরত অবস্থায় কারো বেশি থুথু এলে সে যেন তার বাঁম দিকে অথবা পায়ের নিচে অথবা কোনো রুমালে ফেলে।
৩১. নামাযের মাঝে কোনো কিছু সরানো
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ
عن معيقيب, قال: سألت رسول الله صلي الله عليه وسلم عن مسح الحصي في الصلاة؟ فقال: ان كنت لابدّ فاعلا فمرةواحدة.
“হযরত মু’আইকিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে কোনো কংকর সরানো সম্পর্কে জুজ্ঞেস করলাম, জবাবে তিনি বললেন, যদি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তোমার করতেই হয়, তাহলে একবার করতে পার।   (সুনানে তিরমিযি,হাঃ ৩৮০)

সূত্রঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায,দারুস সালাম বাংলাদেশ।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।



নামাজের সুন্নাত সমূহ



১। আজান ও ইকামত বলা।  (আদ্দুররুল মুখতার মাআ শামী-২/৪৮)
২। তাকবিরে তাহরিমার সময় উভয় হাত উঠানো।  (তানভীরুল আবসার মাআ শামী-২/১৮২)
৩। হাত উঠানোর সময় আঙ্গুলগুলি স্বাভাবিক রাখা।  (ফাতাওয়া শামী-২/১৭১)
৪। ইমামের জন্য তাকবীর গুলিউচ্চ স্বরে বলা।  (হিন্দিয়া-১/১৩০)
৫। সানা পড়া।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৭১)
৬। আউযুবিল্লাহ পড়া।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৭২)
৭। বিসমিল্লাহ পড়া।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৭৪)
৮। অনুচ্চস্বরে আমীন বলা।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৭৩)
৯। সানা,আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ,আমীন অনুচ্চস্বরে বলা।  (হিন্দিয়া-১৩১)
১০। হাত বাধার সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।  (হিন্দিয়া-১/১৩১)
১১। পুরুষের জন্য নাভির নিচে,আর মহিলার জন্য বুকের উপর হাত বাঁধা।  (হিন্দিয়া-১/১৩০)
১২। এক রোকন থেকে অন্য রোকনে যাবার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৮৩-৪৮৯)
১৩। একাকী নামাজ পাঠকারির জন্য রুকু থেকে উঠার সময় “সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদা” ও “রব্বানা লাকাল হামদ” বলা। ইমামের জন্য শুধু “সামিয়া’ল্লাহু লিমান হামিদা” বলা আর মুক্তাদির জন্য শুধু “রব্বানা লাকাল হামদ” বলা।  (মারাকিল ফালাহ-২৭৮)
১৪। রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” বলা।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৭৮)
১৫। সেজদায় বলা “সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা”।  (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৯৪)
১৬। রুকুতে উভয় হাটু আকড়ে ধরা।   (বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪৮৭)
১৭। রুকুতে পুরুষের জন্য উভয় হাতের আঙ্গুল ফাঁকা রাখা। আর মহিলার জন্য মিলিয়ে রাখা।  (শামী-২/১৭৩)
১৮। পুরুষের জন্য নামজে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা ও ডান পা খাড়া রাখে আঙ্গুলগুলো কেব্লার দিক করে রাখা। আর মহিলার জন্য উভয় পা ডান দিকে বের করে জমিনের উপর বসা।  (বাদায়েউস সানায়ে-১/৪৯৬)
১৯। শেষ বৈঠকে তাশাহ্যুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া।  (বাদায়েউস সানায়ে-১/৫০০)
২০। দুরুদের পর দোয়া পড়া।   (হিন্দিয়া-১/১৩০)
২১। তাশাহ্যুদে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার সময় শাহাদাত(তর্জনি) আঙ্গুল দ্বারা কেবলার দিকে ইশারা করা।   (বাদায়েউস সানায়ে-১/৫০১-৫০২)



নামাজের মুস্তাহাব সমূহ



১। দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার স্থানের দিকে, রুকু অবস্থায় উভয় পায়ের পাতার উপর, সেজদার সময় নাকের দিকে, বৈঠকের সময় কোলের দিকে দৃষ্টি রাখা।   (বাদায়েউস সানায়ে-১/৫০৩)
২। তাকবীরে তাহরিমা বলার সময় হাত চাদর থেকে বাহিরে বের করে রাখা।
৩। সালাম ফিরানোর সময় উভয় কাঁধের উপর দৃষ্টি রাখা।   (মারাকিল ফালাহ-১৫১)
৪। নামাজে মুস্তাহাব পরিমান ক্বেরাত( ফজর ও যোহরে তিওয়ালে মুফাস্যাল,সূরা হুজরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত।আছর ও ইশাতে আওসাতে মুফাস্যাল, সূরা তরেক থেকে বায়্যিনা পর্যন্ত। মাগরীবে কিসারে মুফাস্যাল সূরা যিলযাল থেকে শেষ পর্যন্ত।)পড়া।   (ফাতাওয়া শামী-২/২৬১)
৫। জুমআর দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাতে সূরা আলিফ,লাম,মিম সেজদা ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা দাহর পড়া।   (ফাতাওয়া শামী-২/২৬৫)
৬। যথা সম্ভব কাঁশি ও ঢেকুর চেপে রাখা।   (ফাতাওয়া শামী-২/১৭৬)
৭। হাই আসলে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা।   (ফাতাওয়া শামী-২/১৭৭)
লেখকঃ মুফতি হাফিজ উদ্দীন,জামেয়াতুল আলআসাদ আল-ইসলামিয়া,ঢাকা




নামায ভঙ্গের কারণসমূহ




নামায বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যেমন কিছু শর্ত রয়েছে, তেমনিভাবে নষ্ট হওয়ার জন্যও কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। নিম্নোক্ত কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায়। যথাঃ
১. সালামের জবাব দিলে : নামাযরত অবস্থায় কারো সালামের জবাব দিলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সালাম যিকিরের পর্যায়ভুক্ত নয়।
২. নামাযের মধ্যে সালাম দিলে : ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক নামাযের মধ্যে সালাম দিলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৩. দুঃখসূচক শব্দ উচ্চারণ করা : নামাযের মধ্যে কেউ দুঃখসূচক শব্দ যেমন-আহ, উহ, হায় ইত্যাদি উচ্চস্বরে বললে নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
৪. নামাযের ফরয ছুটে গেলেঃ নামাযের মধ্যে যেসব কাজ করা ফরয তন্মধ্যে কোনো একটি ফরয ছুটে গেলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৫. কিরা’আতে ভুল করলে : নামাযের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াতে যদি এমন ভুল করে যে ভুলের কারণে আয়াতের মর্মার্থ ওলট পালট হয়ে যায়, তবে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৬. নামাযে কিরা আত দেখে দেখে পড়া : নামাযরত ব্যক্তি যদি কুরআন শরীফ দেখে দেখে পাঠ করে, তবে তার নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৭. নামাযের মধ্যে কথা বলাঃ নামায়ী ব্যক্তি যদি নামাযের মধ্যে কথা বলে, তাহলে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
عن زيدِ بْنِ أْرْقَمَ، قال: ” كنَّا نتكلمُ فِي الصّلاةِ يُكَلِّمُ الرّجُلُ صَاِحِبَهَ وَهُوَ إلَى جَنْبِهِ فِي الصّلاةِ حَتّى نَزَلَتْ { وَقُوْمُوْا لِلهِ قاَ نِتِيْنَ } فاُمِرْنا بالسَّكُوْتِ, ونهينا عَنِ الْكَلَامِ
“যায়েদ ইবনে আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (এক সময়) আমরা নামাযের মধ্যে কথা বলতাম। মুসল্লী নামাযের মধ্যে তার পার্শ্ববর্তী সাথীর সাথে কথা বলত। অতঃপর যখন কুরআনের বাণী “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে।”حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلْوُسْطَىٰ وَقُومُوا۟ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ   (সূরা বাকারাঃ২৩৮)
অবতীর্ণ হয়, তখন আমাদেরকে নীরবতা পালনের নির্দেশ দেয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়।”
৮. নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামায পড়লে : মাদকাসক্ত মাতাল অবস্থায় নামায আদায় করলে তা আদায় হবে না। কেননা, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন لا تقربوا الصلوۃ وانتم سکری “তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়ে না।”   ( সূরা নিসা,আয়াতঃ ৪৩)
৯. ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব ছেড়ে দিলে : নামাযের মধ্যে নির্ধারিত ১৪টি ওয়াজিবের কোন একটি ওয়াজিব যদি নামাযী ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয়, তবে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিলে নামায শুদ্ধ হবে। কিন্তু সাহু সিজদা না দিলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। পুনরায় আদায় করতে হবে।
১০. অট্টহাসি দিলে : নামাযের মধ্যে অট্টহাসি দিলে শুধু নামাযই নয়, অজুও নষ্ট হয়ে যাবে।
১১. অপ্রাসঙ্গিক কিছু করা : কোনা দুঃসংবাদ শুনে ইন্নালিল্লাহ সুসংবাদ শুনে আল-হামদুলিল্লাহ’ এবং বিক্রয়ের সংবাদ শুনে “সুবহানাল্লাহ’ বললে নামায বিনষ্ট হয়ে যাবে।
১২. অন্য দিকে ঘুরে গেলেঃ নামাযের মধ্যে কিবলার দিক থেকে অন্য দিকে ফিরে গেলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
১৩. বাচ্চাকে দুধ পান করালে : নামাযরত স্ত্রীলোকের দুধ যদি তার সন্তান এসে খায়, তবে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
১৪. হাঁচির জবাব দেয়া : নামাযের মধ্যে যদি কেউ অন্যের হাঁচি শুনে ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে হাঁচির জবাব দেয়, তবে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
১৫. চলাফেরা করলে : নামাযের মধ্যে চলাফেরা করলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। হ্যাঁ, প্রয়োজনে সম্মুখে বা পেছনে যাওয়া যাবে।
১৬. অপবিত্র স্থানে সিজদা করলে : অপবিত্র স্থানে সিজদা করলে নামায নষ্ট হয়ে
১৭. আমলে কাসীর হলে : নামাযের মধ্যে যদি কেউ আমলে কাসীর করে তবে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। আমলে কাসীর হলো নামাযের মধ্যে এমন আমল করা যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যে, লোকটি নামায আদায় করছে না।
১৮. নিজের ইমাম ছাড়া অন্যকে লোকমা দেয়া : যদি কেউ নামাযের মধ্যে নিজের ইমাম ছাড়া অন্য কাউকে লোকমা দেয়, অথবা ইমাম যদি মুক্তাদি ব্যতীত অন্য কারো লোকমা নেয় অথবা ইমাম যদি জামাত বহির্ভূত অন্য কারো ভুল সংশোধন গ্রহণ করে তবে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে।
১৯. নামাজে দুনিয়াবী কথাবার্তা বলাঃ এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
عنْ مُعَا وِيةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّاَمِى. قاَلَ : قاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إنَّ هذه الصلاة لا يصلُحُ فيها شيْءٌ من كلامِ النَّاسِ , إنّما هو التسبيح و التكبير وقراءةُ القران.
“হযরত মুয়াবিয়া বিন হাকাম সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নামাযে দুনিয়ার কোনো ব্যক্তিগত কথা বলা চলবে না বরং নামায তিলাওয়াতের সমষ্টি মাত্র।”   (মুসলিমঃ ৫৩৭)
২০. নামাযে কাতার সোজা না করে নামায পড়া
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছ 
عن أبى مسعود، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم  يمسح مناكبنا في الصّلاة، ويقول: أستووا، ولا تختلفوا، فتختلف قلوبكم.
হযরত আবু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়ানোর সময় আমাদের কাঁধগুলো স্পর্শ করে বলতেন: তোমরা সবাই নামাযের কাতারে একদম সোজা হয়ে দাড়াও । একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো দাড়িও না, তা হলে তোমাদের অন্তরগুলোর মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হবে।    (মুসলিম,হাদিসঃ ৪৩২)
২১. বিনা অজুতে নামায পড়া
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
عن أبو هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تقبل صلاة أحد كم  إذا أحدث حتى يتوضّاَ.
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো অজু না থাকা সত্ত্বেও অজু না করে নামায পড়লে তার নামায কবুল হবে না।  (মুসলিম,হাদিসঃ ২২৫)
২২. অন্যান্য : কোনো পত্র বা লেখার প্রতি দৃষ্টি পড়ায় তা মুখে উচ্চারণ করলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে।
২৩. তিন তাসবীহ পাঠ পরিমাণ সময় সতর খুলে থাকা ।
২৪. নামাযে খাওয়া বা পান করা । http://wahiralo.com/article/namazer-foroz/

 

মুক্তাদী কত প্রকার হতে পারে?


উ:- চার প্রকার: ১. মুদরিক ২. লাহেক ৩. মাসবূক ৪. মাসবূক লাহেক।


মুদরিক: যে সম্পূর্ণ নামায ইমামের সাথে আদায় করে।
লাহেক: তাকবীরে তাহরীমার পর যার আংশিক বা পূর্ণ কোন রাকাত কারণবশতঃ ছুটে গিয়েছে।
মাসবূক: যে ব্যক্তি জামাআতে শরীক হওয়ার আগেই ইমাম সকল বা কয়েক রাকাত আদায় করে ফেলেছে।
মাসবূকে লাহেক: যে এক রাকাত শেষ  হওয়ার পর জামাআতে শরীক হয়েছে এবং পরবর্তী কোন রাকাত বিশেষ কোন কারণে ছেড়ে দিয়েছে।

 

সালাত আদায়ে অলসতা দূর করার ১৩টি উপায় পেশ করা হল

১. যথাসময়ে সালাত আদায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা স্মরণ করা।
২. সালাতে অবহেলা বা অলসতা প্রদর্শনের ভয়াবহতার কথা মনে জাগ্রত করা।
এ দুটি বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদিস সম্বলিত ভালো মানের বই বা আর্টিকেল পাঠ করা উচিৎ বা এ বিষয়ে ভালো মানের লেকচার শোনা উচিৎ। জানা থাকলেও আবারও পড়তে পারেন বা আবারও ভিডিও লেকচার শুনতে পারেন। এতে মনের মধ্যে নতুনভাবে অনুপ্রেরণা আসবে।
৩. মনে মৃত্যুর কথা জাগ্রত রাখা যে, যে কোনো সময় আমার মৃত্যু ঘটতে পারে। সুতরাং সময় হওয়ার পরও যদি সালাত আদায়ে বিলম্ব করি আর ইতোমধ্যে যদি আমার মৃত্যু সংঘটিত হয় তাহলে অলসতা বশত: কাযা সালাতের দায়ভার মাথায় নিয়ে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
৪. অলসতা দূর করার জন্য আল্লাহ নিকট দুআ করা। বিশেষ ভাবে এই দুআটি পাঠ করা:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, অক্ষমতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব ও জীবন-মরণের ফিতনা থেকে।” [বুখারী ৬৩৬৭ ও মুসলিম ২৭০৬]
৫. যথাসময়ে সালাত আদায়ের জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা বাস্তবায়নে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া।
কেউ যদি ভালো কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার করে এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে অবশ্যই তাতে সাহায্য করেন।
৬. আল্লাহর নিকট খাঁটি অন্তরে তওবা করা এবং পাপকর্ম পরিত্যাগ করা। কারণ মানুষে পাপের সাথে জড়িত থাকার ফলে তার অন্তরে প্রলেপ পড়ে যায়। তখন সে ধীরে ধীরে আল্লাহর রাস্তা থেকে দূরে সরে যায়। সে আর আগের মত ইবাদতে সাধ অনুভব করে না। যার কারণে অন্তরে ইবাদতে আড়ষ্টতা, অবহেলা ভাব ও অলসতা অনুভব করে।
৭. সালাতে বিলম্ব হলে নিজেকে ধিক্কার দিন এবং ভবিষ্যতে যেন আর তা না হয় সে জন্য মনকে প্রস্তুত করুন।
৮. সবসময় ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। ওযু ভেঙ্গে গেলে আবার ওযু করে নিন। তাহলে এটি সময় হওয়ার সাথে সাথে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
৯. আপনার দৈনন্দিন কিছু কাজ নামাযের উপর ভিত্তি করে সাজিয়ে নিন। যেমন: এ কাজটি নামাযে আগে করবেন আর এ কাজটি নামাযের পরে করবেন…এভাবে।
১০. মনকে সময় মত নামায পড়তে বাধ্য করুন। কারণ আমরা যদি মন মত চলি তাহলে আমরা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হবো। তাই মনকে কখনো কখনো কাজে বাধ্য করতে হয়। অর্থাৎ ইচ্ছা না করলেও করতে হয়।
সুতরাং আপনি যদি কিছুদিন মনের মধ্যে অলসতাতে প্রশ্রয় না দিয়ে মনকে সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে বাধ্য করেন তাহলে অল্প দিন পরই এর ফলাফল পাওয়া শুরু করবেন। তখন মনের মধ্যে অলসতা আশ্রয় পাবে না ইনশাআল্লাহ।
১১. আরেকটি বিষয় বলব, অনেক মানুষ অজ্ঞতা বশত: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আগে-পরে মিলিয়ে এত বেশি পরিমাণ রাকআত সংখ্যায় পড়ে যা হয়ত অনেকের জন্য নামায পড়ার ব্যাপারে মনে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে। এ কারণে মনের অজান্তে অলসতা ও অবহেলা চলে আসে। যেমন: অনেকে ইশার সালাত পড়ে সতেরো রাকআত! অথচ হাদিসে এত রাকআত পড়ার কথা আসে নি।
সুতরাং কোন ওয়াক্তে কত রাকআত পড়তে হয় সেটা ভালো করে জেনে নিন।
আর এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, যদি কখনো কোনা কারণে নামাযের প্রতি মনে আগ্রহ না থাকে বা অলসতা অনুভব হয় তাহলে কমপক্ষে কেবল ফরযটুকু পড়ে নিন। সুন্নতগুলো বাদ দিন। যদি মাঝে মধ্যে সুন্নত নামাযগুলো ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে গুনাহ হবে না। তবে সুন্নত নামায ছাড়াকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিৎ নয়।
১২. যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরি করে সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। বর্তমানে অলস সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসব থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকতে হবে। তাহলে কাজে মন বসবে, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং অলসতাও হার মানবে।
১৩. অতিরিক্ত ঘুম ও খাওয়া মনকে অলস এবং শরীরকে স্থূল করে দেয়। সুতরাং এ দুটি বিষয় যেন অতিরিক্ত না হয় সে দিকে সতর্ক হতে হবে। বরং পরিমিত খাওয়া ও পরিমিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস মানুষকে সচল রাখে এবং অলসতা ও স্থবিরতা দুর করে। সংগ্রহীত

 

সুন্নত নামাজ সব সময় ছেড়ে দিলে কী ধরনের গুনাহ হয়?

 

উত্তর : সুন্নত নামাজ দুই প্রকার। ০১. সুন্নতে মুআক্কাদাহ, ২. সুন্নতে জায়েদাহ। সুন্নতে জায়েদাহ ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় না। এটি মুস্তাহাবের মতো। পড়লে সওয়াব, না পড়লে গুনাহ নেই। যেমন আসরের আগের চার রাকাত সুন্নত। সুন্নতে মুআক্কাদাহ অর্থ যেসব সুন্নত নামাজ নবী করিম সা. কখনোই ছাড়েননি। এর মর্যাদা প্রায় ওয়াজিবের মতো। যা ছাড়লে গুনাহ হয়। এসব সুন্নত ছাড়লে গুনাহ কী ধরনের হয় এ প্রশ্নের আগে এসব পড়লে সওয়াব কী পরিমাণ হয় তা ভাবা দরকার। কারণ, গুনাহর ভয়ে নামাজ পড়ার চেয়ে বা সওয়াবের জন্য তা আদায় করার চেয়ে বেশি গুরুত্ব এ জন্যই দিতে হয় যে, নবী করিম সা. সারাজীবন এসব নামাজ এত গুরুত্ব দিয়ে কেন পড়লেন। পাঁচ ওয়াক্তের সাথে যে জরুরি সুন্নত নামাজগুলো রয়েছে সে সম্পর্কে নবী করিম সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্তের সুন্নতে মুয়াক্কাদাহগুলো নিয়মিত আদায় করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা কেবল তার মৃত্যু। এ জন্যই দুনিয়ার সব সাহাবি, তাবেয়ি, তাবে তাবেয়ি ও সকল পরহেজগার বান্দারা এসব সুন্নত নিয়মিত জীবনভর পড়েছেন। তবে কোনো কারণবশত মাঝে মধ্যে এসব সুন্নত ছুটে গেলে কাজা করতে হয় না। কঠিন কোনো গুনাহও হয় না। কিন্তু পড়ার মধ্যে যে ফজিলত রয়েছে কোনো বুদ্ধিমান মানুষ ইচ্ছা করে এসব ছাড়তে পারেন না। হাদিস শরিফে এমনও এসেছে, হাশরের দিন বান্দার ফরজ নামাজে কিছু ত্রুটি থাকলে তা অন্যান্য নামাজ থেকে পূরণ করা হবে। অতএব, ফরজ ছাড়াও সব সুন্নত ও যথাসম্ভব অধিক নফল নামাজ নিজের আমলনামায় রাখা প্রত্যেকেরই কর্তব্য।

সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতাওয়া বিশ্বকোষ। উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী। দৈনিক ইনকিলাব।

 

http://imam.gov.bd/masala-mashail ( ৯০০+  মাসআলা )

http://wahiralo.article/namazer-foroz/  ( নামাজের মাসআলা উইথ দলিল )

https://www.hadithbd.com/showqa.php?b=19&s=238 ( ইমামতি )

https://www.banglanews24.com/islam/news/bd/441206.details ( মসজিদ কমিটি ) 

 

নামাযের ব্যাপারে সেলফ রিমাইন্ডার!

 

একটা জিনিস খেয়াল করে দেখুন, আপনি কিন্তু চাইলেই কন্সিডারেবল অ্যামাউন্ট অফ একটা টাইম নামাযের পিছনে দিতে পারেন। এটা না দেওয়ার পিছনে তেমন কোন যৌক্তিক কারণই আসলে থাকতে পারে না।

আমরা যারা বাংলাদেশের মাঝারি/ছোট সাইজের প্রাইভেট অফিস গুলোর চিত্র জানি তারা অনায়েসে বলতে পারি, যারা ওয়ার্কিং মেন / উইমেন আছেন সে সমস্ত জায়গায়, অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত ডাইনিং রুমে বা মিটিং অথবা কনফারেন্স রুমে (আলাদা নামাযঘর থাকলে তো রমরমা অফিস আপনার, কংগ্রাচুলেশনস) তারা চাইলেই জাম’আতের সাথে নামায পড়ে নিতে পারেন। আর বাংলাদেশের কন্টেক্সটে অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেদের বেলায় নিকটস্থ মসজিদে আযানের সময় গেলেও এইচআর ডিপার্টমেন্ট খুব বেশি রাগ করেন এমন নজির বিরল। আর যারা ইন্ডিপেণ্ডেন্ট কাজ বা ব্যবসা করেন তাঁদের জন্য তো নিজের মন মিশিয়ে নামায আদায়ের ব্যাপারটা একটা বরকতের মতই। সুতরাং ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে নামাযে উপযুক্ত সময় না দেওয়াটা একটা প্রতারণার মতই।

নামাযের জন্য উপযুক্ত সময় দেওয়ার কিছু ভাল ট্রিক্স আমি বলে দিচ্ছি। আমার অল্পকিছুদিনের দ্বীনি জীবনের অবজারভেশনে আমি খেয়াল করেছি এই কাজ গুলো একটু মন দিয়ে করলে নামায আদায় করাটা একটা বিনোদনের মত হয়ে যায়। একটা সাররিয়েল এক্সপেরিয়েন্সের নাম হয়ে ওঠে নামায।

আমার জ্ঞান নেহায়েতই কম। কোন পদ্ধতিগত বা মাস’য়ালাগত ভুল-ত্রূটি আমার বলা টেকনিকে থেকে গেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এই আশা রাখলাম। আল্লাহ সবচাইতে বেশি জানেন।

১. প্রথম যেই কাজটি করবেন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে মুসলিম প্রো বা এই জাতীয় একটি উচ্চারণ সহ কুরআন পাক সম্বলিত অ্যাপ্লিকেশন নামিয়ে ফেলবেন।

এরপরে বাঙালি হওয়ার কারণে ও আরবী দীর্ঘদিন চর্চা না থাকার কারণে যে উচ্চারণগত ত্রুটি আমার ও আপনার আছে তা ঠিক করার জন্য খুব আন্তরিক ভাবে চেষ্টা শুরু করুন। এই কাজটি যদিও হুজুর রেখে বাসায় করতে পারলে আপনি সর্বোচ্চ আউটপুট পাবেন। তারপরেও অলসতা / ব্যস্ততা বা মোস্টলি চক্ষুলজ্জার কারণে এটা যেহেতু আপনি করতে পারছেন না, তাই অ্যাপ্লিকেশন এরই সাহায্য আপাততঃ নিন। একটি ভালমানের হেডফোন ৪০০/৫০০ টাকা দিয়ে কিনে নেবেন এবং সময় পেলেই একটু পাক কালামের অক্ষরের দিকে তাঁকিয়ে উচ্চারণ গুলো মনযোগ দিয়ে শোনা শুরু করুন, এবং নিজে বলার চেষ্টা করুন। এরপর সেই উচ্চারণ গুলো আপনার সুন্নত নামায ও তাশাহহুদ-তাসবীহ তে ইমিটেট বা সোজা বাংলায় অন্ধের মত নকল করার চেষ্টা করুন। আর ঈমামের কির’আত ও যদি আপনি এটা সেটা নামাযের মধ্যে চিন্তা না করে মনযোগ দিয়ে নিয়মিত শোনার আর আপনার অ্যাপ্লিকেশনে শোনা উচ্চারণের সাথে মিলাতে থাকেন আপনার নকল করার অ্যাকুরেসি ইন শা আল্লাহ দিনকে দিন বাঁড়বে।

২. ভয়ঙ্কর ভাল ভাবে অযু করাটা শিখবেন। এবং অত্যন্ত চমৎকার ভাবে, প্রচন্ড অ্যাকুরেসির সাথে অযুটা করবেন। আপনার মাযহাব অনুযায়ী যেই অযুর দুয়া পড়া দুরস্ত সেটা শিখে নেবেন। আরেকটি জরুরি যেটা কাজ, প্রথম প্রথম নিজের মনের বিরুদ্ধে মনে হলেও লোকলজ্জার ভয় ভেঙে একটা মেসওয়াক কিনে ফেলবেন৷ অযুর আগে একটু করবেন। এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসায় করবেন। পারবেন। এত বিব্রতবোধ করার কিছু নেই।

৩. আবার উচ্চারণের টপিকে ফিরি। যখন উচ্চারণ নকল করবেন, দয়া করে বিড়বিড় করে ঠোঁট না নাড়িয়ে একটু বড় করে মুখমণ্ডল টা নাড়াবেন। এতে করে উচ্চারণ আত্মস্থ করা সহজ হয়। অবশ্য শব্দ যেন বেশি বাইরে এসে পাশের ভাইয়ের যেন সমস্যা না হয়, সেটা খেয়াল রাখবেন। সুন্নত নামায গুলো পড়ার সময় অবশ্যই এ জন্য চেষ্টা করবেন, কারো পাশে দাঁড়িয়ে নামায না পড়তে, যাতে কায়দা মত উচ্চারণ নকলের চেষ্টাটা চালিয়ে যাওয়া যায়।

৪. অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই সুন্নত নামায গুলো পড়বেন। অবশ্যই।

৫. সচেতনতা জিনিসটা অনেক সময় সপ্রতিভ ভাবে আসে না, এর জন্য কিছু ট্রিক্স অ্যাপ্লাইও করতে হয়। যেমনঃ নামাযের জন্য একটা ছোট কিন্তু ইফেক্টিভ সচেতনতা আপনি আপনার জন্য ও আপনার পরিবেশের জন্য বিল্ড করতে পারেন। আপনি প্রথম পয়েন্ট অনুযায়ী যেই অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিয়েছেন সেখানে আযান অ্যালার্ট টা অন রাখতে পারেন, যাতে আপনি নিজেও টের পেলেন, খুব সুক্ষ্মভাবে সবাইকে নামাযের জন্য জানান ও দেওয়া গেল।

৬. নামাযে দাঁড়ানোর সময় যদি ‘এটা মু’মিনের মেরায’ এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ধারণাটি ধারণ করতে না পারেন তাহলে একটা শর্টকাট আমার নজরে এসেছে। সেটা হল নামায টাকে ভীষণ ফিজিকালি আদায় করবেন। যেমন, একদম সোজা হয়ে দাঁড়াবেন, আপনার অনুসরণকৃত মাযহাব অনুযায়ী হাত বাঁধবেন, দৃষ্টি অবনত রাখবেন, একদম ব্যায়াম করার মত ডিসিপ্লিনের সাথে রুকু – সিজদাহ আদায় করবেন, তাশাহহুদের আসন গাঁড়বেন। প্রোপারলি রুকু – সিজদাহ করা কিন্তু যথেষ্ট কঠিন একটা ফিজিকাল টাস্ক। সেটা কিভাবে করে জানা না থাকলে কাউকে জিজ্ঞেস করতে বিব্রতবোধ না করে অনায়েসেই ইউটিউবের হেল্প নিতে পারেন। তারপর নামাযের বাইরে সেটা প্র‍্যাকটিস করুন। আপনি যদি এই ফিজিকাল টাস্ক গুলো মাস্টার করতে পারেন, নামাযকে একটা ইন্টারেস্টিং ও পজিটিভ ওয়েতে চ্যালেঞ্জিং কাজও মনে হবে, যেটা করতে পারলে তৃপ্তি আসে, আমি শিওর। ইন শা আল্লাহ।

৭. এই কাজ গুলো নিয়মিত করতে থাকবেন, সাথে আমার নিজের একটা খুব পারসোনাল ফেবারিট কাজ আছে। সেটা হল, আপনার অনুসরণকৃত মাযহাব অনুযায়ী যেভাবে দুয়া/মোনাজাত করা ঠিক হয় সেটা মাথায় রেখে অতি অবশ্যই দুয়া করবেন। প্রতিবার, প্রতি ওয়াক্তে। আল্লাহ তা’লার ম্যাগন্যানিমিটি তো কল্পনাতীত, তাও খোলা হাশরের ময়দানে একা কল্পনা করে নিজেকে সম্পূর্ণ সেই মহান সত্ত্বার (যার হাতে আমার প্রাণ) কাছে সঁপে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলুন। এবার চাইতে থাকুন। যা ভাল লাগে। ঈমানের সাথে মৃত্যু চান, আসহাবুল ইয়ামীন দের সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে চান, রোজ হাশরের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে পানাহ চান, মুনকার – নাক্বীর এর ভয়ানক জেরা থেকে সহজ ভাবে বের হওয়ার তৌফিক চান, অর্থ চান, সচ্ছলতা চান, সুস্থতা চান, যা ভাল লাগে।

যদি সমস্ত উচ্চারণগত দিক গুলো সহ ফিজিকাল দিক গুলো পূরণ করে আপনি নামায টা আদায় করতে পারেন আমি ইন শা আল্লাহ আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারি আপনার দুয়া চাওয়ার সময় আল্লাহ চোখে পানি এনে দেবেন। আর এই চোখে আল্লাহ যদি একবার পানি এনে দেন এর চেয়ে বড় নেশা ভাই, দুনিয়ায় দ্বিতীয় টা আর নাই। এই পাগল করা নেশার খোঁজ যেদিন আল্লাহ আপনাকে দেবেন, সেইদিন মসজিদে যাওয়ার জন্য আপনার ঘড়ি দেখার পালা শুরু হবে, বিশ্বাস করেন বস, এই ঘড়ি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ ও নেয়ামত এই জগতে আর হয় কিনা আমি জানি না।

আল্লাহ আমাদের সঠিক ভাবে নামাযে সময় দেওয়ার ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করার তৌফিক দান করুক।

বিঃদ্রঃ এই লেখায় করা সমস্ত ভুল গুলোর দায়ভার আমার,আর যা যা সঠিক তাঁর কৃতিত্ব একমাত্র ও একমাত্র আল্লাহর।

আপনাদের কাছে দুয়া চাই।

 

নামাজের মাঝে কান্না!

 

কুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাগরিবের সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ার সময় আটকে গেলেন। “مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ” বলার পর আর আগাতে পারছেন না। তার কান্নার দমক থামছে না।
.
হঠাৎ সুফিয়ান আস সাওরী (রহঃ) এর কথা মনে পড়ল। তাঁর ও একই অবস্থা হয়েছিল। কোন এক মাগরিবের সলাতে তিনি إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ বলার পর আর আগাতে পারছিলেন না। “আমরা কেবল তোমার ইবাদত করি, আর তোমার সাহায্য প্রার্থনা করি”- নামাযে বলা এই লাইনটার সাথে তিনি তাঁর বাস্তব জীবনকে মিলাতে পারছিলেন না। আমি কোন আম-জনতার কথা বলছি না। বলছি সুফিয়ান আস সাওরী(রহঃ) এর কথা ! যিনি যদি কারো সামনে হক্ক কথা বলতে না পারতেন, তবে তার যন্ত্রণায় রক্ত-প্রসাব করতেন।
.
সূরা ফাতিহা তো আমিও পড়ি। কম করে হলেও দিনে ১৭ বার। ২৮ বছর হয়ে গেল। কই কোনদিন তো চোখে পানি আসেনি, কান্নার দমকে থমকে যাইনি । প্রথমে ভাবতাম আরবী না জানার কারণে হয়তো এমনটা হয়েছে। এখন তো ছোট ছোট সূরার আরবী বললে সরাসরি বুঝতে পারি। তাও তো সেই আগের মতই অবস্থা!
.
কে জানি বলল “পড়ো” বইটাতে খুব সুন্দর করে সূরা ফাতিহার অর্থ বুঝানো হয়েছে। মন দিয়ে পড়লাম। কিন্তু অবস্থার উন্নতি নেই। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুর’আনে বলে দিয়েছেন,
.
“যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে।”
[ #সূরা_হাশর ২১ ]
.
যে কুর’আনের ভয়ে পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে যেত, সেই একই কুর’আন আমাদের হৃদয়কে একটুও নাড়া দেয় না। একটিবারের জন্যও থমকে যাই না। অন্তরটা কি পাহাড়ের চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে?
কিন্তু কেন?
.
উত্তরটা দিয়েছেন ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়্যাহ (রহঃ), তাঁর বিখ্যাত পত্র “আল জওয়াব আল-কাফি” তে। আর আমার ধারণা একটু চিন্তা করলে আমরা নিজেরাও এর উত্তর পাব। জানেন এটা কিসের ফলাফল?
.
এটা আমাদের পাপের ফলাফল।
.
“ বরং তাদের অন্তরে রন ( পাপ ও কুকর্মের কারণে আস্তরণ) পড়েছে তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ”। [ #সূরা_মুতাফফিফিন ১৪ ]

 

সিজদা কতো প্রকার?

 

পীর কিংবা মাজারে সিজদাহ্ করার ব্যাপারে সোনাকান্দার পীর সাহেব বলেন,

সিজদা দুই প্রকার। ।

১.সিজদায়ে আ’বুদি (ইবাদতি সিজদাহ)।
২.সিজদায়ে তা’যীমি(সম্মান জনক সিজদা)।

ইবাদতের নিয়্যাতে যে সিজদা দেওয়া হয় তা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
(অন্য কাউকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা দিলে শিরক)।

আর তাযীমি সিজদা একমাত্র নবীদের জন্য খাস।
ফেরেশতাগণ মহান আল্লার নির্দেশে হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদাহ্ করেছিল।
(সুরা বাকারাহ ৩৪)।

হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সহ তার পরিবারের মোট তের জন হযরতে ইউসুফ আলাইহিস সালামকে সিজদাহ করেছিল।(সুরা ইউসুফ ১০০)।
এই গুলো হচ্ছে তাযীমি সিজদাহ্ এবং এগুলো আল্লার নির্দেশে করেছিল।
(কিন্তু এইটা অন্যান্য নবীদের শরীয়ত জায়েজ ছিলো)।

কিন্তু এই সিজদাহ্ শরীয়তে মুহাম্মদির মধ্যে হারাম।
একদা প্যারিস থেকে একজন লোক এসে নবীজিকে সিজদাহ্ করতে চাইল,
তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বাঁধা দিল। সে বলল ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্যারিসের মানুষ তাদের ধর্মগুরুকে সিজদাহ্ করে। আমি কেন আপনাকে সিজদাহ্ করতে পারবো না??
জবাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার শরীয়তে এক আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ্ করার বিধান নাই
(সুনানে ইবনে মাজাহ ঃ-১৮৫৩ ।
এবার,
যারা পীর অথবা মাজারে সিজদাহ্ করে তাদেরকে বলছি,
আপনি কসম করে বলেন,
পৃথিবীতে সবচেয়ে সম্মানীত ব্যাক্তি কে??
যদি আপনি মুসলিম হন তাহলে বলবেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এখন আপনার কাছে আমি অধমের প্রশ্ন?
আপনি বলুন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেউ কি সিজদাহ্ দিয়েছেন?
যদি না দেন! কিংবা কাউকে দিতে না দেখেন তাহলে আপনি নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেন।
আপনি পীর অথবা মাজারে সিজদাহ্ দিয়ে চরম অন্যায় করেছেন।।
সুতরাং আজকেই তওবা করুন।
যারা পীর কিংবা মাজারে সিজদাহ্ দিবেন না, এটা সম্পুর্ণ অনৈসলামিক কার্যকলাপ।
আল্লাহ্ তা’য়ালা সবাইকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সঠিক আক্বিদা বোঝার তৌফিক দান করুন।
আমিন।

#অধ্যক্ষ_শাহ_মুহাম্মদ_মাহমুদুর_রহমান
পীর সাহেব – সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ,
কুমিল্লা, বাংলাদেশ।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।