ইংশাআল্লাহ্‌ বলার গুরুত্ব

 

ইমাম ইবনে জরীর তাবারী হযরত ইবনে-আব্বাসের রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেন, কুরাইশ গোত্রের লোকেরা নযর ইবনে হারেস ও ওকবা ইবনে আবু মুঈত নামক দুই ব্যক্তিকে এই নির্দেশ দিয়ে মদিনায় পাঠায় যে, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর অবস্থা মদিনার ইহুদি ধর্মযাজকদের কাছে বর্ণনা করো এবং তাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো। কারণ তাদের কাছে জ্ঞানের যে ভাণ্ডার রয়েছে আমাদের কাছে তা নেই। আর তারা তাঁর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত দেয় তা আমাদেরকে জানাও। এরপর উভয় দূত যথাসময়ে মদিনায় পৌঁছে ইহুদি ধর্মযাজকদের সাথে সাক্ষাৎ করে নবী (সা:) এর অবস্থা তাদের কাছে বর্ণনা করে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন ইহুদি ধর্মযাজকরা বললো- তোমরা তাঁকে তিনটি প্রশ্ন করো। যদি তিনি এ তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তিনি অবশ্যই আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আর যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি দিতে না পারেন, তাহলে জেনে রাখো, তিনি মিথ্যাবাদী, সত্য নবী নন।

 

প্রশ্ন তিনটি নিম্নরূপ-

১. সেই যুবকগণ কারা ছিলেন, যারা পূর্বে বিদায় নিয়েছেন এবং যাদের ঘটনা সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিস্ময়কর ? আর সেই ঘটনাগুলো কী ?
২. সে ব্যক্তি কে, যিনি সারা পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং তাঁর ঘটনাবলি কী ?
৩. রূহের তাৎপর্য কী ?

 

কুরাইশদের প্রেরিত দুই ব্যক্তি মক্কায় ফিরে এসে কুরাইশদেরকে তাদের ভ্রমণের ফলাফল জানিয়ে দেয়। এরপর তারা রাসূল (সাঃ) কে এই তিনটি প্রশ্ন করে। উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন ‘আমি আগামীকাল বলবো’। কিন্তু তিনি ইংশাআল্লাহ বলতে ভুলে গেলেন। এর মাঝে হযরত জিবরাঈল:(আ:) ও আসেননি এবং আল্লাহ তা’য়ালা কোন ওহীও প্রেরণ করেননি। তখন নবী কারিম (সাঃ) অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়েন। আর এদিকে কাফেররা ভিত্তিহীন-বানোয়াট কথাবার্তা ছড়াতে শুরু করে। কোরাইশরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ আরম্ভ করে দিল। এতে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) খুবই দুঃখিত ও চিন্তিত হলেন। পনের দিন পর জিবরাঈল সূরা কাহফ নিয়ে অবতর করলেন। এতে ওহীর বিলম্বের কারণও বর্ণনা করে দেয়া হল যে, ভবিষ্যতে কোন কাজ করার ওয়াদা করা হলে ইংশাআল্লাহ্‌ বলা উচিত।

 

আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) ভুল বশতঃ ইংশাআল্লাহ বলেননি তাই আল্লাহ্‌ তাঁকে পনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে ইংশাআল্লাহ্‌ বলার তাগিদ দিয়েছেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাই যে, আমরা ভবিষ্যতে কোন কাজ করার ওয়াদা করলে অবশ্যই ইংশাআল্লাহ্‌ বলবো।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।