দেশপ্রেম আসলে কি?

দিনদিন আমরা যেন কেমন হয়ে যাচ্ছি। ফেসবুকীয় দেশপ্রেম এখন কিছু ছকে বাধা।

 

অন্যদেশকে গালি দেয়ার মধ্যে আমাদের দেশপ্রেম। খেলায় নিজের দেশকে বড় প্রমাণ করতে ভারত বা পাকিস্তানকে গালি দেই। ট্রল বানাই, কমেন্ট করি। ফিরতি তারাও করে। পাকিস্তানকে কেউ সাপোর্ট করলে সবাই বলে সে রাজাকার বা পাকি দালাল। আবার ভারতকে সাপোর্ট করলে ভারতের দালাল।

নিজের দেশকে বড় করার জন্য অন্যকে গালি নয়, দেশের জন্য ভাল কিছু করাই দেশপ্রেম।

 

রাত দিন ভারত-পাকিস্তানকে গালি দেই। কিন্তু মেলাতে পাকিস্তানের স্টলেই আগে যাই, পাকিস্তানি ড্রেস না হলে ঈদ জমেনা, ভারতের টিভি চ্যানেল না দেখলে ঘুম হয়না।
টিভি বা পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে বলার চেয়ে দেশে ভাল পণ্য আর ভাল অনুষ্ঠান তৈরি হলেই আসলে পরিবর্তন আসবে। পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি হয় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার, ভারত থেকে ৩৪ হাজার কোটি। বন্ধ হবে এখানে তৈরি হলেই। আর সেই তৈরি করার দায়িত্ব নেয়াই দেশপ্রেম।

 

রাজনীতি আমাদের এতই অন্ধ করে দেয় যে দলভেদে জাতিরপিতা এবং শহীদ জিয়াকে অসম্মান করছি বারবার। দলীয় তর্কে / দ্বন্দ্বে জেতার জন্য এই দু’জনের অবদান ভুলে দুপক্ষ তাদের ব্যবহার করছে, কেউ অসম্মান করছে। স্বাধীনতায় তাদের দুজনেরই অবদান ছিল, এটা মেনে নিয়ে তাঁদের সম্মানের জায়গায় রেখে রাজনীতি চালিয়ে নেয়া যায়না?

সম্মান পাওয়ার যোগ্যদের সম্মান দেয়াই দেশপ্রেম।

 

কেউ কোথাও ইংলিশে কথা বললেই আমরা গালিগালাজ করি, আমাদের দেশপ্রেমে লেগে যায়। যেখানে আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক ভাষা শিখে, উন্নতশিক্ষিত আর মেধাসম্পন্ন হয়ে ভারতের তরুণদের মত উন্নতদেশের বড় বড় কোম্পানিতে সিইও, ডিরেক্টর আর বড় বড় পদে আসীন হওয়া। ভারতের সত্য নাদেলা মাইক্রোসফটের সিইও, বেতন পান মাসে ৫৪ কোটি। আমরা ইংরেজি ঘৃণা না করে উন্নত শিক্ষা নিতে পারলে এরকম কয়েক’শ কর্মকর্তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বর্তমানের দ্বিগুণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসতে পারতাম। যোগ্য হয়ে ওঠাই দেশপ্রেম।

 

পাকিস্তানি সরকার ৭১ এ যা করেছে তার চেয়ে বর্বোরচিত কিছু হতে পারেনা। তাদের এই কাজে সমর্থন দেয়া সবাই দেশ-দল-মত নির্বিশেষে তাদের মতই নিকৃষ্ঠ। আমি কয়েকডজন সু-শিক্ষিত পাকিস্তানি দেখেছি যারা তাদের পুর্বপুরুষদের কাজে লজ্জিত হয়। যদিও তাদের বই-পুস্তকে একাত্তরের ২০% সঠিক ঈতিহাসও নেই। তাদের পুর্বপুরুষদের কাজের কারণে পাকিস্তানের সব নাগরিককে ঘৃণা করা দেশপ্রেম নয়। বিডিআর বিদ্রোহের দ্বায়ভার যেমন পুরো বাহিনীর উপর বর্তায় না, তেমনি একটা দেশের পুর্বপুরুষদের কাজের কারণে সবার উপর বর্তায় না।
সকল দেশের সকল সুনাগরিকদের প্রতি সম্মান দেখানোই দেশপ্রেম।

 

ফেসবুকীয় দেশপ্রেমিকেরা ফেসবুকে কমেন্ট করে অন্যের ভুল ধরেই দেশপ্রেমিক। এমনই কিছু দেশপ্রেমিকের সাথে একটা সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করা হয়। পার্কে একেকজনকে বলা হয় জাতীয় পতাকা ছিড়তে পারলে ৫০০ টাকা দেয়া হবে। ধারণা ছিল ৯০% ছিড়তে রাজি হবেনা, রাগ করবে, মারতে উদ্ধত হবে। ধারণা ভুল ছিল। ৯০% ই ছেড়ার জন্য প্রস্তুত।
না তারা অশিক্ষিত না, তারা শিক্ষার্থী, ডাক্তার, শিক্ষক এমনকি পুলিশ। বরং যারা ছিড়তে রাজি হয়নি তারাই রিক্সাওয়ালা, বাদামওয়ালা।
যে দেশের নাগরিক দেশের সার্ভৌমত্বের প্রতিক ছিড়তে দ্বিধাবোধ করেনা, তাদের উন্নতি আসলে কি হবে?

অন্যদেশকে গালি দিয়ে, দেশের মহানায়কদের তাচ্ছিল্য করে, অন্যের ভাষা নিয়ে আবেগ দেখিয়ে, স্লোগান দিয়ে দেশপ্রেম হয়না।

দেশপ্রেম হল দেশের জন্য ভাবা, দেশকে সম্মান করা, দেশের আইনকানুন মেনে চলা, নিজেকে উন্নত করে তৈরি করে দেশের সম্পদে পরিণত হওয়া, সর্বোপরি দেশকে এগিয়ে নেয়া।

চলুন দেশপ্রেমিক না সেজে দেশপ্রেমিক হই।

Written By: Shanjidul Alam Seban Shaan

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  এই লিংক দুটি ( লিংক০১ ও লিংক০২ ) ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।