আপনি কি ওয়াসওয়াসা রোগে আক্রান্ত?

১. আপনি ইদানীং কারণে-অকারণে চিন্তিত থাকছেন? মাথায় বিক্ষিপ্ত চিন্তা ঘোরাঘুরি করার কারণে দৈনন্দিনের কাজ, সালাত, ইবাদত, যিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মন বসছে না?
২. আপনি অথবা আপনাদের পরিবারের কোন একজন কি হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেছে? কেমন যেন উদাস ভাব চলে এসেছে, কিছুই ভালো লাগছে না।
৩. সালাত বা ওযু নিয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন? বারবার মনে হচ্ছে ঠিকমতো ওযু হচ্ছে না, নামাজের এই অংশটা ঠিকমত হল না।
৪. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অথবা পরনের কাপড় নিয়ে আপনি কি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন?
৫. আপনি কি অপ্রয়োজনে টয়লেট বা বাথরুমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন?
৬. আপনি কি আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখছেন? যা আপনাকে ভীত করছে?
৭. আপনার কানে কি ফিস ফিস করে শোনা যাচ্ছে আপনি কুফরের দিকে ধাবিত হচ্ছেন (কুফরি করছেন)
৮. আপনি কি ওযু-গোসল বা ইস্তিঞ্জার সময় এক অঙ্গ বারবার ধুচ্ছেন? তবুও মনে হচ্ছে ধোয়া হয়নি ঠিকমতো..
৯. আপনার বারবার মনে হচ্ছে যে, ওযু ভেঙ্গে যাচ্ছে? মনে হচ্ছে প্রসাবের ফোঁটা পড়ছে, অথবা সবসময় মনে হচ্ছে বায়ু বের হয়ে যাচ্ছে? কিন্তু আপনি নিশ্চিত হতে পারছেন না..
১০. আল্লাহ, রাসুল অথবা ঈমানের ব্যাপারে, ইসলামের মৌলিক ব্যাপারে অবমাননাকর মাথায় চিন্তা আসে?
১১. মুরব্বি, উস্তায বা বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে বসলে, তাদের সাথে কথা বলতে লাগলে কি আপনার ভেতর থেকে কেউ বারবার বেয়াদবির জন্য উস্কে দিতে চায়?
১২. আপনি কি কোন অদ্ভুত শব্দ কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন? কারো সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করলে ভাবছে, আপনি প্যারানয়েড বা পাগল হয়ে যাচ্ছেন!
১৩. আপনি কি নামাজের রাকাত ভুলে যাচ্ছেন? অথবা অন্য আরকানগুলোর ব্যাপারে ভুল হচ্ছে? সাজদাহ একটা দিয়েছেন না দুইটা দিয়েছেন সন্দেহ লাগছে? আর এসব কি প্রায় দিনই হচ্ছে?
১৪. নামাজে সাজদা করতে গেলে মনের মধ্যে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি কিংবা দেবদেবীর মুর্তি ভেসে উঠছে?

উত্তর যদি হয় “হ্যাঁ!”

তবে আপনি শয়তানি ওয়াসওয়াসা রোগে আক্রান্ত, খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে, এক-দুইদিন এরকম হতেই পারে। কিন্তু সবসময়ই বা দিনের পর দিন যদি আপনার মাঝে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে – “হ্যাঁ! সত্যিই আপনি শয়তানি ওয়াসওয়াসা রোগে আক্রান্ত..”

ওয়াসওয়াসা রোগের জন্য রুকইয়া

১. এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া। প্রতি নামাজের আগে-পরে, অন্যন্য ইবাদতের সময়, কোন গুনাহের জন্য ওয়াসওয়াসা অনুভব করলে এটা পড়া –
.
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ، مِنْ غَضَبِهٖ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ، وَأَنْ يَّحْضُرُوْنِ
.
2. ওয়াসওয়াসা অনুভব করলে বলা (সুরা হাদীদ, আয়াত নং ৩)

هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْم

[বিশেষতঃ ঈমান নিয়ে সংশয় উদিত হলে এটা পড়া উচিত। আর সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস পড়া]
.
3. আয়াতুল হারক (আযাব এবং জাহান্নাম সংক্রান্ত আয়াত) বেশি বেশি তিলাওয়াত করা অথবা প্রতিদিন ৩-৪বার এসবের তিলাওয়াত শোনা। ( অডিও ডাউনলোড লিংক http://bit.ly/ruqyahdownload অথবা ruqyahbd.org/download । পিডিএফ ডাউনলোড লিংক ruqyahbd.org/pdf)
.
4. নাপাক থেকে বেচে থাকা, বিশেষত প্রসাবের ছিটা থেকে বাচা। যথাসম্ভব সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা।
.
5. পুরুষ হলে জামাআতের সাথে নামাজ পড়া, মুত্তাকী পরহেজগারদের সাথে উঠাবসা করা।
.
6. সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগের আমলগুলো গুরুত্বের সাথে করা। টয়লেটে প্রবেশের দোয়া পড়া।
.
7. আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা। যথাসম্ভবত ওয়াসওয়াসা পাত্তা না দেয়া; ইগনোর করা, এমনকি মুখে বিরক্তির ভাবও প্রকাশ না করা।

বিস্তারিত সাজেশনের জন্য এই ভিডিও দেখুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=9m1iw5NGiMc

শয়তানের উঁচু স্তরের ধোঁকা “কোনো গোনাহের প্রতি আসক্তি” /এডিকশন থেকে বাঁচার উপায় কী?

[ক.]
শয়তানের সব ধোঁকা এক লেভেলের না। হাজারো এটাক স্ট্রাটেজি আছে শয়তানের! সাধারণ ওয়াসওয়াসা তো একবার পাপ করলেন, তাওবাহ ইস্তিগফার করলেন, কাহিনী শেষ। কিন্তু কিছুকিছু ওয়াসওয়াসা এডিকশনের লেভেলে চলে যায়।
এটা এডিকশন সম্পর্কে একটা লেসন বলতে পারেন। আজ এজন্য এবিষয়ে আলোচনা করছি কারণ, এই প্যাঁচে পড়লে খুব কম মানুষই বেরিয়ে আসতে পারে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আসক্ত হই, খেলা খাওয়া ঘোরাফেরা করা ইত্যাদি। আমাদের কেঁউকেঁউ অনেক খারাপ বিষয়ে আসক্ত হয়ে যায়, সেটা ছেড়ে দিতে চায় কিন্তু পারে না। এবিষয়গুলো আসলেই খুব সিরিয়াস, অনেকে বাহিরে বেশ পরহেজগার থাকেন, চেষ্টাও করেন ভালো থাকতে কিন্তু কোনো একটা আসক্তি তাকে কুরেকুরে খায়। না পারেন কারো সাথে পরামর্শ করে সমাধান চাইতে, আর না পারেন এই পাপ ছাড়তে। এজন্য একসময় বলে বসে, আমি জানি বিএফ/জিএফএর সাথে কথা বললে আমার পাপ হবে কিন্তু আমি কথা না বলে থাকতে পারছিনা যে! আমি জানি পর্ণ দেখা, মাস্টারবেশন করা অনেক বড় পাপ, কিন্তু আমি কি করবো? আমিতো আপারগ!! আমি ছাড়তে পারছিনা যে..।
এটা চেইনিং ওয়াসওয়াসার ২য় লেভেল!
.
[খ.]
এই অবস্থায় শয়তান আপনাকে একটা সার্কেলে বন্দি করে ফেলে- কোন একটা কারণে আপনার চিন্তায় পাপের ব্যাপারটা আসে, (হতে পারে সেটা কোন বাজে পিকচার দেখে, অথবা কাউকে তার প্রেমিকার হাত ধরে ঘুরতে দেখে, অথবা কারো লেখা কোনো গল্প পড়ে) ব্যাপারটা মাথায় আসার পর আপনার মনে হয় নাহ এটা করা উচিত হবে না; এটা পাপ, আপনি চেষ্টা করেন এভোইড করতে, নিজের নফসের সাথে ধ্বস্তাধস্তি করেন। এরপর নফসকে সামান্য ছাড় দেয়ার চেষ্টা করেন। (যেমনঃ এবার করার পর তাওবাহ করে নিব, এই একবারই শেষ; আর করবো না, কত পাপই তো করি দৈনিক; এ আর তেমন কি) এই পয়েন্টটাই সবচেয়ে ভয়াবহ, এই স্টেপে বাহিরের শয়তান আর ভেতরের নফসে আম্মারা ঐক্যবধ্য হয়ে আপনার বিরুদ্ধে লাগে। অবশেষে আপনি নিজের প্রবৃত্তির কাছে পরাজিত হয়ে সেই কাজে জড়িয়ে পড়েন। (জিএফ/বিএফকে ফোন দেন, অথবা পর্ণ দেখতে শুরু করেন কিংবা মাস্টারবেট…) পাপ করার পর আপনার মনে অনুশোচনা জাগে, আর আপনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন; তাওবাহ-ইস্তিগফার করেন যে, ভবিষ্যতে আর কখনো একাজ করবেন না। এর কয়েকদিনপর আবার কোনো ট্রিগারে চাপ পড়ে… আবার আপনি পাপ করেন, আবার…… (কমেন্টে দেয়া পিকচারটা দেখে নিন, পুরো ব্যাপারটা সহজে বুঝে আসবে)
এখন এথেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী?
.
[গ.]
প্রশ্নটা দেখতে ছোট হলেও দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর মাঝে এটি একটি। সম্ভবত কোনো ইসলাহি মুরব্বি / শাইখ এর সবচেয়ে ভালো সলিউশন দিতে পারবে। তবে আমরা ভাইব্রাদার হিসেবে কিছু ডিসকাস তো করতেই পারি, তাইনা?
.
১. এখানে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ হচ্ছে আপনাকে আল্লাহর কাছে সারেন্ডার করতে হবে, কারণ শয়তান অনে-ক শক্তিশালী, অনেক বুদ্ধিমান এবং অনেক জ্ঞানী। একজন মানুষ হিসেবে আমাদের মাঝে আল্লাহ যতটুকু শক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন এটা শয়তানের সাথে টেক্কা দেয়ার জন্য যথেষ্ট না, শয়তানকে পরাস্ত করার জন্য অবশ্যই আমাদের আল্লাহর সাহায্য দরকার হবে। এজন্য আল্লাহ কোরআন-এ আমাদের বারবার শিখিয়েছেন তাঁর কাছে কিভাবে আত্মসমর্পন করতে হবে, কিভাবে শয়তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতে হবে। যেমনঃ
>> বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি, হে আমার প্রভু! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সুরা মুমিনুন, আয়াত ৯৭-৯৮)
>> অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। (সুরা নাহল, ৯৮)
>> যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (হা-মীম সেজদাহ ৩৬, আল আ’রাফ ২০০)
.
প্রথম আয়াত থেকে দু’আটা মুখস্ত করে নিতে পারেন, মুনাজাতে বলবেন বেশিবেশি। এছাড়াও আপনি যেভাবে আল্লাহর কাছে চান সেভাবে নিজের মত করেই আপনার সমস্যার কথা বলুন, আল্লাহকে বলুন- আমি দূর্বল, ইয়া আল্লাহ! তুমি ছাড়া আমার কেউ সহায় নাই, তুমি ছাড়া আর কারো এই বিপদ থেকে উদ্ধার করার ক্ষমতা নাই, আল্লাহগো! তুমি আমাকে এই পাপ থেকে বাচাও (নির্দিষ্টভাবে পাপের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান) তিরমিযী মুস্তাদরাকে হাকেমে বর্ণিত কোরআন হিফযের জন্য রাসুলের শিখিয়ে দেয়া দু’আর প্রথম অংশটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম)
“allahummar’hamnee bitarkil ma’aaswi, abadammaa abqaitanee, war’hamnee an atakallafa maa laa ya’neenee, warjhuqnee husnannan najari feemaa yurdeeka ‘annee”
দুয়াটা ফাযায়েলে কোরআন এর পরিশিষ্টেও আছে, আগ্রহীরা অর্থ দেখে নিয়ে মুখস্ত করে ফেলতে পারেন, রাসুলের শিখিয়ে দেয়া দো’আর স্পিরিট-ই অন্যরকম… e-ilm এ ফাযায়েলে কোরআন এর শুধুওই অংশটার পিডিএফ আছে, কমেন্টে লিংক দিয়ে দিলাম।
২. গুনাহ থেকে বাঁচার দ্বিতীয় স্টেপ হচ্ছে ওয়াসওয়াসার ট্রিগার শনাক্ত করা এবং এসব থেকে বেচে থাকা। একটা নোটবুক রাখুন, সাধারণ কাগজের নোটবুক রাখতে পারেন, অথবা আপনার ডায়েরির কিছু পৃষ্ঠা বরাদ্দ দিতে পারেন, প্লেস্টোরে হাজার হাজার নোটবুক অ্যাপ আছে আপনার পছন্দ মত একটা ডাউনলোড করে নিন, ফোনে কোনো নোটবুক থাকলে এজন্য একটা ফোল্ডার বরাদ্দ দিন। যেকোনো একটা দরকার…
এরপর মাইগ্রেন ডায়েরির মত প্রতিটা কেসনোট লিখে রাখুন, যেমনঃ প্রতিদিন কোন সময়টাতে আপনি পাপে জড়িয়ে পড়ছেন, আজ কিভাবে আপনি পাপে জড়ালেন, পাপটা করার আগে কি ঘটনা ঘটেছিল। কোন জিনিসটার সূত্র ধরে আপনি আজ পাপটা করে ফেললেন এসব নোট রাখুন। আমার মাইগ্রেন ডায়েরিতে কয়েকটা পয়েন্ট রাখি- date n time, event summary, starting time, ending time, cause of pain, cause of cure. আপনি আপনার নিজের মত সিন্স ডায়েরী সাজিয়ে নিন, তবে খেয়াল রাখবেন এটা যেন বেহাত না হয়, চাইলে সংকেতিক শবদ ইউজ করতে পারেন, অথবা পাসওয়ার্ড ইউজ করতে পারেন।
.
এবার কিছুদিন গেলে আপনার অনেকগুলো কেস সামনে নিয়ে বসুন, আপনি অনেকগুলো কমন ট্রিগার খুঁজে পাবেন, যেমন বাজে পিকচারের দিকে দৃষ্টি যাওয়া, কোনো গল্প পড়া, কাউকে জিএফ/বিএফ এর সাথে ঘুরতে বা ফোনে কথা বলতে দেখা ইত্যাদি। এখন আপনাকে এই ট্রিগারগুলো থেকে বেচে থাকতে হবে।
এরপর থেকে এই বিষয়গুলোর কোনটা আপনার সামনে চলে আসলে আপনি সতর্ক হয়ে যান। সাথে সাথে ইস্তিগফার দুয়া পড়ুন, পর্ণ দেখতে খুব ইচ্ছা হলে দেরি না করে ওযু করে এসে কোরআন তিলাওয়াত করতে বসে যান, অথবা ওযু করে ফোনেই তিলাওয়াত করুন। কিছু নতুন এবং ভালো শখ/hobby ধরুন, যখনি এসব চিন্তা আসবে সাথে সাথে ইস্তিগফার করে অন্য কাজে মন দিন।
আর দিনের বেলা অহেতুক বসে থাকলে যদি শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়, তাহলে দিনে কখনই আপনার অহেতুক বিছানায় শুয়ে বসে থাকা উচিত হবেনা।
৩. আর তৃতীয় টনিক হচ্ছে জিকির বাড়িয়ে দিন, কোনো শাইখের পরামর্শ নিয়ে জিকির করতে পারেন। রাতে নামাজের অভ্যাস না থাকলে ধরতে চেষ্টা করেন, যদি শেষ রাতে জাগনা পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তবে ইশার সুন্নাত ও বিতরের মাঝে কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদের নিয়াতে কয়েক রাকাত পড়ে নিন আর শেষ রাতে নামাজ পড়ার তাওফিক চেয়ে দুয়া করুন।
নিশ্চয় দু’আ মুমিনের হাতিয়ার!
.
গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এভাবে নিজে পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার চেষ্টা আর আল্লাহর কাছে দু’আ করতে থাকলে ইনশা-আল্লাহ অচিরেই আপনি চেইনিং ওয়াসওয়াসার এই লেভেল থেকে বেচে যেতে পারবেন…।
———-
{ ৩য় লেভেল নিয়ে অবশিষ্ট আলোচনা এখানে https://www.facebook.com/thealmahmud/posts/1205226552900206 }
আর হ্যাঁ! আমরা আলোচনার সুবিধার্থে এই লেভেলগুলো ভাগ করে নিচ্ছি, বাদবাকি সালাফের কিতাবে এর কোনো উদাহরণ থাকলে তো নুরুন আলা নুর}

লেখাটি গুরুত্বপুর্ণ মনে হলে শেয়ার অথবা কপি-পেস্ট করতে ভুলবেন না, আর আমার এবং আমার রিলেটিভদের জন্যও আপনার দু’আয় অংশ রাখবেন, আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে শয়তানের সর্বপ্রকার ধোঁকা থেকে হিফাজত করে

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

শয়তান আর খারাপ জ্বিন কখন আপনাকে সহজে আক্রমণ করতে পারে? (সাথে এডিকশনের ৩য় স্তর সম্পর্কে কিছু কথা)

[ক]
নিজের চিন্তার সাথে বড়দের চিন্তার মিল খুঁজে পেলে খুবই ভালো লাগে। ব্যাপারটা আমি বেশ আগেই চিন্তা করেছিলাম। আমার পর্যবেক্ষণ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও এমনই সাক্ষ্য দিচ্ছিলো। এর ওপর আল্লাহর রহমতে সেদিন মিসরের এক আলেমের লেখা পড়ছিলাম, সেখানে দেখলাম উনিও এমনটাই বলেছেন।
তো শুরুতে একটা গল্প বলি। ওই শায়েখই ঘটনা শোনাচ্ছিলেন… উনার কাছে এক মহিলাকে তাঁর স্বামী নিয়ে এসেছে। ওই মহিলাকে জ্বিন সমস্যা করছিলো, উনি কোরআন এর আয়াত তিলাওয়াত করলে দুষ্ট জ্বিনটা ওই মহিলার ওপর আসে। তখন উনি বললেন যে, তুমি এই মহিলাকে আর কষ্ট দিওনা, একে ছেড়ে চলে যাও। জ্বিন বলছে যাবোনা! 
শায়খ বললেন, তাহলে কোরআনের আয়াত দ্বারা তোকে জ্বালিয়ে দিব!
– আচ্ছা চলে যাবো, তবে আপনার ভেতর ঢুঁকবো!!
— আচ্ছা পারলে ঢোঁক!
এবার জ্বিন চলে গেলো, একটুপর আবার আসলো, এবার কাঁদতে লাগলো!
শায়েখ বললেন, কী হয়েছে?
– আমি আপনার ভেতর ঢুকতে পারবো না
— কেন?
– কারণ আপনি সকালে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হ্‌ামদ, ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর” এটা ১০০বার পড়েছেন তাই!
.
শায়খ ঘটনা বর্ণনা করার সময় বলছিলেন, আমার তখন রাসূল সা. এর হাদীস মনে পড়লো। রাসূল সা. সত্যই বলেছেন- যে সকালে ‘ওই’ দু’আ ১০০বার পড়বে সে ১০টি গোলাম আযাদ করার ফযিলত পাবে, ১০০টি সওয়াব পাবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ হয়ে যাবে! আর সারাদিন সে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকবে। আর ওইদিন তাঁর চেয়ে ফযিলতপ্রাপ্ত কেউ হবেনা, তবে কেউ যদি তাঁর চেয়ে বেশি পড়ে সে ব্যতীত!
.
[খ]
তো আমি যে বিষয়ে চিন্তার মিলের কথা বলছিলাম, খারাপ জ্বিন সর্বাবস্থায় আপনার ওপর আক্রমণ করতে পারেনা। শয়তানের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। সবসময় আপনাকে বশ করতে পারেনা। তবে আক্রান্ত হয়ে গেলে হইছে কাম…। আমার কথা বাদ দেই। শায়খ বলছিলেন খবিস জ্বিন ৪ অবস্থায় মানুষের ভেতর ঢুকতে পারে।
১. খুব ভীত অবস্থায় ২. খুব রাগান্বিত অবস্থায় ৩. খুব উদাসীন অবস্থায় ৪. কুপ্রবৃত্তির গোলামী করা অবস্থায় (মানে যখন কোনো খারাপ কাজ করছে)
তো এসব হচ্ছে খারাপ জ্বিন মানুষের ওপর আসর করার অবস্থা। এ অবস্থায় নাকি জ্বিনের অনেক কষ্ট হয়, বিশেষত কেউ যদি দু’আ কালাম পড়ে, আর অপরদিকে জ্বিনকে যদি কোনো যাদুকর জোর করে পাঠায় তাহলে তো বেচারা জ্বিনের জান খারাপ। এদিকেও বিপদ, ওদিকেও বিপদ। যাহোক টপিক ছেড়ে আমরা অনেক দূরে এসেছি।
সারকথা হচ্ছে, এসব থেকে আমরা বুঝতে পারছি হাদিসে বর্ণিত সকালসন্ধ্যার দু’আগুলো পড়ার অভ্যাস করা উচিৎ আর গাফেল না হওয়া উচিৎ… এতে খারাপরা সুযোগ পেয়ে যায়।
.
[গ]
এডিকশনের তৃতীয় স্তরের ব্যাপারে আমাদের কিছু কথা বাকি ছিলো সেদিন। তৃতীয় স্তরটা এরকম, আপনি যখন বিভিন্নভাবে গুনাহকে এভোইড করতে অভ্যস্ত হয়ে যান, তখন শয়তান আপনার দূর্বল সময়ের অপেক্ষায় থাকে।
যেমন, একজন তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলো। বেচারা পর্ণ স্টোরি এডিক্ট। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুক, হিদায়াত দিক। সে সবসময় চেষ্টা করে বেচে থাকতে। গত পর্বে বলা আমার ওই টিপসগুলোও নাকি ফলো করতে চেষ্টা করে। তো কখনো কখনো তাও হয়না। যেমন, সে ভালো কোনো বই বা লেখা পড়ছে, কখনো মাত্র একটা ‘ইয়ের’ ইঙ্গিতসূচক শব্দও নাকি তাঁকে আকড়ে ধরে, মাথা থেকে সরাতেই পারেনা। শেষে শয়তানের কাছে হার মেনে কখনো বাজে ছবি দেখতে বসে, কখনো খারাপ গল্প… কখনো নাকি সকালে ঘুম থেকে উঠছে “হালকা ঘুম হালকা জাগ্রত এমন অবস্থায় এসব ধোকা ওর মাথায় আসে”, আর তাড়াতে পারেনা। শেষে…
আমি উনাকে তেমন কোনো সল্যুশন দিতে পারিনি, বললাম জানিনা ভাই কি করা উচিৎ 
.
এসএসসিতে আমার ব্যাচমেট ছিল একটা ছেলে, আমরা একসাথে ফিজিক্স কেমিস্ট্রি প্রাইভেট পরতাম। সে আমার সাথে অনেক কিছু শেয়ার করতো, আল্লাহ তাকেও হিফাজত করুক, হিদায়াতের পথে রাখুক। সে নাকি দিনের বেলায় বিছানায় শুতে পারেনা। বিছানায় শুইলেই আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে। একেও কোনো সল্যুশন দিতে পারিনি। তবুও বলছিলাম, মাথাকে ফাঁকা রাখা যাবেনা। চেষ্টা করতে হবে কিছুনা কিছুতে ব্যস্ত থাকতে।
সত্যি বলতে আমার আসলেই তেমন কোনো সল্যুশন জানা ছিলনা, এখনও নাই। তবে কেউ জিজ্ঞেস করলে হয়তো উপরের ওই হাদিসের ওপর আমল করতে আর দু’আ করতে বলবো। আর কী?
আপনাদের কোনো সমাধান জানা থাকলে শেয়ার করবেন প্লিজ…

অনাহূত ভাবনা (ওয়াসওয়াসা রোগ) ও তার প্রতিকার

১. অনাহূত চিন্তা-ভাবনার চিকিৎসা হল ভ্রুক্ষেপ না করা
হযরত থানভী রাহ. এক মালফূযে একটি ব্যাপক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। মানুষের মনে বিভিন্ন মন্দ ভাবনা আসে। কখনও এমনসব অবাঞ্ছিত চিন্তাও তার মনে উদয় হয় যে, ঈমান সম্পর্কেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে যায়। সম্ভবত এমন কোনো মানুষ নেই, যার মনে এ ধরনের চিন্তা কখনই আসে না। সবার মনেই তা আসে এবং এর কারণে মানুষ পেরেশান হয়। বিশেষত যে ব্যক্তি দ্বীনের পথে চলার ইচ্ছা করেছে এবং চলতে আরম্ভ করেছে তার মনে এ ধরনের চিন্তা খুব বেশি আসে।
অন্যদিকে দ্বীনদারীর দিকে যাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সারা দিন দুনিয়াবী কাজকর্মে মগ্ন, গুনাহর কাজে লিপ্ত তাদের মনে এই সব চিন্তা আসে না। এগুলো তাদের মনেই আসে যারা আল্লাহর রাস্তায় চলতে আরম্ভ করেছে। কোনো কোনো চিন্তা তো এতই ভয়াবহ যে, মানুষ তার ঈমানের ব্যাপারেও আশংকায় পড়ে যায়। কখনও আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে প্রশ্ন-সংশয় আসে, কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে, কখনও কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফ সম্পর্কে, কখনও বা শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে। এ সময় সঠিক নির্দেশনা না পেলে গোমরাহীর মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।
ওই দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না
হযরত রাহ. বলেন, এ সমস্যার সমাধান হল ভ্রুক্ষেপহীনতা। মন্দ চিন্তা যদি আসে তবে আসুক। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। এই চিন্তাই করবেন না যে, কী চিন্তা আসছে আর কী যাচ্ছে।
২. এই সব চিন্তাও ঈমানের আলামত
এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই সব অবাঞ্ছিত চিন্তাও ঈমানের আলামত। হাদীস শরীফে এসেছে, এক সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসূল! অনেক সময় আমার মনে এমন সব কথা আসে, যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াও আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আমি কী করতে পারি? দেখুন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী জওয়াব দিলেন! তিনি বললেন-‘এটা তো খাঁটি ঈমানের আলামত।’ (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাবু বয়ানিল ওয়াসওয়াসা ফিল ঈমান)
অর্থাৎ এই সব অবাঞ্ছিত চিন্তা তো ঈমানের চিহ্ন। কেননা, এসব চিন্তা শুধু মুমিনের মনেই আসে, পাপাচারীর মনে আসে না।
চোর ওই ঘরেই সিঁধ কাটে যাতে ধন-সম্পদ আছে
হযরত হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রাহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, চোর ওই গেরস্তের বাড়িতেই যায় যার মালদৌলত আছে। যে ঘরে কিছু নেই সেখানে চোর কেন যাবে? তো এই চোরও (শয়তান) ওই অন্তরেই কুমন্ত্রণা দেয় যাতে ঈমানের দৌলত আছে। অন্তরে যদি আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান না থাকত তাহলে শয়তানের সেখানে যাওয়ার ও কুমন্ত্রণা দেওয়ার প্রয়োজনই হত না। এজন্য এইসব অনাহূত চিন্তা যখন মনে আসে তো প্রথম কর্তব্য হল আল্লাহর শোকর গোযারী করা যে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার অন্তরে ঈমান আছে। তা না হলে এই সব চিন্তা আমার মনে সৃষ্টি হত না।
৩. মন্দ চিন্তায় উদ্বিগ্ন হওয়া ঈমানের আলামত
এটা ঈমানের লক্ষণ এই ভাবেও যে, আপনার মনে এই সব কথা আসলে আপনি উদ্বিগ্ন হন। আপনার কাছে এগুলো মন্দ চিন্তা বলে মনে হয়। ভেবে দেখুন, অন্তরে যদি ঈমান না থাকত তাহলে কি আপনি উদ্বিগ্ন হতেন না কিংবা একে মন্দ বলে মনে করতেন? বোঝা গেল যে, অন্তরে ঈমানের দৌলত রয়েছে।
মন্দ চিন্তা কেন আসে
কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে সান্তনাবাণী শুনিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে- (তরজমা) আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও। -সূরা আ‘রাফ ২০০
অর্থাৎ শয়তানের পক্ষ হতে যে সব মন্দ ভাবনা সৃষ্টি হয় এগুলো প্রকৃতপক্ষে শয়তানের কুমন্ত্রণা। এভাবে সে মুমিনদেরকে পেরেশানীতে ফেলতে চায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, এই কুমন্ত্রণা মুমিনদের চুল পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া। এজন্য এইসব অনাহূত ভাবনা যখন আপনাকে বিরক্ত করে তখন স্মরণ করুন যে, এটা ঈমানের আলামত। শয়তান তার উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। তাকে বলে দিন, ঠিক আছে তুমি তোমারা মতো চেষ্টা কর, আমিও আমার মতো চেষ্টা করছি। এরপর নিজ কাজে মগ্ন হয়ে যান। এদিকে বেশি মনোযোগ দিবেন না। কেননা, এইসব অবাঞ্ছিত চিন্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে তা দূর করা যায় এ চিন্তায় পড়ে গেলে আপনি এখানেই আটকা পড়ে যাবেন। সামনে অগ্রসর হওয়া আর সম্ভব হবে না। এভাবে শয়তানের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাবে।
৪. একটি দৃষ্টান্ত
হযরত থানভী রাহ. একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিষয়টা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর, কারো কাছে বাদশাহের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে যে, অমুক সময় দরবারে উপস্থিত হবে। তোমাকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে এবং পুরষ্কৃত করা হবে। আমন্ত্রিত ব্যক্তি প্রস্ত্তত হয়ে দরবারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল। পথিমধ্যে দুটি কুকুর রাস্তার দুই পার্শ্বে দাড়িয়ে ঘেউ ঘেউ করতে লাগল। এখন তার কী করা উচিত? যথাসময়ে দরবারে পৌঁছার জন্য কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে দ্রুত পথ চলা উচিত, না ওই কুকুরগুলোর চিৎকার বন্ধ করার চেষ্টায় লেগে যাওয়া উচিত? বুদ্ধিমানের কাজ কী হবে? যদি সে কুকুর তাড়ানোর জন্য সেগুলোর পিছনে পিছনে ছুটতে থাকে তাহলে তো সময়মতো দরবারে পৌঁছা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এজন্য বুদ্ধিমানের কাজ এটাই যে, কুকুরগুলো চিৎকার করতে থাকুক, তুমি যেখানে যেতে মনস্থ করেছ সেখানে কীভাবে দ্রুত পৌঁছা যায় সেই চিন্তা কর। তুমি যদি কুকুরের চিৎকার থামানোর চিন্তায় পড়ে যাও তাহলে দরবারে পৌঁছার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
একইভাবে তোমরা যে ইবাদত করছ এটা হল আল্লাহর দরবারে উপস্থিতি। এই সৌভাগ্যের মুহূর্তে যেসব বিক্ষিপ্ত ভাবনা তোমার অন্তরে সৃষ্টি হচ্ছে এগুলো হল কুকুরের চিৎকার। যদি তোমরা সেদিকে মনোযোগ দাও এবং তা দূর করার চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড় তাহলে শয়তানের উদ্দেশ্য হাসিল হবে আর তোমরা সাক্ষাতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হবে।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

৫. নিজ কাজে মশগুল থাকুন

এজন্য এই সমস্যার সমাধান হল, ভ্রুক্ষেপ না করা। অর্থাৎ কী চিন্তা আসল, কী চিন্তা গেল-তা না ভেবে নিজের কাজে মশগুল থাকুন। যেমন এখন আপনার নামায পড়ার সময়, আপনার মনে যে ভাবনাই আসুক আপনি নামাযে মশগুল হয়ে যান। আপনার এখন তেলাওয়াতের সময়, মনে যত চিন্তাই আসুক আপনি তেলাওয়াতে মশগুল হয়ে যান। এভাবে অন্য কোনো কাজের সময় হয়ে থাকলে তাতে লেগে যান। মোটকথা, এদেরকে আপনার নির্ধারিত কাজে প্রতিবন্ধক হওয়ার সুযোগ দিবেন না। এটাই সমাধান। তা না করে আপনি যদি চিন্তা দূর করার চিন্তায় পড়ে যান তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না।

৬. আরেকটি পদ্ধতি

আমার ওয়ালিদ ছাহেব (মুফতি শফী রহ.) বলতেন, যদি কোথাও অন্ধকার হয়ে আসে তবে তার সমাধান এই নয় যে, তুমি লাঠি নিয়ে অন্ধকার তাড়াতে নেমে পড়বে। কেননা, এভাবে অন্ধকার দূর হবে না। অন্ধকার দূর করার পন্থা এই যে, তুমি একটি বাতি জ্বালিয়ে দাও। বাতির আলো যেখানে পৌঁছবে সেখান থেকে অন্ধকার বিদায় নিবে।
মানুষের মনে শয়তানের পক্ষ থেকে যেসব কুচিন্তা, প্রশ্ন-সংশয় সৃষ্টি হয় সেগুলোও এক ধরনের অন্ধকার। একে তাড়ানোর চেষ্টায় লেগে যাওয়া সমাধান নয়; বরং তোমার মন-মস্তিষ্কে আল্লাহর স্মরণের বাতি জ্বালিয়ে দাও। বন্দেগী ও আনুগত্যের চেরাগ জ্বালিয়ে দাও। দেখবে আঁধার দূর হয়ে গেছে।
৭. অন্য চিন্তায় মগ্ন হও
এ ধরনের চিন্তা যদি বেশি আসে তাহলে এর সমাধান হযরত থানভী রাহ. এভাবে দিয়েছেন যে, এ ক্ষেত্রেও তা দূর করার চিন্তা ঠিক নয়। কেননা, যতই দূর করার চেষ্টা করবে ততই তা জোরদার হবে। এ সময় অন্য কাজে মনোনিবেশ কর কিংবা ভিন্ন চিন্তায় মশগুল হও।
– দর্শন শাস্ত্রে আছে-মানুষের চিন্তা এক মুহূর্তে দুই বিষয়ে নিবদ্ধ হয় না।
তুমি যদি নিজেকে ভিন্ন কাজে বা ভিন্ন চিন্তায় মশগুল কর তাহলে প্রথম চিন্তা এমনিই দূর হয়ে যাবে।
– চিন্তা দূর করার কোনো অযীফা নেই
উপরের আলোচনায় হযরত রাহ. এই কথাটাই বলেছেন যে, ‘অনাহূত ভাবনার সমাধান ভ্রুক্ষেপহীনতা ছাড়া আর কিছু নয়।’ অর্থাৎ এর অন্য কোনো সমাধান নেই। লোকেরা আবেদন করে যে,নানা ধরনের ভাবনা মনে আসে, কোনো অযীফা দিন, যাতে এগুলো দূর হয়। তো হযরত বলছেন যে, এমন কোনো অযীফা নেই। এর একমাত্র সমাধান হল চিন্তা তাড়ানোর চিন্তা না করা।

৮. ঔষধ উদ্দেশ্য নয়, সুস্থতা উদ্দেশ্য তবে

এরপর একটি সূক্ষ্ম কথা বলা হয়েছে। তা এই যে, ‘ভ্রুক্ষেপহীনতাকে মাধ্যম মনে করবে না, একেই মূল কাজ বলে মনে করবে। ভ্রুক্ষেপহীনতার দ্বারা চিন্তা-খেয়াল দূর হোক বা না হোক।’ অর্থাৎ উপরে যে বলা হয়েছে ভ্রুক্ষেপহীনতাই চিন্তা দূর করার উপায়। এর অর্থ এই নয় যে, ভ্রুক্ষেপহীনতা ঔষধের মতো নিছক উপায় মাত্র। দেখুন, মানুষ যখন কোনো রোগের জন্য ঔষধ ব্যবহার করে তখন তার মূল উদ্দেশ্য থাকে আরোগ্য লাভ করা। যেহেতু ঔষধ সেবন আরোগ্য লাভের উপায় তাই অবশ্যই এর গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু তার গুরুত্ব আরোগ্য লাভের উপায় হিসেবেই, উদ্দেশ্য হিসেবে নয়। মূল উদ্দেশ্য তো আরোগ্য লাভ করা। এজন্য ঔষধ সেবনের পর মানুষ সুস্থতার অপেক্ষায় থাকে। একদিন, দুইদিন, তিন দিন ঔষধ সেবনের পরও যদি সুফল না আসে তাহলে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়।

৯. এই সমাধান নিছক ঔষধ নয়

হযরত রাহ. বলছেন যে, অনাহূত ভাবনা দূর করার জন্য যে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ সে দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা-এটাকে নিছক ঔষধ মনে করবে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থা প্রয়োগের পর চিন্তা দূর হল কি হল না এই অপেক্ষায় না থেকে নিজ কাজে মশগুল থাকবে। মনে রাখতে হবে যে, এটা নিছক মাধ্যম নয়, এটাই মূল কাজ। অতএব একদিন, দুইদিন, তিন দিন এই পন্থা অনুসরণের পরও যদি দেখা যায়, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না তবুও তা পরিত্যাগ করা যাবে না। চিন্তার সমস্যায় সেদিকে মনোযোগ না দেওয়াই মূল কাজ। অতএব জীবনভর অবাঞ্ছিত চিন্তা থেকে নিষ্কৃতি না পেলেও এই পন্থাই অনুসরণ করে যেতে হবে। চিন্তা আসুক আপনি অন্য দিকে মনোযোগ দিন। আবার আসুক, আবার অন্য চিন্তায়, অন্য কাজে ব্যস্ত হোন। এটাই সমাধান এবং এটাই করণীয়।

১০. মানসিক প্রশান্তি উদ্দেশ্য নয়

এরপর হযরত রাহ. আরেকটি সূক্ষ্ম কথা বলেছেন। তা এই যে, ‘মানসিক প্রশান্তি লাভকে মূল লক্ষ বানাবে না।’ অর্থাৎ এই সব ভাবনা দূর হোক-এটা আপনি কেন কামনা করছেন? মানসিক প্রশান্তির জন্য? এই সব চিন্তা সর্বদা আপনার মন-মস্তিষ্ককে অস্থির করে রাখে, তাই স্থিরতা ও প্রশান্তির জন্য তা থেকে নিস্তার পাওয়া দরকার? এই সম্পর্কে হযরত রাহ.-এর বক্তব্য এই যে, প্রশান্তি লাভকে উদ্দেশ্য বানোনো যাবে না; বরং উদ্দেশ্য এই হবে যে, ওইসব ভাবনা থেকে মনকে মুক্ত করে প্রয়োজনীয় কাজে মনোনিবেশ কর। যদি প্রশান্তি লাভই কাম্য হয় তবে তো মনের চাহিদা পূরণই উদ্দেশ্য হল।

১১. আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকুন

ভ্রুক্ষেপ না করা সত্ত্বেও যদি চিন্তার উৎপাত বন্ধ না হয় তাহলে এই কষ্টের উপরই সন্তুষ্ট থাকুন। কেননা, আপনার সম্পর্কে এটাই আল্লাহর ফয়সালা। এটাই আপনার তাকদীর। আল্লাহ যদি চান, আমি জীবনভর এই অবস্থায় থাকি তবে তো আমার অসন্তুষ্ট হওয়ার উপায় নেই। আমার এই কষ্টভোগই যদি আল্লাহর মর্জি হয় তবে এতেই আমি সন্তুষ্ট। কবি বলেন-
‘না মিলন উত্তম না বিচ্ছেদ। প্রিয় যাতে সন্তুষ্ট, উত্তম তাই।’
আল্লাহ যে হালতে রাখেন তাই আমার জন্য ভালো। অতএব চিন্তা-ভাবনায় জর্জরিত হয়েও আমি খুশি। কবির ভাষায় : তোমার এই এখতিয়ার নেই যে, পরিবেশিত শরবত সম্পর্কে মন্তব্য কর-তা স্বচ্ছ কি ঘোলা; বরং সাকী তোমার পেয়ালায় যা কিছু ঢেলে দিয়েছে তাই তার করুণা।
তাৎপর্য বুঝে আসুক বা না আসুক, কারণ পরিষ্কার হোক বা না হোক আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্বাচন করেছেন তা-ই তাঁর করুণা।
১২. তোমার জন্য এটাই মুনাসিব
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, অমুকের তো এই সমস্যা নেই। সে কত শান্তিতে আছে। অমুক শায়খের সঙ্গে তার সম্পর্ক! আর আমি এই সব অনাহূত ভাবনায় জর্জরিত। এই হালতের জন্য কি আমিই উপযুক্ত ছিলাম? এই অস্থিরতার অনলে আমাকেই কেন দগ্ধ হতে হবে?
মনে রাখতে হবে যে, এটা অস্থিরতা ও ধৈর্য্যহীনতা। ভাই, তোমার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে এটাই তোমার জন্য উপযোগী আর তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা তার জন্য উপযোগী। এটাও তাঁর দান, ওইটাও তাঁর দান। তার জন্য ওই অবস্থাটা ভালো, তোমার জন্য তোমার অবস্থা। তুমি যদি এই কষ্টের উপর ধৈর্য্য ধারণ করতে পার তবে আল্লাহর কাছে তোমার কি সমুচ্চ মর্তবা হাসিল হবে তুমি কি তা কল্পনাও করতে পার? অতএব অন্যের দিকে তাকাবে না। তুমি যা পেয়েছ তা তোমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
আমার পেয়ালায় রয়েছে পানশালার সারাৎসার
আমাদের হযরত ডা. আবদুল হাই ছাহেব রা. একটা পংক্তি পড়তেন-
যার অর্থ : কে কী পেল, কতটা পেল তাতে আমার কী আসে যায়। আমার পেয়ালায় আল্লাহ যা দিয়েছেন আমার জন্য তো এটাই পানশালার সারবস্তু।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

১৩. সবরের আলাদা ছওয়াব রয়েছে

মোটকথা, নিজের দায়িত্ব পালন করতে থাকুন। আর যেসব ভাবনায় আপনার ইখতিয়ার নেই তাতে মনোযোগ দিয়েন না। আর এ কারণে যে কষ্ট হয় তার সম্পর্কে ভাবুন যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এটা তাঁরই ফয়সালা। তাকদীর। অতএব আমি এতে সন্তুষ্ট। এর ফলাফল এই হবে যে, এই সব চিন্তা আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না; বরং কষ্টের উপর সবর করার কারণে ছওয়াব পাওয়া যাবে এবং আল্লাহর কাছে মর্তবা বুলন্দ হবে। অতএব এতে সুফলই সুফল, ক্ষতি কিছুমাত্রও নেই।
আপনি যখন ভাববেন যে, আল্লাহ আমার জন্য যা ফয়সালা করেছেন তাতেই আমি রাজি এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট তো ‘রিযা বিলকাযা’ (আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার) ছওয়াব আপনার আমল নামায় যুক্ত হবে। এছাড়া সবরের ছওয়াব তো আছেই।

১৪. দুনিয়াতে তো কষ্ট হয়েই থাকে

দুনিয়াতে মানুষ যতই সাধ্য-সাধনা করুক, যতই যে বাদশাহ-আমীর হোক, পূর্ণ শান্তি কেউ পায় না। কেননা, দুনিয়া পূর্ণ শান্তির স্থানই নয়।
আল্লাহ তাআলা তিনটি জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এক জগত, যেখানে শুধু শান্তি আর শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা-পেরেশানী কিছুই নেই। এটা হল জান্নাত। দ্বিতীয় জগত যেখানে শুধু অশান্তি আর অশান্তি, শান্তির লেশমাত্রও নেই। এই জগত জাহান্নাম। আর তৃতীয় জগত হল দুনিয়া, যাতে আমাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। এতে শান্তি যেমন আছে তেমনি অশান্তিও আছে। সুখের সঙ্গে দুঃখ আছে। এখানে কোনো আনন্দই নিরঙ্কুশ নয়, বিপদের কাঁটা তার সঙ্গে যুক্ত আছে। অতএব কেউ যদি কামনা করে, আমি শুধু শান্তিই পাব, দুঃখ ও পেরেশানী যেন আমাকে স্পর্শ না করে তবে তা কখনও পূরণ হবে না। যত বড় পুঁজিপতি হোক, শাসক হোক, সম্পদশালী হোক, জ্ঞানী-গুণী হোক, আলিম-ফাযিল হোক তাকে জিজ্ঞাসা করুন, কখনোই কি কোনো কষ্ট তোমার হয়নি? তার পক্ষে না বলা কখনো সম্ভব হবে না। অবশ্যই কোনো না কোনো কষ্টের স্বাদ তাকে আস্বাদন করতে হয়েছে।
অতএব এই দুনিয়াতে কষ্ট ভোগ করতেই হবে। এখন ইচ্ছা হলে এতে সবরও করা যায়, ইচ্ছে হলে বেছবরীও করা যায়। বান্দা যদি আল্লাহর ফয়সালায় এই বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে যে, যে কষ্ট তাঁর পক্ষ থেকে এসেছে আমি তাতে রাজি। তাহলে সে আল্লাহ তাআলার শুভ সংবাদকে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ইরশাদ হয়েছে- (তরজমা) ‘নিশ্চয়ই সবরকারীদেরকে দেওয়া হবে অগণিত বিনিময়।’এজন্য এই পৃথিবীতে যত শান্তি ‘রিযা বিলকাযা’র দ্বারা পাওয়া যায় তত আর কোনোভাবেই পাওয়া যায় না।
হযরত বাহলূল মাজযূব এর ঘটনা
হযরত বাহলূল মাজযূব রাহ.কে কেউ জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন? তিনি বললেন, খুব ভালো আছি। অত্যন্ত শান্তিতে আছি। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, কেমন শান্তি? তিনি বললেন, আরে ভাই, ওই লোকের শান্তির পরিমাপ কে করতে পারে যার ইচ্ছার বিপরীতে কিছুই পৃথিবীতে হয় না! জগতের সকল বিষয় তো আমার ইচ্ছা মাফিক হচ্ছে! লোকেরা বলল, জনাব, পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এমন কেউ আসেনি, যার ইচ্ছে মাফিক সবকিছু হয়েছে। এমনকি নবীগণেরও ইচ্ছা-বিরোধী অনেক কিছু ঘটেছে। আপনার এমন কোন মাকাম হাসিল হয়ে গেল যে, আপনার ইচ্ছে বিরোধী কোনো কিছুই ঘটে না? তিনি বললেন, প্রকৃত বিষয় এই যে, আমি নিজের ইচ্ছাকে মাওলার ইচ্ছায় বিলীন করে দিয়েছি। তাঁর যা ইচ্ছা সেটাই আমার ইচ্ছা। তিনি যাতে খুশি আমিও তাতে খুশি। আর যেহেতু বিশ্বজগতে কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বিপরীতে ঘটে না তাহলে আমারও ইচ্ছার বিরোধী কোনো কিছু নেই। সমর্পণের এই শান্তি নিজ ফযল ও করমে আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করেছেন।

১৫. ‘রিযা বিলকাযা’ তে রয়েছে প্রশান্তি

মোটকথা, রিযা বিলকাযার চেয়ে বড় শান্তির উপায় আর নেই। এখন বান্দা এই পন্থায় শান্তি লাভ করতে পারে কিংবা শান্তির অন্বেষায় জীবনভর ছটফট করতে পারে।
হযরত রাহ.-এর উপরোক্ত মালফুযের সারকথা এই যে, ভ্রুক্ষেপহীনতা সত্ত্বেও যদি এই সব অনাহুত ভাবনা দূর না হয়; বরং যথারীতি তা আসতেই থাকে তাহলেও ভীত ও পেরেশান হওয়ার কারণ নেই। এক্ষেত্রে এই ভেবে হালতের উপর সন্তুষ্ট থাকাই কাম্য যে, আল্লাহ যখন আমার জন্য এটাই পছন্দ করেছেন তো আমি তাতে খুশী। তবে ওই সব ভাবনা মোতাবেক কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
আল্লাহ তাআলা আমাকে এবং আপনাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।——-
মূল প্রবন্ধ : মুফতি তকী উছমানী
অনুবাদ : মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ
মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারী ২০০৯

ওয়াসওয়াসাকে জয় করুন | লিখেছেনঃ উম্মে আব্দুল্লাহ

গতকাল সকালে এক ছোট আপুর সাথে কথা হচ্ছিলো, কথা প্রসংগে ওয়াসওয়াসার কথা উঠলো। তাই মনে হলো এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করা দরকার।
সত্যি বলতে এই সমস্যাটা আমি নিজেও ফেস করি। আমার মনে হয় প্রায় প্রতিটা মানুষই এমন সমস্যা কমবেশি ফেস করেছেন। কারন শয়তানের কাজই হচ্ছে মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়া। আর যার যা কাজ তা তো সে করবেই। এখন কথা হচ্ছে আপনি শয়তানের ফাঁদে পা দিচ্ছেন নাকি ইগনোর করছেন।

কারন শয়তানের কাজ যেমন ওয়াসওয়াসা দেয়া তেমনি আপনার কাজ হচ্ছে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া। আপনি এই সমস্যাকে যত বেশি গুরুত্ব দিবেন, এটা তত বেশি জেঁকে বসবে।
.
আমার বাবাকে দেখি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেন। বুঝতে পারি উনিও ভুক্তভোগী। অনেকেই বলেন উনার শুচিবায়ু রোগ আছে। কিন্তু আমরা কখনো উনাকে বলিনি এইটা নিয়ে আবার কেউ বললেও সেইটাকে ইগনোর করেছি। উনিও এইটাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ উনাকে এইজন্য কোন ডাক্তার বা বিশেষ কোন তদবির করা লাগেনি।

শুধু বাবা না আমি নিজেও বেশ বাজে রকমের ওয়াসওয়াসা ফেস করি অন্যদের ব্যাপারে। কারো সাথে একটু ভালো সম্পর্ক হলে বা কারো প্রতি ভালোলাগা তৈরি হলে তার সম্পর্কে বেশ খারাপ চিন্তা আসে।

আবার কারো সাথে সামনাসামনি কথা বলতে গেলেও তার একটা বাজে ইমেজ তৈরি হয় চোখের সামনে। মনে হয় উনি যা বলেন বা করেন সবই ফেইক।
যেহেতু আমি বুঝি যে এইটা নিছকই শয়তানের কুমন্ত্রণা তাই ইগনোর করার চেষ্টা করি। খুব বেশি ভালো সম্পর্ক না থাকলে চেষ্টা করি তার সাথে ভালো একটু সম্পর্ক তৈরি করার যেন তার সম্পর্কে ভুল ধারনাটা ভেঙ্গে যায়। আর ভালো সম্পর্ক থাকলে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি। যেন সে টের না পায় যে আমার ভেতরে কি চলছে।
আর ফেবু রিলেটেড হলে তাকে একটা সালাম পাঠাই। ইতিমধ্যে অনেকে পেয়েও গেছেন।

পরে অবশ্য সময় সুযোগ বুঝে বলে দেই কথাগুলো। নাহলে ভেতরে একধরনের খারাপ লাগা কাজ করে। আর বলার পরে অনেক ভালো লাগে আলহামদুলিল্লাহ।
.
মজার বিষয় হচ্ছে আমিও ভাবলাম এমন চিন্তা শুধু আমার মনে আসে। কিন্তু পরে দেখলাম অনেক দ্বীনি ভাই বোন আছেন যারা এই সমস্যাগুলো ফেইস করেন।
সেদিন খুব পছন্দের এবং ভালোবাসার এক আপু বলছিলেন আমার মত তিনিও এমন সমস্যায় ভুগছেন। কত যে উলটাপালটা চিন্তা আসে।

আব্দুল্লাহর আবার নতুন কারো সাথে কথা বলার সময় তাকে মারতে ইচ্ছে করে।। আলহামদুলিল্লাহ আজ অবধি কাউকে হার্ট করেনি। কারন সেও এই ধরনের সমস্যাগুলোকে ইগনোর করে।।

.
যাই হোক একটা বিষয় খেয়াল করেছি শয়তান দ্বীনি ভাই-বোনদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করার চেষ্টায় থাকে সবসময়। কারন এতে ফিতনা তৈরি হবে। দ্বীনি সার্কেলের বাইরে এই ব্যাপারগুলো তেমন গুরুত্ববহন করেনা। কিন্তু দ্বীনি সার্কেলের সবাই একে অন্যের হক্বের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন, আর শয়তান কখনোই চাইবেনা সবাই আল্লাহ তা’আলার হুকুম মেনে চলুক। তাই নানা ধরনের ফাঁদ পাততে থাকে। ফলে তৈরি হয় বিভিন্ন ফিতনা-ফ্যাসাদ।

যা বিগতকয়েকমাস ধরে প্রকট আকার ধারন করেছে।।
.
অথচ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে বলছেন। তিনি বলেছেন, “পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। একে অন্যের দোষ তালাশে লিপ্ত থেকো না। পরস্পরে শত্রুতা পোষণ করোনা। হিংসা করো না। সকলে আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও।”
_____ বুখারী
.
যাহোক, এইবার আসি ওয়াসওয়াসা প্রসঙ্গে,

ওয়াসওয়াসার কথাটার পরিবর্তে অনেকেই মেডিকেলীয় টার্ম ব্যবহার করেন। অনেকে বলেন শুচিবায়ু, অনেকে বলেন সংশয়রোগ আবার অনেকে বলেন OCD(obsessive compulsive disorder).
তা যে নামই ব্যবহার করেন না কেন সমস্যাগুলো একই…

এই রোগের প্রধান সমস্যা হচ্ছে রোগীর মাথায় নানা ধরনের বিব্রতকর চিন্তা আসে। কখনো সাধারণ একটা বিষয় মাথায় ঢুকে ঘুরতেই থাকে, চাইলেও এই চিন্তা থেকে বের হতে পারেন না। আর এটা থেকে বের হয়ে আসার জন্য নানা ধরনের অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যেমন একই কাজ বারবার করা, যেকোন বিষয়ে খুব বেশি সন্দেহ বা বাড়াবাড়ি করা, গোসলের পরেও পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহে ভুগা। টয়লেটে গেলে নাপাকি নিয়ে সন্দেহের ফলে মাত্রাধিক সময় লাগানো।অন্যের ব্যাপারে সন্দেহ ও বাজে ধারনা তৈরি হওয়া, ইত্যাদি…
.
এগুলো সবই ওয়াসওয়াসার অংশবিশেষ,
অনেকে আবার ধর্মীয় নানা বিষয় যেমন-স্মৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব, নামাজ-কালাম সহ নানা বিষয়েও সন্দেহ তৈরি হয়….
এগুলো শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই না…
তাই সর্বপ্রথম যেটা দরকার তা হলো শয়তানকে পরাজিত করার তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর আল্লাহ তা’আলার উপর তাওয়াক্কুল।।
.
অনেকে বলেন, আমি নামাজ-কালাম পড়ি পর্দা করি তবুও কেন ওয়াসওয়াসায় ভুগি?? সবসময় হীনমন্নতায় ভুগেন।
সে ক্ষেত্রে একটা কথাই বলবো এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নাই। নিজেকে ছোট ভাবারও কিছু নাই।। ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে।

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্নিত আছে যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী তাঁর নিকট এসে বললেন, “আমরা অনেক সময় আমরা নিজেদের অন্তরে এমন কথা ও কল্পনা অনুভব করি যা মুখে আনাও গুরুতর অন্যায় মনে করি। রসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন: বাস্তবিকই তোমরা এটাকে গুরুতর অন্যায় মনে করো? তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। আমাদের অবস্থা তো তাই।
তখন তিনি বললেন, এটা তো স্পষ্ট ঈমান।
____মুসলিম

অর্থাৎ যখন কারও অন্তরে এই অবস্থা বিরাজ করে যে, দ্বীন ও শরীয়তের খেলাফ কোন ওয়াসওয়াসা আসলেও সে ঘাবড়ে যায় এবং এইটা মুখে উচ্চারণ করতেও ভয় পায়, তখন ধরে নিতে হবে এটা খাঁটি ঈমানেরই লক্ষণ। চোর-ডাকাত সেখানেই হামলা করে, যেখানে দামী সম্পদ আছে।
.
এখন মনে হতে পারে ঈমানদার বান্দা হলে ওয়াসওয়াসা কেন আসবে?
ওয়াসওয়াসা তো মুলত শয়তানের কুমন্ত্রণা। তাই ওয়াসওয়াসা আসা স্বাভাবিক। এতে নিজের ঈমান নিয়ে যেন সংশয়ে না পড়ে যাই। এতে শুধু হতাশাই বাড়বে আর শয়তান খুশি হবে।

একবার ভেবে দেখুন রসুল (স) এর সাহাবীদের পর্যন্ত ওয়াসওয়াসা এসেছে তাহলে আমাদের জন্য তো খুবই স্বাভাবিক…..
আর রব্বুল আ’লামীনও ওয়াসওয়াসার কারনে যে কুচিন্তার উদয় হয় তা মাফ করে দিছেন। এর ফলে কোন গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ।
.
হাদিসটি খেয়াল করি-
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মতের অন্তরে আবর্তিত কুচিন্তা ও ওয়াসওয়াসার বিষয়টি মাফ করে দিয়েছেন— যে পর্যন্ত এগুলো কার্যে পরিণত অথবা মুখে উচ্চারন না করা হয়।
—বুখারী,মুসলিম

অর্থাৎ এইসব কুচিন্তা ও ওয়াসওয়াসা যেই পর্যন্ত ওয়াসওয়াসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, সে পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে এর উপর কোন শাস্তি দেয়া হবে না। তবে যখন এইগুলা ওয়াসওয়াসার পর্যায় অতিক্রম করে কথা বা কাজে পরিনত হয়ে যায়, তখন এগুলোর জন্য শাস্তি দেয়া হবে।

তাই যতই ওয়াসওয়াসা আসুক। সেগুলো ইগনোর করেন। এমনকি অন্য কাউকে বলা থেকেও বিরত থাকেন।
শয়তানকে খোঁচাচ্ছে খোঁচাক, আপনি তার ফাঁদে পা দিবেন না। দেখবেন একসময় শয়তান নিরাশ হয়ে আপনাকে ছেড়ে দিবে।
আর হ্যাঁ যত বেশি ওয়াসওয়াসা আসবে তত বেশি আল্লাহর শরণাপন্ন হবেন। এতে ফায়দা আপনারই….
এটাও আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট মনে করে নেন!
ওইযে সার্ফএক্সেলের সেই এডের কথা মনে আছে না??
“দাগ থেকে যদি দারুন কিছু হয় তাহলে দাগই ভালো।”
এক্ষেত্রেও খারাপের মাঝে ফায়দাটাই দেখেন। (রব্বুল আ’লামীন চান তো) দেখবেন আস্তে আস্তে সমস্যাগুলো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তবে এরপরেও যদি খুব বেশি সমস্যা মনে হয় তাহলে আব্দুল্লাহর ওয়াসওয়াসা পোস্ট পড়ে অথবা অডিও ক্লিপটা শুনে সে মোতাবেক আমল করতে পারেন।
উপকার পাবেন ইনশাআল্লাহ…

————

কমেন্ট থেকে-

: Apu kichu way bole diben.. kanna kore fed up hoye jai.. bathroom theke ber hote parina.

– বাথরুমের কাজ যখনই শেষ হবে। কোন কিছু চিন্তা না করেই দ্রুত বের হয়ে যাবেন।। যদিওবা তা একদিনে সম্ভব না তবুও চেষ্টা চালিয়ে যান আপু….

: Namaz shuru kore diye mone hoy allahu akbar taqbir korini.. abar bhenge dei.. pura namaze eta korini oita hoynai cholte thake..

– এরপর থেকে মনে হলেও অইটা করবেন না। সালাত কন্টিনিউ করবেন। বেশিরভাগ মানুষেরই এই সমস্যা আছে আপু। কথা একটাই শুধু মনে হলে কিছুই করবেন না। যখন শতভাগ শিওর হবেন তখনই নতুন করে শুরু করবেন আপু।

: আমার ৪রাকাত নামাজে প্রায় সব সময়ই সাহুসিজদা দিতে হয়। শুধু সন্দেহ হয়। মনে হয়- সিজদা কম দিয়েছি কোন রাকাতে বা ২রাকাতের সময় বসি নি। এর কি সমাধান হতে পারে। নামাজে বাজে কথা মনে পড়লে কি করা উচিত??

– ১০০% শিওর না হলে আপনার সাহু-সিজদা দেয়ার দরকার নেই আপু। চেষ্টা করুন মনোযোগসহকারে সালাত আদায় করার….

: ocd এর জন্য গতকাল ডাক্তার দেখাই আসলাম। অসিডি শয়তানের ধোঁকায় হয় কিনা জানি না তবে আল্লাহ সম্পরকে যে কু চিন্তা আসে তা শয়তানের কারনে। ডাক্তার এর চেম্বের এর পাসে এক পেপার এ লেখা ছিল অসিডি > আল্লাহ সম্পর্কে আজেবাজে চিন্তা আসে। এখন শুচিবাই মেডিক্যাল সমাধান হবে না ইসলাম এর রুলস অনুসরন করতে হবে। কুরান এ আসছে যখন শয়তান তোমাকে ঘোরাতে চাই তুমি আল্লাহর আশ্রই প্রার্থনা কর।?????

– ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে তো নিষেধ করা হয়না। তবে যেইটাই করুন রব্বুল আ’লামীনে মর্জি না হলে সুস্থতা সম্ভব না। তাই বেশি বেশি করে দু’আ করুন, তাঁকে ডাকুন…

– যারা অযু, গোসল, নামাজ নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন তাদের বলি উত্তমরুপে একবারই অযু করুন এরপর যত্নসহকারে সালাত আদায় করে নিন। এরমধ্যে যদি আপনি সংশয়ে পড়ে যান তাহলে নতুন করে কোন কিছুরই দরকার নেই… মনে রাখবেন ওয়াসওয়াসা মানেই সংশয়রোগ। তাই চেষ্টা করেন ইগনোর করা। তারপরেও না পারলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি ১০০% শিওর তো?? যদি ১০০% শিওর হোন তাহলে আবার অযু করে সালাত আদায় করুন।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি ইংলিশ মিডিয়াম মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।