স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা কেমন হবে?

@@@ এ প্রসঙ্গে চমৎকার এই নোটটি পড়তে পারেন, উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

@@@ একজন স্বামী এবং স্ত্রী পরস্পর তিনটি চাহিদাকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকে। শারীরিক চাহিদা, মানসিক চাহিদা এবং আধ্যাত্মিক চাহিদা। এর কোন একটির ঘাটতি বয়ে আনতে পারে অসন্তুষ্টি আর অশান্তি। আর তাই বিয়ের আগ মুহূর্তে সুন্নাহ মোতাবেক পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করার একটা রাফ প্ল্যান করে নিতে পারেন। কিছু বিষয় হাইলাইট করে যদি সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা যায় তবে প্রতিটি ঘর হয়ে উঠবে প্রশান্তিময়। বিয়ে পরবর্তী রোমান্স যেনো আমৃত্যু টিকে থাকে এজন্য নিম্নের সুন্নাতি বিষয়গুলোতে আসুন সকল পুরুষরা একটু চোখ বুলিয়ে নেই।

১) সহধর্মিণীর হৃদয়ের ভাষা বুঝুনঃ
@@@ রাসূলুল্লাহ (সা:) একবার আয়িশাকে (রা:) বললেন, হে আয়িশা! আমি অবশ্যই জানি কখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক আর কখন অসন্তুষ্ট হও। আয়িশা (রা:) জিজ্ঞেস করলেন, তা আপনি কিভাবে জানেন? রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন তুমি এরূপ বল, ‘মুহাম্মাদের (সা:) রবের কসম, আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট হও তখন বল, ‘ইবরাহীমের (আ:) রবের কসম’!
আয়িশা (রা:) বললেন, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আল্লাহর শপথ! (রাগের সময়) আমি কেবল আপনার নামটাই বাদ দেই।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহর রাসূল (সা:) তাঁর সহধর্মিণীর হৃদয়ের অনুভূতি কতোটা গভীরভাবে বুঝতেন। আসলে স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্ক তো এমনই হওয়া উচিত। একে অপরের সুখ দুঃখ যতো বেশী বুঝতে পারবে ততো তাদের মাঝে প্রশান্তি বিরাজ করবে।

২) স্ত্রী দুঃখ পেলে সান্ত্বনা দেওয়াঃ
@@@ আল্লাহর রাসূল (সা:) এর প্রিয় সহধর্মিণী সাফিয়াহ (রা:) ইসলাম গ্রহনের পূর্বে ইহূদী ছিলেন। তো রাসূলুল্লাহ (সা:) একবার সাফিয়াহর (রা:) গৃহে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন- আয়িশা (রা:) এবং যায়নাব (রা:) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহর স্ত্রী এবং গৌরবের দিক হতে একই রক্তধারার অধিকারিণী। সুতরাং আমরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, তুমি কেন বললে না যে, ‘আমি আল্লাহর নবী হযরত হারুনের বংশধর ও হযরত মুসার ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং রাসূলুল্লাহ (সা:) আমার স্বামী। অতএব তোমরা কোন দিক হতে আমার চাইতে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হতে পার?’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সা:) তাঁর নিজ হাত দিয়ে সাফিয়াহর (রা:) চোখ মুছে দিলেন।
বিয়ের পর একটি দম্পতির মাঝে অবশ্যই এই গুণটি বিরাজ করতে হবে। আপনার বেটার হাফ সবসময় হাস্যজ্জ্বল থাকবে এমন ভাবাটা বোকামী। এসময় একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের কাছে টানতে হবে।

৩) স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে শোয়াঃ
@@@ আল্লাহর রাসূল (সা:) প্রায় সময় উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা:) এর কোলে মাথা রাখতেন, এবং তাঁর মৃত্যুর পর আয়িশা (রা:) এর উরুর উপর মাথা রেখে শুতেন। যখন আয়িশা (রা:) ঋতুবর্তী (মাসিক) অবস্থায় উপনীত হতেন, তখন তিনি (সা:) তাঁর উরুর উপর শুয়ে কুর’আন তিলাওয়াত করতেন।
একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবনে কতোবার এভাবে স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে শুয়েছেন?
একটা বার ভাবুন! মহিলাদের এই সেন্সেটিভ সময়ে আপনার একটু সুক্ষ্ম আহ্লাদ তার মনের দুঃখ নিমিষেই ভুলিয়ে দিতে পারে। একবার মাথা রেখে দেখুনই না স্ত্রী সব উজাড় করে দিয়ে দিবে, প্রমিজ।
এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে নিজের কথাগুলো শেয়ার করা। নিশ্চিত স্বামী বেচারা পরদিন আস্ত গোলাপ বাগান নিয়ে আসতেও কুন্ঠাবোধ করবেন না।

৪) একে অপরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিনঃ
@@@ উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা:) প্রায় সময় রাসূলুল্লাহর (সা:) মাথার চুল আচড়ে দিতেন। এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর মাথা ধৌত করে দিতেন।
আমি তো মনে করি, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছাকাছি আসার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, একে অপরের মাথায় সিম্পলি হাত বুলিয়ে দেয়া বা একে অপরের চুল আচড়ে দেয়ার মাধ্যমে যে ভালোবাসার আদান প্রদান হবে তা অবিশ্বাস্য।

৫) একই পাত্র হতে খাওয়া অভ্যাস শুরু করুনঃ
@@@ যখন উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা:) গ্লাসে করে পানি খেতেন, আল্লাহর রাসূল (সা:) ঠিক প্রিয় সহধর্মিণীর ঠোট লাগা অংশে ঠোট লাগিয়ে পানি পান করতেন। যখন আয়িশা (রা:) গোশত খেতেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সা:) আয়িশা (রা:) হতে গোশতটা টান দিয়ে নিয়ে নিতেন, এবং ঠিক আয়িশা (রা:) যে দিকটায় ঠোট লাগিয়ে খেয়েছেন, একই স্থান থেকে তিনি (সা:) ও খাওয়া শুরু করতেন।
অফিস থেকে আসতে দেরী হোক আর যাই হোক, স্ত্রীর সাথে আজ হতে মাঝে মাঝে একই প্লেটে, একই গ্লাসে খাওয়া শুরু করুন।
(প্রতিদিন করতে বলবো না, না হয় নেকামি ভেবে বৌ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব জেগে উঠতে পারে) এতে হৃদতা, ভালোবাসা বাড়বে। খেতে খেতে দু’জনার হৃদয় হতে এমন ফ্রেগ্রেন্স বের হবে, আহ! শুধু সুকুন আর সুকুন।

৬) লজ্জা ফেলে মুসাহাফা করুনঃ
@@@ আল্লাহর রাসূল (সা:) প্রায় সময় স্ত্রীদের চুমু খেতেন। তাঁদের সাথে আদর আহ্লাদ করতেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সা:) সিয়াম রাখতেন, ঠিক তখন তিনি স্ত্রীদের চুমু দিয়েছেন এমন কথাও হাদিসে পাওয়া যায়।
স্ত্রীর চোখে চোখ রাখা, তার কাজের মধ্যখান দিয়ে হুট করে চুমু দিয়ে আসা, আপনার ভালোবাসার গভীরতাকে আপনার স্ত্রীর অন্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ভালোবাসা লুকোনোর বিষয় নয়, তা প্রকাশ করার মাধ্যম ইসলাম শিখিয়েছে আমাদের।
লজ্জা ভুলে একে অপরের সম্মুখে ভালোবাসা প্রকাশ করা শুরু করুন। একে অপরের সাথে মিলিত হন, কাছে টানুন। নিশ্চয়ই স্বামী স্ত্রীর পবিত্র মিলন সাদাকাহ হিসেবে আল্লাহ তা’আলা কবুল করবেন, ইনশাআল্লাহ।

৭) একে অপরের মুখে হাত তুলে খাইয়ে দিনঃ
@@@ ভালোবাসা প্রদর্শনের উত্তম মাধ্যম হলো এই ক্ষুদ্র কাজটি। নিজ হাতের উপার্জন স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়াও সওয়াবের কাজ। ভালোবাসার অস্তমিত সুর্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে এর তুলনা নেই।
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন,
‘তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্যেশ্যে যা ব্যয় করবে তার উত্তম প্রতিদান পাবে। এমনকি স্বীয় স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া লোকমার বিনিময়েও’।

৮) স্ত্রীর হাতের কাজে সাহায্য করুনঃ
@@@ আসওয়াদ (রহ:) বলেন, আমি আয়িশা (রা:) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা:) ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন অর্থাৎ গৃহস্থালির কাজে পরিবার-পরিজনের সহযোগিতায় থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো নামাজে চলে যেতেন।
স্ত্রীর ঘরের কাজে সাহায্য করা আল্লাহর রাসূল (সা:) এর সুন্নাহ। নিশ্চয়ই এই সুন্নাহর ব্যাপারে পুরুষদের সজাগ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। সারাদিন গৃহস্থালি কাজ করতে করতে স্ত্রী যখন হাপিয়ে উঠে, বন্ধের দিন গুলোতে পুরুষদের উচিত তাদের কাজে সাহায্য করা। এতে ভালোবাসা বাড়বে বৈ কমবে না।

৯) স্ত্রীর সাথে গল্প করতে ভুলবেন নাঃ
@@@ বাসায় স্ত্রীর সাথে যে মুহূর্তগুলো কাটাবেন, ঠিক এ সময়গুলো চেষ্টা করবেন প্রিয় মানুষের সাথে গল্প-গুজব করে কাটাতে। মাঝে মাঝে হাস্যরস এবং দুষ্টুমি করবেন। এতে আপনাদের মাঝে ভালোবাসা বাড়বে।
আল্লাহর রাসূল (সা:) প্রায় সময় তাঁর স্ত্রীদের গল্প শোনাতেন। আয়িশা (রা:) কে তিনি উম্মে যারাহ এর বিখ্যাত গল্প শুনিয়ে বলেছিলেন যে,
‘হে আয়িশা (রা:)! আমি তোমাকে আবু যারাহ এর মতো ভালোবাসি, যেভাবে সে উম্মে যারাহকে ভালোবাসতো’।
প্রতিদিন বাইরে যে কর্মব্যস্ত সময়ে কাটে তা প্রিয় সহধর্মিণীকে শেয়ার করতে পারেন, এতে আপনার উপর তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে জন্মাবে।

১০) স্ত্রীকে নিয়ে তার প্রিয় জায়গায় ঘুরতে যানঃ
@@@ একবার ইথিওপিয়া থেকে কিছু লোক এসে মসজিদ আন নববীতে তরবারি খেলা দেখাচ্ছিল। আয়িশা (রা:) রাসূল (সা:) কে বললেন তিনি খেলা দেখতে চান। এমতাবস্থায় আমরা হলে কী বলতাম?
“হ্যাঁ, উম্মাহর এই অবস্থা আর তুমি চাও খেলা দেখতে! ছি! যাও যাও কুরআন পড়…তাফসীর পড়” অথচ রাসূল (সা:) আয়িশাকে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে আড়াল করে সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন।
আয়িশা (রা:) রাসূলুল্লাহর পিছনে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে লাগলেন। এত দীর্ঘ সময় তিনি খেলা দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) বারবার এক পা থেকে আরেক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। তিনি আয়িশা (রা:) কে জিজ্ঞেস করলেন যে তাঁর দেখা শেষ হয়েছে কিনা। আয়িশা (রা:) বললেন তিনি আরো দেখতে চান। কোন আপত্তি না করে রাসূল (সা:) সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। দীর্ঘক্ষণ পর আয়িশা (রা:) নিজেই ক্লান্ত হয়ে বললেন যথেষ্ট হয়েছে। এরপর রাসূল (সা:) তাঁকে বাসায় নিয়ে আসলেন।
কি শ্রেষ্ঠ ভালোবাসাই না ছিলো আল্লাহর রাসূল (সা:) এবং তাঁর সহধর্মিণীদের মাঝে! আপনিও একই সুন্নাহ অনুসরন করুন, ভালোবাসায় টই-টম্বুর অবস্থা হবে।

১১) স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করুনঃ
@@@ আয়িশা (রা:) তখন হালকা গড়নের ছিলেন। রাসূল (সা:) কোন এক সফর থেকে ফিরছিলেন সাথে ছিলেন আয়িশা (রা:)। তিনি সাহাবীদেরকে বললেন সামনে এগিয়ে যেতে। তাঁরা চোখের আড়াল হলে রাসূল (সা:) আয়িশা (রা:) কে দৌড় প্রতিযোগীতায় আহ্বান করলেন। আয়িশা (রা:) জিতে গেলেন সেইবার।
এর কয়েকবছর পর একই সিনারি, আবার রাসূল (সা:) আয়িশাকে (রা:) দৌড় প্রতিযোগিতায় আহ্বান করলেন। এবার রাসূল (সা:) জিতে গিয়ে মজা করে বললেন, “এটা আগেরটার শোধ।”
আমাদের দেশের পুরুষরা কি স্ত্রীর সাথে এমন প্রতিযোগিতা করেছে কখনো? আপনি শুরু করুন। রাসূল (সা:) কে ভালোবেসে আপনি যদি একইভাবে আপনার স্ত্রীকেও ভালোবাসতে থাকেন, এর চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।

১২) সহধর্মিণীকে প্রিয় নামে ডাকুনঃ
@@@ আয়িশাকে (রা:) নবী (সা:) আদর করে ডাকতেন হুমায়রা বলে। হুমায়রা অর্থ ‘লাল বর্ণের রমনী’। রাসূলুল্লাহ (সা:) এর আদর মাখা ডাক শুনে আয়িশা (রা:) কাছে আসতেন তাকে জড়িয়ে ধরতেন, এরপর কবিতা পাঠ করে আল্লাহর রাসূলকে (সা:) শোনাতেন।
এমনও হয়েছে আল্লাহর রাসূল (সা:) একবার আয়িশার (রা:) দিকে তাকিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলেন, ‘তোমার চক্ষুদ্বয় কত্ত সাদা’!
প্রিয় সহধর্মিণীকে এমন ভালো অর্থবোধক নামে ডাকতে পারেন, এতে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। একে অপরকে যতো বেশী কমপ্লিমেন্ট দেয়া যায়, ঠিক ততো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ধরে রাখতে সুবিধে হবে।

১৩) প্রিয় মানুষের জন্য নিজেকে সাজানঃ
@@@ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন,‘আমি যেমন আমার জন্য স্ত্রীর সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’
অর্থাৎ যাবতীয় সাজসজ্জা যেনো কেবল প্রিয় মানুষকে খুশি করার জন্যই করা হয়, এতে পরস্পরের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে এবং একে অপরকে আরো অধিকভাবে কাছে টানতে পারবে। আমাদের দেশের নারীরা তো এক্ষেত্রে বলা চলে স্বামীর সামনে ছেঁড়া পুরোনো কাপড়ই পরিধান করে। অথচ এক্ষেত্রে উচিত সবচেয়ে বেস্ট পোশাক একে অপরের জন্য পরিধান করা।

১৪) সুগন্ধী ব্যবহার করাঃ
@@@ আয়িশা (রা:) এর কাছে যেসব সুগন্ধি থাকত, সেগুলো থেকে উত্তম সুগন্ধি হজরত আয়িশা (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:) কে লাগিয়ে দিতেন। সুগন্ধী আল্লাহর রাসূল (সা:) এর প্রিয় ছিলো। তাই স্বামীদের উচিত তাদের স্ত্রীদের সম্মুখে সুগন্ধী ব্যবহার করা, এবং স্ত্রীদের উচিত তাদের স্বামীদের সম্মুখে নিজেকে রঙ দিয়ে সাজানো যা তাকে আকৃষ্ট করে।

১৫) বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা করাঃ
@@@ সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা না করাই শ্রেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো গোপন করা। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে বেড়ায়’।
তাই এ ব্যাপারে খুব সতর্কতার সাথে ডিল করতে হবে। ভুলেও যেনো একে অপরের গোপনীয় কথা অন্যকে না বলা হয়। আমাদের সমাজে অধিকাংশ বিয়ে ভেঙ্গে যায় কেবল এই বিষয়ে অবহেলার কারনে।

১৬) স্ত্রীর পরিবার এবং আত্মীয়ের খবর নেওয়াঃ
@@@ নবীজি (সা:) মাঝে মাঝে একটা ভেড়া জবাই করে বলতেন, “এই ভেড়ার মাংস খাদিজার বান্ধবীদের জন্য পাঠিয়ে দাও।” লক্ষ করুন, নবীজি (সা:) যে কেবল খাদিজার (রা:) জীবিত অবস্থায় এমন করেছেন তা নয় বরং তিনি তো খাদিজা (রা:) মারা যাবার পরেও তাঁর বান্ধবীদের সাথে সৌহার্দ্য বজায় রেখেছেন। এটা তিনি করতেন খাদিজার (রা:) প্রতি ভালোবাসা থেকে।
আবু বকর (রা:) একবার বলছিলেন, আমি তিনটি বিষয় খুব পছন্দ করি, এর মাঝে একটি হল ‘আমি মুহাম্মদের শ্বশুর’ উক্ত কথা দ্বারা এটাই প্রমাণ করে আল্লাহর রাসূল (সা:) শ্বশুর বাড়ির লোকেদের কেমন মহব্বত করতেন, এবং কতোটা আপন করে নিয়েছিলেন।
তাই স্বামীদের উচিত স্ত্রী পক্ষের আত্মীয়ের এবং পরিবারের দেখাশোনা করা, এবং স্ত্রীর উচিত স্বামীর পরিবারের এবং আত্মীয়ের দেখভাল করা। তবেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে এবং ভালোবাসা অটুট থাকবে।

@@@ উক্ত সুন্নাতি কাজগুলো যদি বিয়ের পূর্বে একজন পুরুষ এবং নারী চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন, তবে বিয়ের পরবর্তী মুহূর্তগুলো কাটবে চমকপ্রদ। আমৃত্যু সুকুনের সাথে বসবাস করে যেতে পারবেন, যার শেষ গন্তব্য হবে আল জান্নাত। আল্লাহ আমাদের আমলগুলোকে আরো সুন্দর করে দিক এবং আমাদের মাঝে যারা অবিবাহিত তাদের দ্রুত বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার তাওফিক দিক, আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

 

☪ স্বামীর দ্বীনদারিতে স্ত্রীর ভূমিকাঃ-

@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@

☪ একজন মেয়ে বাবা-মায়ের নয়নমনি। ঘরের আলো। ভাই-বোনের স্নেহ-ভালোবাসার পাত্রী। এদের মাঝেই সে বেড়ে ওঠে। এদেরকে নিয়েই আবর্তিত হয় তার জীবন। একসময় তার জীবনধারায় পরিবর্তন আসে। সে হয়ে যায় আরো কিছু মানুষের আত্মীয়। কিছু অচেনা মানুষের আপনজন। অচেনা-অজানা এক পুরুষ হয় তার একান্ত আপন-স্বামী। তাকে নিয়ে সে স্বপ্ন দেখে, তাকে ঘিরে নতুন জীবনের নতুন বাগান সাজায়।

☪ একজন সৎ ও নেককার স্ত্রী স্বামীর জন্য রহমত, অনেক বড় নিআমত। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হিসেবে গণ্য করেছেন।

✝ হযরত আলী (রা:) থেকে বর্ণিত, যখন এই আয়াতটি নাযিল হল-

وَالَّذِينَ يَكْنزونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ الله.

যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তাদেরকে কষ্টদায়ক মর্মন্তুদ আযাবের সুসংবাদ দিন।

✝ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনবার বললেন, ‘স্বর্ণ-রূপার বিনাশ হোক’ কথাটি সাহাবায়ে কেরামের জন্য কিছুটা ভারী মনে হল। তাই তারা জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আমরা কোন্ বস্তুকে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করব? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন-

لِسَانًا ذَاكِرًا، وَقَلْبًا شَاكِرًا، وَزَوْجَةً تُعِينُ أَحَدَكُمْ عَلَى دِينِهِ.

যিকিরকারী যবান, শোকরকারী অন্তর, এবং এমন স্ত্রী, যে তার স্বামীকে দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করবে। [তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ ২/৫৪৮ (দারুল ফিকর); মুসনাদে আহমাদ, হাদীসঃ ২৩১০১, ২২৩৯২]

✝ স্ত্রী হিসেবে একজন নেককার নারী তালাশ করা সকল পুরুষের কর্তব্য। আর প্রতিটি নারীর কর্তব্য, স্বামীকে দ্বীনের কাজে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করা।

☪ একজন নারী হিসেবে বিভিন্নভাবে আমি স্বামীর দ্বীনদারিতে সহযোগিতা করতে পারি, স্বামীকে দ্বীনের পথে আনতে পারি। যেমন, স্বামী নামায পড়েন। কিন্তু জামাতের সাথে নয়, জামাতের ব্যাপারে তার উদাসীনতা রয়েছে। আমার উচিত তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করা। ইনশাআল্লাহ একসময় তিনি আর জামাত ছাড়তে চাইবেন না। তিনি হয়ত পর্দা করেন, আমাকেও করান, কিন্তু পরিপূর্ণ শরয়ীভাবে নয়। সব শিথিলতা ত্যাগ করে সব বাধা অগ্রাহ্য করে আমাকে অবশ্যই শরয়ী পর্দা করতে হবে। তাকেও পর্দার উপর আনার চেষ্টা করতে হবে। স্বামীর আমলের আগ্রহ কম। কোনো আমল কিছুদিন শুরু করে আবার ছেড়ে দেন। তখন আমি আমার আমল বাড়িয়ে দিব। আল্লাহর কাছে দুআ, রোনাজারী করতে থাকব এবং তাকে তারগীব ও উৎসাহ দিতে থাকব। ইনশাআল্লাহ্ এসবের প্রভাবে তার মধ্যে আমলের জযবা তৈরি হবে।

✝ স্বামী নামায পড়ে না, রোযা রাখে না। তখন স্ত্রীই পারে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে নেককার বানাতে, নামায রোযা দ্বীনী আমলের প্রতি আগ্রহী করতে বুঝিয়ে শুনিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আল্লাহর কাছে দুআ করে স্বামীকে অন্যায় থেকে বিরত রাখতে পারে। যতদিন বিরত না হয়, ততদিন চেষ্টা করে যাওয়া। কতদিন আর না শুনে থাকবে স্ত্রীর কথা। একদিন না একদিন ইনশাআল্লাহ্ প্রচেষ্টা সফল হবেই।

✝ কারো স্বামীর উপার্জন হালাল নয়। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে তার পেশা যুক্ত। তখন স্ত্রীকে বুদ্ধিমত্তার সাথে নরমে-কঠোরে যেভাবেই হোক হারাম থেকে স্বামীকে মুক্ত করতেই হবে। হারামের অভিশাপ থেকে নিজেদেরকে বাচাঁতে হবে। হালাল রিযিকের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে এবং হালাল রিযিকের জন্য যত কষ্টই হোক, তার উপর সবর করার দৃঢ় মনোভাব পেশ করতে হবে। তাতেও যদি স্বামী বিরত না হয়, তাহলে স্বামীকে বুঝাতে হবে যে, না খেয়ে মরে যাব, তবুও হারামের কোনো অংশ পেটে যেতে দিব না।

✝ স্বামী নিজে পর্দা করে না, স্ত্রীকেও পর্দা করতে দেয় না। তখন হতাশ হলে চলবে না। সবসময় তাকে বুঝাতে হবে। তার হেদায়েতের জন্য নিয়মিত আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ্, আল্লাহ্ তা’আলা সাহায্য করবেন। অনেকের দৃঢ় ইচ্ছা- ঘরে পরিপূর্ণ দ্বীনী পরিবেশ তৈরি করার এবং শরয়ীভাবে পরিবারটাকে গড়ে তোলার। কিন্তু স্বামী তা চায় না। বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে। তখন দৃঢ়ভাবে নিজের ইচ্ছার উপর অটল থাকতে হবে। একজন নারী হিম্মতের সাথে, হেকমতের সাথে যদি এগিয়ে যায় তাহলে তার দ্বারা একটি পরিবারে দ্বীনী পরিবেশ কায়েম হতে পারে।

✝ স্বামী যদি ঘরে টিভি বা এই ধরনের খারাপ বস্তু আনে, তাহলে হেকমতের সাথে স্বামীকে বুঝাতে হবে। এসবের বিভিন্ন কুফল তার সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এসবের প্রতি তার মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে ঘর থেকে এগুলো দূর করতে হবে।

✝ স্বামী সন্তানদেরকে দ্বীনী শিক্ষা দিতে চায় না। কুরআন-হাদীস শেখাতে চায় না। মাদ্রাসায় পড়াতে চায় না। তখন তাকে দ্বীনী শিক্ষার ফযীলত শোনাতে হবে। ইলমের মর্যাদা, তালিবুল ইলমের মর্যাদা এবং দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তাকে বুঝাতে হবে। সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষা না দেয়ার কুফল, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয় তার সামনে তুলে ধরতে হবে।

☪ আবার এসবের বিপরীতও হয়। যেমন স্বামী চান, তার স্ত্রী নামায পড়ুক, রোযা রাখুক, ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকুক, কিন্তু স্ত্রী চায় না; চায় নামায রোযা বাদ দিয়ে আনন্দ-বিনোদন আর ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকতে। বেপর্দায় থেকে নিজের খেয়াল-খুশি মত চলতে, সন্তানদের দ্বীন ও ঈমান থেকে মাহরূম রাখতে, দ্বীনী ইলম থেকে দূরে রাখতে। এক্ষেত্রে স্বামীকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাকে বুঝাতে হবে। তাকে বিভিন্ন দ্বীনী মজলিশে নিয়ে যেতে হবে, দ্বীনী পরিবেশে উঠাবসা করার সুযোগ করে দিতে হবে। যাতে তার মাঝে দ্বীনী চেতনা জাগ্রত হয়, দ্বীনদারির প্রতি আগ্রহ হয়, দ্বীনী জীবন গ্রহণ করা সহজ হয়।

☪ স্ত্রীকে বুঝাতে হবে- এই যিন্দেগীটাই শেষ নয়। এরপরে চিরস্থায়ী একটি যিন্দেগী আছে। সেই যিন্দেগী হয় চিরশান্তির হবে, নয় তো চির দুঃখের। কে চায় তার যিন্দেগীটা দুঃখে ভরা থাক। সবাই তো চিরশান্তিই চায়। তো সেই শান্তি পেতে হলে আমাকে, আমার পরিবারকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলতে হবে। আর সেই বিধান জানার জন্য আমাকে এবং পরিবারকে অবশ্যই দ্বীন শিখতে হবে।

☪ ঘরে দ্বীনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য, পরিবারের লোকদের মাঝে দ্বীনী মেজায তৈরি করার জন্য ঘরে নিয়মিত তালীমের ব্যবস্থা করব। বাচ্চাদেরকে দ্বীনী তালীম দিব তারগীব ও তারহীবের সাথে। স্বামীর সাথে বোঝাপড়ার সবগুলো কাজ স্ত্রীকে করতে হবে ভেবে চিন্তে হেকমতের সাথে, বুদ্ধিমত্তার সাথে। হৃদ্যতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সাথে। স্বামীর সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া, অন্যায় আচরণ করা মোটেই সমীচীন নয়। নিজের দুনিয়াবী ভোগ বিলাস পরিত্যাগ করে, নিজের অন্যায় খাহেশাতগুলোকে বিলীন করে পরিপূর্ণ শরয়ীভাবে নিজে চলার চেষ্টা করা। স্বামীকে চলতে উৎসাহ দেওয়া এবং সন্তানদেরকে সেভাবে চালানো। এমন স্ত্রীর কথাই বলা হচ্ছে-

وَزَوْجَةً تُعِينُ أَحَدَكُمْ عَلَى دِينِهِ.

এমন স্ত্রী, যে দ্বীনদারির ক্ষেত্রে স্বামীকে সহযোগিতা করে।

আমাদের প্রতিটি নারীর মাঝে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আল এই গুণ দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

 

সকল নারীরা কি তাদের স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী?

☪ সকল নারীরা কি তাদের স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী?
@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@

✝ আল্লাহ তায়ালা নাকি স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন! তাহলে যাদের ডিভোর্স হয়ে অন্য কোথায়ও বিয়ে হয় তাদের ব্যাপারটা কি মানে তাহলে ঐ মেয়েকে কয়জনের পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে?

☪ জবাবঃ- প্রথমে দেখে নেই এ বিষয়ে কোরআন কি বলে-

সূরা আন নিসা’র ১নং আয়াতে আল্লাহ পাক উল্লেখ করেছেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا.

✝ হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চনা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।

✝ আয়াতের তাফসির:-
“তোমাদেরকে/তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে/একটি মাত্র সত্ত্বা থেকে”। এখানে তোমাদেরকে/তোমাদিগকে বলতে সমগ্র মানবজাতিকে বুঝিয়েছেন। কেবলমাত্র পুরুষজাতিকে নয়। তাহলে সমগ্র মানবজাতিকে তিনি একটি মাত্র সত্ত্বা বা ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর “বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী” এই কথাটি দ্বারা তো পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে সমগ্র পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করে বিস্তার করেছেন অর্থাৎ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একথা বলেননি যে প্রত্যেক পুরুষ থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন। কাজেই ধর্মীয় দিক থেকে এ ব্যাপারটি পরিষ্কার যে, আল্লাহ হযরত আদম (আ:) কে সৃষ্টির পর তার পাঁজরের হাড় থেকে হযরত হাওয়া (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের থেকে পর্যায়ক্রমে সকল পুরুষ-নারী সৃষ্টি করে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

☪ এবার এ সংক্রান্ত হাদীসটি দেখে নেইঃ

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓَ ﺧُﻠِﻘَﺖْ ﻣِﻦْ ﺿِﻠَﻊٍ ﻟَﻦْ ﺗَﺴْﺘَﻘِﻴﻢَ ﻟَﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻃَﺮِﻳﻘَﺔٍ، ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳْﺘَﻤْﺘَﻌْﺖَ ﺑِﻬَﺎ ﺍﺳْﺘَﻤْﺘَﻌْﺖَ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺑِﻬَﺎ ﻋِﻮَﺝٌ، ﻭَﺇِﻥْ ﺫَﻫَﺒْﺖَ ﺗُﻘِﻴﻤُﻬَﺎ، ﻛَﺴَﺮْﺗَﻬَﺎ ﻭَﻛَﺴْﺮُﻫَﺎ ﻃَﻠَﺎﻗُﻬَﺎ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নারীকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। সে তোমার জন্য কখনোই সোজা হবে না। তার দ্বারা কাজ আদায় করতে হলে এই বাঁকা অবস্থায়ই আদায় করতে হবে। এটি সোজা করতে গেলে ভেঙ্গে যাবে। ভাঙ্গার অর্থ হল তালাক ঘটে যাওয়া। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৪৬৮]

✝ হাদীসে নারীদের পাজরের হাড় দ্বারা তৈরীর কথা এসেছে। কিন্তু কার পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে? তা হাদীসে বর্ণিত হয়নি।

সুতরাং না বুঝার কারণে অনেকে মনে করেন, স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে স্ত্রীকে তৈরী করা হয়েছে।
একথাটি সম্পূর্ণ গলদ। একথার কোন ভিত্তি নেই।

হ্যাঁ, হযরত হাওয়া আলাইহিস সালামকে হযরত আদম আঃ এর পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। একথা সত্য। কিন্তু এর মানে সকল স্ত্রী লোককে তার স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী করার দাবীটি অযৌক্তিক ও বানোয়াট।

✝ হাদীসটির ব্যাখ্যা:-

হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগন বলেন:-
হাদীসে যে পাজরের হাড় দিয়ে তৈরীর যে কথা বলা হয়েছে। এর দ্বারা দু’টি উদ্দেশ্য হতে পারে। যথা-

১) এটি কেবলই একটি উপমা। সত্যিই পাজরের হাড় দ্বারা তৈরী হওয়া উদ্দেশ্য নয়। নারীদের একটি সৌন্দর্য হল, তারা সাধারণতঃ একটু কথায় আচরণে বাঁকা স্বভাবের হয়ে থাকে। এটি সর্বক্ষেত্রে তাদের দোষ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সৌন্দর্য।

২) নারীরা বাবা আদম আঃ এর পাজরের হাড় দ্বারা তৈরী। স্বামীর পাজরের হাড় দ্বারা নয়। [তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম:-১/১৩৭-১৩৮]

✝ সুতরাং স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে তৈরী করা হয়েছে স্ত্রীদের এ দাবীটিই যেহেতু ভুল। তাই নাস্তিকদের উপরোক্ত প্রশ্নেরই আর কোন যৌক্তিকতা বাকি থাকে না। আল্লাহ আমাদের সত্যকে বুঝার তাওফিক দান করুন, আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

 

প্রিয়তমা স্ত্রীকে ভালবাসার কার্যকরি পন্থা!

☪☪☪ হাদীসের আলোকে প্রিয়তমা স্ত্রীকে ভালবাসার কার্যকরি পন্থা, যা বর্তমান সময়ে বলতে গেলে পরিত্যক্ত। সে আদর্শে ফিরে আসা সকল মু’মিনের জন্য কর্তব্য।
★★★★★★★★★★★★★★★★★☆☆

১) প্রিয়তমা স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে কথা বলাঃ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ: “ﺗﺒﺴﻤﻚ ﻓﻲ ﻭﺟﻪ ﺃﺧﻴﻚ ﻟﻚ ﺻﺪﻗﺔ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ-১৯৫৬)

✝ আর এর জন্যে স্ত্রী সবচাইতে বেশী হকদার।

২) প্রিয়তমার মুখে খাবারের লুকমা তুলে দেওয়া এবং তার প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্রের দিকে লক্ষ্য রাখাঃ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ: “ﺇﻧﻚ ﻟﻦ ﺗﻨﻔﻖ ﻧﻔﻘﺔ ﺇﻻ ﺃﺟﺮﺕ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺣﺘﻰ ﺍﻟﻠﻘﻤﺔ ﺗﺮﻓﻌﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﻓﻢ ﺍﻣﺮﺃﺗﻚ.” (ﻣﺘّﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ)

৩) প্রিয়তমার পানীয় দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ পান করে তার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দেওয়াঃ
عن ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ: “ﻛﻨﺖ ﺃﺷﺮﺏ ﻭﺃﻧﺎ ﺣﺎﺋﺾ، ﺛﻢ ﺃﻧﺎﻭﻟﻪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ، ﻓﻴﻀﻊ ﻓﺎﻩ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺿﻊ ﻓﻲَّ، ﻓﻴﺸﺮﺏ، ﻭﺃﺗﻌﺮﻕ ﺍﻟﻌﺮﻕ ﻭﺃﻧﺎ ﺣﺎﺋﺾ، ﺛﻢ ﺃﻧﺎﻭﻟﻪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﻓﻴﻀﻊ ﻓﺎﻩ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺿﻊ ﻓﻲَّ، ﻓﻴﺸﺮﺏ.” (ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ)

৪) স্ত্রীর উরুতে টেক দিয়ে শোয়ে তার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা বুঝানোঃ
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ: “ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻳﺘﻜﺊ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﻱ، ﻓﻴﻘﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺃﻧﺎ ﺣﺎﺋﺾ.” (ﻣﺘّﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ)

৫) স্ত্রীর সাথে একই বালতী বা গোসলের পাত্র থেকে গোসল করাঃ
ﻓﻔﻲ ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﺃﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻭﻣﻴﻤﻮﻧﺔ ﻭﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ: “ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﻛﺎﻥ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻫﻮ ﻭﺯﻭﺟﺘﻪ ﻣﻦ ﺇﻧﺎﺀ ﻭﺍﺣﺪ ﺣﺘﻰ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻬﺎ: ﺃﺑﻘﻲ ﻟﻲ ‏(ﺃﻱ ﺍﻟﻤﺎﺀ) ﻭﺗﻘﻮﻝ ﻫﻲ: ﺃﺑﻖ ﻟﻲ.” (ﻣﺘّﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ)

৬) স্ত্রীর সাথে বিনোদন ও মজাক করাঃ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻟﺠﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ: “ﻫﻼ ﺑﻜﺮًﺍ ﺗﻼﻋﺒﻬﺎ ﻭﺗﻼﻋﺒﻚ.” (ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ)
ﻭ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺃﻧﻬﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﻣﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﻓﻲ ﺳﻔﺮ، ﻭﻫﻲ ﺟﺎﺭﻳﺔ، ﻓﻘﺎﻝ ﻷﺻﺤﺎﺑﻪ: ﺗﻘﺪﻣﻮﺍ، ﻓﺘﻘﺪﻣﻮﺍ، ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﻟﻬﺎ: ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺃﺳﺎﺑﻘﻚ.” (ﺍﻟﺴﻠﺴﻠﺔ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ ১/২৫৪)

৭) স্ত্রীকে ঘরের কাজ-কর্মে সহযোগিতা করাঃ
ﺳﺌﻠﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻳﻌﻤﻞ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ؟ ﻗﺎﻟﺖ: ﻛﺎﻥ ﺑﺸﺮﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﻔﻠﻲ ﺛﻮﺑﻪ ﻭﻳﺤﻠﺐ ﺷﺎﺗﻪ ﻭﻳﺨﺪﻡ ﻧﻔﺴﻪ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻷﺩﺏ ﺍﻟﻤﻔﺮﺩ-৪৪৯৬)

৮) স্ত্রীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখাঃ
ﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ عنها ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ: “ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﺑﺪﺃ ﺑﺎﻟﺴﻮﺍﻙ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ)

৯) প্রিয়তমার মনোরঞ্জনে সুগন্ধি ব্যবহার ও উত্তম পোষাক পরিধান করাঃ
ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ: “ﺇﻧﻲ ﺃﺣﺐ ﺃﻥ ﺃﺗﺰﻳﻦ ﻟﻬﺎ ﻛﻤﺎ ﺃﺣﺐ ﺃﻥ ﺗﺘﺰﻳﻦ ﻟﻲ.” (ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ)

১০) প্রিয়তমাকে সংক্ষিপ্ত নামে ডাকা ও এমনসব শব্দ দ্বারা তাকে সম্বোধন করা যা সে পছন্দ করেঃ
ﻛﺎﻥ ﷺ ﻳﻘﻮﻝ لعاﺋﺸﺔ: “ﻳﺎ ﻋﺎﺋﺶ، ﻳﺎ ﻋﺎﺋﺶ ﻫﺬﺍ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻳﻘﺮﺋﻚ ﺍﻟﺴﻼﻡ.” (ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ)

ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻟﻌﺎﺋﺸﺔ ﺃﻳﻀﺎ: “ﻳﺎ ﺣﻤﻴﺮﺍﺀ.” (ﺍﻟﺴﻠﺴﻠﺔ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﺔ-৮১৮/৭)
ﻭﺍﻟﺤﻤﻴﺮﺍﺀ ﺗﺼﻐﻴﺮ ﺣﻤﺮﺍﺀ ﻳﺮﺍﺩ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﺒﻴﻀﺎﺀ.

ﻭﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺃﻳﻀًﺎ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﻞ ﻧﺴﺎﺋﻚ ﻟﻬﺎ ﻛﻨﻴﺔ ﻏﻴﺮﻱ، ﻓﻜﻨّﺎﻫﺎ “ﺃﻡ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ.” (ﺍﻟﺴﻠﺴﻠﺔ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤة -২৫৫/১)

১১) স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি থাকলে সেগুলো থেকে চশমপুশি করা তথা না দেখার ভান করে থাকাঃ
ﻗﺎﻝ ﷺ: “ﻻ ﻳﻔﺮﻙ ‏(ﺃﻱ ﻻ ﻳﺒﻐﺾ) ﻣﺆﻣﻦٌ ﻣﺆﻣﻨﺔ ﺇﻥ ﻛﺮِﻩَ ﻣﻨﻬﺎ ﺧُﻠُﻘﺎً ﺭﺿﻲ ﻣﻨﻬﺎ ﺁﺧﺮ.” (ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ)

১২) প্রিয়তমার প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং কখনো কাঁদলে অশ্রু মুছে দেওয়াঃ
ﻗﺎﻝ ﺃﻧﺲ: ﻛﺎﻧﺖ ﺻﻔﻴﺔ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻓﻲ ﺳﻔﺮ، ﻭﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻳﻮﻣﻬﺎ، ﻓﺄﺑﻄﺄﺕ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﻴﺮ، ﻓﺎﺳﺘﻘﺒﻠﻬﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻭﻫﻰ ﺗﺒﻜﻲ، ﻭﺗﻘﻮﻝ ﺣﻤﻠﺘﻨﻲ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﻴﺮ ﺑﻄﻲﺀ، ﻓﺠﻌﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻤﺴﺢ ﺑﻴﺪﻳﻪ ﻋﻴﻨﻴﻬﺎ، ﻭﻳﺴﻜﺘﻬﺎ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ)

১৩) স্ত্রীর ন্যায্য জবানদরাজী বা বাকবিতণ্ডা বরদাশত করাঃ
ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻗﺎﻝ: ﺻﺨﺒﺖ ﻋﻠﻲّ ﺍﻣﺮﺃﺗﻲ ﻓﺮﺍﺟﻌﺘﻨﻲ ‏(ﺃﻱ ﻧﺎﻗﺸﺘﻨﻲ ﻓﻲ ﻣﻮﻗﻒ)، ﻓﺄﻧﻜﺮﺕُ ﺃﻥ ﺗﺮﺍﺟﻌﻨﻲ! ﻗﺎﻟﺖ: ﻭﻟِﻢَ ﺗُﻨﻜﺮ ﺃﻥ ﺃﺭﺍﺟﻌَﻚ؟ ﻓﻮﺍﻟﻠﻪ ﺇﻥ ﺃﺯﻭﺍﺝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﻟﻴﺮﺍﺟِﻌْﻨﻪ.”
(ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ)

১৪) স্ত্রীর পাকানো খাদ্যে ত্রুটি না খোজাঃ
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: “ﻣﺎ ﻋﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﻃﻌﺎﻣﺎ ﻗﻂ ﺇﻥ ﺍﺷﺘﻬﺎﻩ ﺃﻛﻠﻪ ﻭﺇﻻ ﺗﺮﻛﻪ.” (ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ)

১৫) প্রিয়তমা যে খেদমত আন্জাম দেয় এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাঃ
ﻗﺎﻝ ﷺ: “ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﺸﻜﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻟﻢ ﻳﺸﻜﺮ ﺍﻟﻠﻪ.”
(ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﻭﺍﻟﺘﺮﻫﻴﺐ-৯৭৬)

১৬) স্ত্রীর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও বান্ধবীদের প্রতি সম্মান দেখানোঃ
ﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ: “ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻟﻴﺬﺑﺢ ﺍﻟﺸﺎﺓ ﻓﻴﺘﺘﺒﻊ ﺑﻬﺎ ﺻﺪﺍﻳﻖ ﺧﺪﻳﺠﺔ ﻓﻴﻬﺪﻳﻬﺎ ﻟﻬﻦ.” ‏(ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ)

১৭) স্ত্রীকে সবসময়ের জন্যে জীবনসঙ্গী হিসাবে রাখার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়াঃ
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻋﻦ ﻗﺼﺔ ﺃﻡ ﺯﺭﻉ ﻭﺯﻭﺟﻬﺎ ﺍﻟﺬﻱ ﻛﺎﻥ ﻳﺤﺴﻦ ﺇﻟﻴﻬﺎ ﺛﻢّ ﻓﺎﺭﻗﻬﺎ؛ ﻗﺎﻝ ﷺ ﻟﻌﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻋﻨﺪﻫﺎ: “ﻛﻨﺖ ﻟﻚ ﻛﺄﺑﻲ ﺯﺭﻉ ﻷﻡ ﺯﺭﻉ ﻏﻴﺮ ﺃﻧﻲ ﻻ ﺃﻃﻠﻘﻚ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ)

১৮) দুঃসময় ও বিপদ-আপদে প্রিয়তমার পাশে থাকা ও অসুস্থ হলে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করাঃ
ﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ عنها ﻓﻲ ﻗﺼّﺔ ﺍﻹﻓﻚ: ﻛﻨﺖ ﺇﺫﺍ ﺍﺷﺘﻜﻴﺖ ﺭﺣﻤﻨﻲ ﷺ، ﻭﻟﻄﻒ ﺑﻲ، ﻓﻠﻢ ﻳﻔﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺑﻲ ﻓﻲ ﺷﻜﻮﺍﻱ ﺗﻠﻚ ﻓﺄﻧﻜﺮﺕ ﺫﻟﻚ ﻣﻨﻪ ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻲ ﻭﻋﻨﺪﻱ ﺃﻣﻲ ﺗﻤﺮّﺿﻨﻲ ﻗﺎﻝ: ﻛﻴﻒ ﺗﻴﻜﻢ! ﻻ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ.”
‏(ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ)

ﻭﻋﻨﻬﺎ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ: “ﻛﺎﻥ ﷺ ﺍﺫﺍ ﻣﺮﺽ ﺃﺣﺪٌ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﻧﻔﺚ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﺎﻟﻤﻌﻮﺫﺍﺕ.” (ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ)

১৯) ইবাদত-বন্দেগী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম আদায়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সহযোগিতা করাঃ
ﻗﺎﻝ ﷺ: “ﺭﺣﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺟﻼً ﻗﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ، ﻓﺼﻠﻲ ﻭﺃﻳﻘﻆ ﺍﻣﺮﺃﺗﻪ، ﻓﺄﻥ ﺃﺑﺖ ﻧﻀﺢ ﻓﻲ ﻭﺟﻬﻬﺎ ﺍﻟﻤﺎﺀ.” (ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ)

২০) প্রিয়তমাকে নির্ভয় দেওয়া, আস্থাশীল রাখা ও ভয় না দেখানোঃ
ﻧﻬﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ: “ﺃﻥ ﻳﻄﺮﻕ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺃﻫﻠﻪ ﻟﻴﻼً ﻭﺃﻥ ﻳﺨﻮﻧﻬﻢ، ﺃﻭ ﻳﻠﺘﻤﺲ ﻋﺜﺮﺍﺗﻬﻢ.” (ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ)

২১) ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় প্রিয়তমাকে চুমু খেয়ে নির্ভেজাল ও স্বচ্ছ ভালবাসা প্রদর্শন করাঃ
ﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ: “ﻗﺒّﻞ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﷺ ﺑﻌﺾ ﻧﺴﺎﺋﻪ ﺛﻢ ﺧﺮﺝ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﻮﺿﺄ.” (ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﻗﻮّﺍﻩ)

Duties of Husband in the eye of Islam

Duties of Husband

“আদর্শ স্বামীর গুণাবলী
___________________________

👉আল্লাহ তা’আলা আপনাকে একজন স্ত্রী দান করেছেন,সে জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন।
আল্লাহর শোকর আদায় করুন।
👉স্ত্রীকে বুঝবার চেষ্টা করুন।
তার জ্ঞাণ- বুদ্ধি,মন-মানসিকতা,স্বভাব-প্রকৃতি,দক্ষতা, গুণাবলী,দোষত্রুটি জেনে নিন।
👉তাকে আপনার মনমত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
👉তার জ্ঞাণ-বুদ্ধি,যোগ্যতা,প্রতিভা ও গুণাবলীকে বিকশিত করে তুলুন।
তাকে সর্বগুণে ফুলের মত প্রস্ফুটিত করে তুলুন।
👉তার মধ্যে যেসব ত্রুটি ও কমতি আছে,একজন সুচিকিৎসকের মত সেগুলি নিরাময় করুন।
👉তাকে হৃদয়ের গহীন থেকে ভালোবাসুন।গভীরতম ভালোবাসুন।
এবং একান্ত নিজের করে নিন।
👉তার সাথে হাসিমুখে ও মিষ্টি মিষ্টি কথা বলুন।
👉তাকে সাথে করে বেড়াতে যান।
তার মনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রাখুন।
👉তার সাথে উত্তম আচরণ করুন।তার ভালো গুণাবলীর প্রশংসা করুন।
ছোটখাট ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করুন।
👉.তার ভরসাস্থল ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হোন।
👉তার পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন।
👉তার অবদানের স্বীকৃতি দিন।
👉.আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী তার বৈধ সকল দাবী পূরণে চেষ্টা করুন।
👉কথা,কাজ,রাগ-অনুরাগে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
👉.তার ভালো দিকগুলো বিবেচনা করে মন্দ দিকগুলো ভুলে থাকুন।
👉নিজেকে তার কাছে পরিস্কার রাখুন।সন্দেহের কারণ হবেন না।
👉.আপনার জন্য কষ্ট ও আপনাকে উপকার করলে তাকে শুকরিয়া জ্ঞাপন করুন।
👉তাকে বিশ্বাস করুন,তার প্রতি আস্থা রাখুন।
👉মাঝে মধ্যে তাকে কিছু উপহার দিন।
👉তার মন ও আবদার রক্ষা করুন।
👉.নিজের দায়িত্ব ও সংকট নিয়ে প্রয়োজন মত তার সাথে আলোচনা করুন।
👉.আপনার কর্মব্যস্ততা সম্পর্কে তাকে অবহিত করুন।
👉তাকে সবসময় কিছু হাত খরচ দিন।
👉তার উপার্জিত অর্থে আপনি হস্তক্ষেপ করবেন না।
👉তার অভিযোগ ও অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখুন এবং দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করুন।
👉তার যে কোন ভালো প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
👉সর্বদা তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখুন।অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
👉.কোন ভুল করলে স্বীকার করুন।অন্যায় করলে অনুতপ্ত হোন।
অযথা তাকে জ্বালাতন করবেন না।
👉.তাকে বন্ধু বানিয়ে নিন।
তার সাথে বন্ধুর মত হৃদ্যতা গড়ে তুলুন এবং তার সাথে বন্ধুর মত আচরণ করুন।
👉.মায়ের অনুপস্থিতিতে তাকে ঘরের কর্তৃত্ব দিন।
👉.সন্তানদের ব্যাপারে তার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন।
👉.কখনো অন্যের কাছে তার বদনাম করবেন না।
👉.তার আত্মীয়-স্বজনদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করুন।
👉ঘরের কাজে সাধ্যমত সহযোগীতা করুন।
👉.কখনো তার অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না।
👉.কখনো কারো সামনে তাকে অপমানিত করবেন না।
👉.স্ত্রীর মনের মত হবার চেষ্টা করুন।এবং এ ব্যাপারে তার অনূভুতি জানুন।
👉তার সামনে কখনো তার আত্মীয় স্বজনদের দুর্নাম করবেন না।
👉.তাকে আপনার সাধ্যমত সময় দিন।
👉.দ্বীনের উপর চলা ও অটল থাকার ব্যাপারে তাকে সর্বপ্রকার সহায়তা করুন।
👉তার কল্যাণকামী হোন।
তার কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সঠিক ভাবে বোঝার তাওফিক দান করুন।।আমিন।।

 

বিশেষ আহবান!

#SDS/এস ডি এস ( সুবিদপুর দরবার শরীফ ) এর #IDC/#আইডিসি (Islami Dawah Center) সম্পূর্ণ স্ব-উদ্যোগে পরিচালিত একটি অ-লাভজনক সংগঠন। বর্তমানে এর ব্লগ প্রজেক্টে বিভিন্ন খাতে (ডোমেইন, হোস্টিং, CDN, রাইটিং কন্টেস্ট, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, কনটেন্ট কোঅর্ডিনেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অনলাইন মার্কেটিং) মাসে গড়ে 15,০০০+ টাকা খরচ হয়। ভবিষ্যতে ব্লগটি প্রচারের জন্য আমাদের বড় আকারে বিজ্ঞাপনের (advertising) দিকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তখন মাসিক খরচ আরও বেড়ে যাবে। যেটা অনেকাংশেই আমাদের জন্য চ্যলেঞ্জিং একটা বাপার।

সেকারণে, IDC  সামনে এগিয়ে যাবার জন্য সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের প্রার্থনা, তদুপরি এর প্রোজেক্টে আপনাদের সাহায্যের একান্ত প্রয়োজন। আমাদের এমন কিছু ভাই, বোনদের দরকার যারা IDC প্রতি বছরে অথবা প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ সাহায্য দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আমাদের পথ চলা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। যারা বাৎসরিক বা মাসিক ভিত্তিতে সাহায্য করবেন তারা IDC টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে যে সকল ভাই, বোনেরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান তারা এখানে ক্লিক করুন।অথবা আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

যোগাযোগ

আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে #এসডিএসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইলঃ +৮৮ ০১৭১৬ ৯৮৮ ৯৫৩

ফেসবুক গ্রুপ লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/groups/IslamiDawahCenter/

ফেসবুক পেইজ লিঙ্কঃ  https://www.facebook.com/IslamiDawahCenter/

ইমেইলঃ shubidpurdorbarshorif@gmail.com

ওয়েব সাইট: https://www.islamidawahcenter.com/

স্কাইপিঃ sdshorif

মোবাইলঃ +88 01737 196 111

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।