বিপদের সময় পাঠ করার দোয়া

বিপদের সময় পাঠ করার দোয়া: হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন—

দোয়া : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল হাকীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি- ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।

অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমিন ও মহাসম্মানিত আরশের প্রভু। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

 

 


বিপদ-আপদ মানুষের নিত্যসঙ্গী। বিপদ বলে-কয়ে আসে না। কখন কার ওপর সমস্যা, দুর্বিপাক নেমে আসে তা কেউ জানে না। স্বাভাবিকত বিপদ বা সঙ্কটে পড়লে মানুষ হতবিহ্বল হয়ে যায়। মানুষের চিন্তা-ভাবনা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। দিশেহারা হয়ে করণীয় ভুলে যায়।

 

বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। তিনিই একমাত্র উদ্ধারকারী। তিনি চাইলে মুহূর্তেই বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারেন। পেরেশানির কুহেলিকা হটিয়ে দিতে পারেন।

বিপদাপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য পবিত্র কোরআন এবং রাসুল (সা.) এর হাদিসে কিছু দোয়াও আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রা.) বলেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)- এর ওপর কোনো কাজ কঠিন হয়ে দেখা দিত, তখন তিনি এ দোয়াটি পড়তেন।’ (তিরমিজি মিশকাত, হাদিস নম্বর: ২৪৫৪)

উচ্চারণ: ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’

অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে বিশ্ব চরাচরে ধারক! আমি তোমার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

দোয়ায়ে ইউনুস (আ.): রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মাছের পেটে ইউনুস (আ.) এ দোয়া পড়ে আল্লাহকে ডেকে ছিলেন এবং মুক্তি পেয়েছিলেন। যদি কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে এ দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তা কবুল করবেন।’ (আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত, হাদিস নম্বর: ২২৯২)।

উচ্চারণ: ‘লাইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতুমিনাজ্জালিমিন’ (সুরা আম্বিয়া: ২১/৮৭)
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আসুন জেনে নেই, আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কী দোয়া চাইবেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

অর্থ: আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চেয়ে ভালো কিছু দান করুন। -সহিহ মুসলিম

হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যদি এই দোয়া পাঠ করে- আল্লাহতায়ালা তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।

ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন: hi@islamidawahcenter.com অথবা কল করুন ০১৭১৬ ৯৮৮ ৯৫৩

বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার ৫ দোয়া

এ দোয়াগুলো খুবই ছোট, যা সহজে মুখস্থ ও আমল করা যায়। নিম্নে ৫টি দোয়া পেশ করা হলো-

(১) সব ধরনের অনিষ্টতা থেকে হেফাজতের দোয়া:

হজরত ওসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেহ সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করলে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

দোয়া: বিসমিল্লাহিল্লাজী লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম।

অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। -তিরমিজি ও আবু দাউ

(২) কোনো সম্প্রদায় থেকে ক্ষতির আশংকা হলে দোয়া:

হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করতেন তখন বলতেন—

দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহীম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহীম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (আবু দাউদ ও নাসাই)

(৩) বিপদ-মসিবতের সময় পাঠ করার দোয়া:

হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যদি এই দোয়া পাঠ করে- আল্লাহ তায়ালা তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।

দোয়া: ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসিবাতী ওয়া আখলিফ-লী খাইরাম মিনহা।

অর্থ: আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চেয়ে ভালো কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম)

(৪) বিপদের সময় পাঠ করার দোয়া:

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন—

দোয়া: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল হাকীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি- ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমিন ও মহাসম্মানিত আরশের প্রভু। (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

(৫) ঋণ মুক্তির দোয়া:

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক চুক্তিবদ্ধ দাস তার কাছে এসে বলে, আমি আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, আমি তোমাকে এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব যা আমাকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছিলেন। যদি তোমার ওপর পর্বত পরিমাণ দেনাও থাকে তবে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেন, তুমি পাঠ করবে—

দোয়া: আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলীকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার হালাল দ্বারা আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ভিন্ন অপরের মুখাপেক্ষি হওয়া থেকে স্বনির্ভর কর। (তিরমিজি ও বায়হাকি)

পিতা-মাতা, সন্তান ও নিজের জন্য সবসময় যে দোয়া পড়া আবশ্যক।

মহান আল্লাহ তায়ালা পূববর্তী যুগের অনেক নবী-রাসূলদের দোয়া ও আহ্বানকে পবিত্র কোরআনুল কারিমে তুলে ধরেছেন। যাতে মুসলিম উম্মাহ সে সব আহ্বান বা দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের জন্য দোয়া করতে পারে।

হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নিজের সন্তান-সন্তুতি ও বংশধরদের জন্য দোয়া করার পর মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা যা গোপন করি আর যা প্রকাশ করি নিশ্চয়ই আপনি তা জানেন। হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আপনার কাছে গোপন থাকে না।’

তাই তিনি নিজের ও বংশধরদের জন্য এবং নিজের পিতা-মাতার জন্য দোয়া করেছিলেন। সে দোয়া মহান আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় হওয়ায় তিনি তা মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র কোরআনে পেশ করেছেন। যাতে মানুষ নিজেদের জন্য এ দোয়ার মাধ্যমে তার কাছে আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে।

দোয়াটি হলো-

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ – رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ:

রাব্বিজ আলনী মুক্বিমাস সালাতি ওয়ামিন জুররি ইয়াতি, রাব্বানা ওয়াতাকাব্বাল দুয়া, রাব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওয়া ইয়াকুমুল হিসাব।

অর্থ:

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানাও এবং আমার বংশধরদের থেকেও (নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী) বানাও; হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল কর। হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং বিশ্বাসীদেরকে ক্ষমা কর।’ (সূরা ইব্রাহিম: আয়াত ৪০-৪১)

মুসলিম উম্মাহর উচিত, নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরবর্তী বংশধরদেরকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তৈরি করতে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা। আর এ দোয়াসহ অন্যান্য সব আবেদন-নিবেদন কবুল করার আবেদনও করা, আল্লাহুম্মা আমিন।

প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে এই দোয়া পড়বেন!

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া শুরু হতো তখন হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়া পড়তেন-

দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি; ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়াশাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এর ভালো দিকটির প্রতি, এতে যে কল্যাণ রয়েছে এবং একে যে উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে তার ভালো দিকটি প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার কাছে এর মন্দ দিকটি থেকে, এর মধ্যে যে অকল্যাণ রয়েছে, তা থেকে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে তার মন্দ দিক থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। 

বলা হয়েছে, আকাশ থেকে যখন আল্লাহ পরীক্ষাস্বরূপ দুনিয়ার জমিনের ওপর বিভিন্ন আজাব-গযব প্রেরণ করেন, তখন যদি বান্দা দোয়া কালাম পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে, তাহলে বিপদ-আপদ মধ্যম আকাশে স্থির হয়ে পড়বে। আল্লাহ আজাব-গযব পুনরায় আকাশে উঠিয়ে নেবেন।

আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র কোরআনে নির্দেশ প্রদান করেছেন, বিপদ-আপদে নামাজ এবং ধৈর্য্যর মাধ্যমে তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করতে। 

সুতরাং বিপদের সময় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, নফল রোজা রাখা, সূরা ফাতেহা পাঠ করা, দুরূদ শরীফ পাঠ করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, দোয়ায়ে ইউনূছ প্রভৃতি পাঠ করা উত্তম। 

বিপদের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করলে বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। বিপদাপদ মানবজীবনের অংশবিশেষ। তাই বিপদ দেখে ঘাবড়ানো চলবে না, সেই সঙ্গে ধৈর্য্যধারণ করতে হবে এবং নিজেকে আল্লাহর হাওলায় সোপর্দ করে দিতে হবে।

 

বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়বে! 

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব ও হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে নিম্নোক্ত দোয়াটি বলবে; তার প্রতি ঐ বিপদ কখনো পৌঁছবে না; সে যেখানেই থাকুক না কেন। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

উচ্চারণ
‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাজি আ’-ফা-নি- মিম্মাবতালা-কা বিহি- ওয়া ফাদ্দালানি- আ’লা- কাছি-রিম মিম্মান খালাক্বা তাফদি-লা-।’
অর্থ
সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে যাতে (যে বিপদে) পতিত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির অনেক জিনিস অপেক্ষা অধিক মর্যাদা দান করেছেন।’

এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, কোনো ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত ও সমস্যা জর্জরিত কোনো ব্যক্তিকে দেখে এ দোয়াটি পড়লে কোনো মসিবতে পড়বে না।

সতর্কতা-
আলেমগণ বলেছেন, কোনো রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে এ দোয়া নিম্নস্বরে পড়তে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির মনে কোনো ব্যথা না পায়।

আবার যে ব্যক্তি প্রকাশ্য পাপাচারিতা ও পার্থিব বিষয়ে বেশি পেরেশান। তখন এ দোয়া উচ্চঃস্বরে পড়বে, যাতে সে নিজের পাপ ও পার্থিব বিষয়ের কারণে লজ্জিত হয় এবং তা থেকে ফিরে আসে।

উচ্চঃস্বরে এ দোয়া পড়লে যদি ফেতনার আশংকা থাকে তবে নিম্ন স্বরে পড়াই ভালো।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শারীরিক, পার্থিব এবং দ্বীনি সব ধরনের বিপদ ও সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে বিশ্বনবির শিখানো দোয়া পড়ে তা থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

বিপদে পড়লে আমাদের যা যা করতে হবে!

বিপদাপদে হতাশা বাড়ে, অনেকেই প্রায় ই আমরা এমন কথা বলে ফেলি “আমার সাথেই কেন?”, নিজে বুঝিও না এসব বাক্য কুফরীসুলভ। আল্লাহ্‌ নারাজ হন এমন অভিব্যক্তি প্রকাশকারী উপর।
.
দুনিয়া আল্লাহ’র পক্ষ থেকে পরীক্ষার জায়গা, আল্লাহ তা’লা প্রত্যেক মানুষকেই পরীক্ষা করেন/করবেন এবং করতে ই থাকবেন, বুঝার বিষয় সবার পরীক্ষাই এক স্তরের নয়।
.
দুই শ্রেনির মানুষ, যাদের উভয়কেই আল্লাহ্‌ বিপদ আপদ বালা মুসিবত দিয়ে পরীক্ষা করেন, এক নেক্কারদেরকে (যখন আল্লাহ্‌ ওই বান্দাকে আরো কাছে টেনে নিতে চায়) আর বদকারদেরকেও (কষ্টে ফেলেন গুনাহের কারেন অবশেষে ফিরে আসে কিনা দেখতে চান)।
.
কোর’আনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা স্পষ্ট করেছেন, বান্দাকে পরীক্ষা করবেন বার বার। সূরা বাকারা’র ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ অর্থ, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। (হে নবী!) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।”
.
জান মাল বিভিন্ন ভাবে হ্রাস বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ঈমানি পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা দেখতে চান মানুষ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারছে কি না হোক সে নেক্কার কিংবা বদকার, এখানে বালা-মুসিবতের সময় কি ধরনের আচরণ করে তাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, আল্লাহু আ’লাম। কখনো এই পরীক্ষা কারো জন্য মহব্বতের বর্হি প্রকাশ আবার কারো জন্য শাস্তি স্বরুপ।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

 

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  এই লিংক দুটি ( লিংক০১ ও লিংক০২ ) ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

পরের আয়াতেই আল্লাহ্‌ তা’আলা স্পষ্ট করছেন বান্দা’র বিপদের সময়কার অবস্থা (সূরা বাকারা – আয়াত ১৫৬)’তে আল্লাহ্‌ বলেছেন, الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ অর্থ, “তারাই ধৈর্যশীল যারা বিপদের সময় বলে আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তারই দিকে ফিরে যাব।”
.
হক্কানি আলেম উলামা বলেন, এখন আপনি আমি বিপদে পড়লেই বুঝা যাবে আল্লাহ্‌ আমার উপর যেই বিপদ দিলেন সেটা কি উনার মহব্বত থেকে কাছে টেনে নিতে নাকি কষ্ট দিতে। নেক্কার বান্দারা এই আয়াতের মর্মার্থ ধৈর্য ধারন করেন, বেশি বেশি আল্লাহ’র স্মরণ করেন। আর বান্দা যদি অধৈর্য হয় উল্টা পাল্টা ধারণা মনে আসে তাহলে বুঝতে হবে এটা তার শাস্তি স্বরুপ।
.
তাই অধৈর্য হয়ে বিপদাপদে কুফরীসুলভ কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করলে সমস্যা। আল্লাহ’র উপর সম্পূর্ণ ভরসা করতে হবে, উনি বালা মুসিবত দূর করবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা সূরা আত ত্বালাকের ৩য় আয়াতে বলেন, وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا অর্থ, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট।
.
আল্লাহ’র অফুরন্ত নেয়ামত আমাদের উপর, কোটি ভ্রূণ থেকে আমাকে আপনাকে পৃথিবীতে পাঠালেন। এমন অনেক মানুষ আছে যারা ঠিক মত খেতে পায়না, হাত নাই পা নাই, কথা বলতে পারেনা, এগুলোর অভাব ত নেই ই, আমাদের ত ভাই আল্লাহ্‌ দয়া মায়া করে সুস্থ রেখেছেন, অবসরও দিয়েছেন। তবুও কত শিকায়েত আমাদের, এটা নাই সেটা নাই। একটু কষ্টের হালতে পরলেই, বলি “আল্লাহ্‌ আমাকে ই দেখে”! আহা কত নিয়ামতের শুকরিয়া ভুলে ই বসে আছি। তাই আমাদের অন্তত বিপদে ধৈর্য ধারণ করত আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।
.
বিপদ-সংকটকে নিজেদের আত্মাকে শক্তিশালী করার মাধ্যম বলে মনে করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে কেন, এই বালা মুসিবত – বিপদাপদ ত আমাদের ই কামাই। সূরা বাকারা ২৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ অর্থ, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।”
.
পরিস্থিতি যাই হোক, বেশি বেশি আল্লাহ’র স্মরণ করি, নিয়মাতের শুকরিয়া আদায় করি, একটু মনে রাখতে চেষ্টা করি, আল্লাহ’র স্মরণ ব্যতীত শান্তি কোথায়! আল্লাহ্‌ কোর’আনে বলছেন সূরা রা’দ আয়াতঃ ২৮ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ অর্থ, “জেন রাখো, আল্লাহ’র স্মরণেই আন্তরে প্রশান্তি।” মনে শান্তি নাই কেন বুঝলেন ত ভাই? আপনার আমার রবকে আপনি আমি একেবারেই যে ভুলে বসে আছি!
.
ভাই একটু বুঝুন।
আল্লাহ্‌ বুঝার ত্বাউফিক দিক।
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

Written By: Abdullah Abu Taher

 

বিপদ-আপদকে হাসিমুখে বরণ করুন।

বিপদ-আপদকে হাসিমুখে বরণ করুন। কারণ বিপদ আসে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে।
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত কে? উত্তরে তিনি বলেন, “নবীগণ। অতপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী, অতপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। দ্বীনি অবস্থান পাকাপোক্ত হলে পরীক্ষা কঠিন হয়। দ্বীনি অবস্থান দুর্বল হলে পরীক্ষাও শিথিল হয়। বিপদ-আপদ ঈমানদার ব্যক্তিকে পাপশূন্য করে দেয়। একসময় সে দুনিয়াতে নিষ্পাপ অবস্থায় বিচরণ করতে থাকে।” (তিরমিযি, ইবনু মাজাহ, সহিহ আল জামে’: ৯৯২)
.
ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

‍”দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট আর বিপদাপদ যদি না থাকত, তাহলে বান্দাকে অহংকার, বড়াই, গর্ব ও হৃদয়ের কাঠিন্য এমনভাবে পেয়ে বসত যে, এগুলো তার দুনিয়া ও আখিরাতের পতনের কারণ হয়ে যেত।” [আত-তিব্বুন নাবাবি: পৃ. ১৯১]

 

বিপদের সময় কি পড়বেন?

বিপদের সময় কি পড়বেন?
——————
উম্মে সালামা রা. বলেন আমি রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যদি কোন মুসলিম কোন বিপদে পড়ে, আর সে এজন্য এভাবে দোয়া করে…
.
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ – اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا
উচ্চারণঃ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি র-জিঊন। আল্লাহুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী, ওয়া আখলিফলী খইরম্মিনহা-
অর্থঃ আমরা আল্লাহর জন্যই, এবং তার কাছেই ফিরব। ও আল্লাহ! আমাকে বিপদের জন্য প্রতিদান দাও, এবং এর বিপরীতে আমাকে এরচেয়ে উত্তমটা দান করো”
.
– তাহলে আল্লাহ হয়তো সে বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করবেন, অথবা এর বিনিময়ে এরচেয়ে উত্তর কিছু দান করবেন।
উম্মে সালামা রা. বলেন, আমার স্বামী মারা গেল। আমি ভাবছিলাম সালমার বাবার চেয়েও উত্তম মুসলিম কে হতে পারে? তবে আমি ওভাবে দোয়া করলাম। এর ফলে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাকে রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন!!
– সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৯১৮


আমার নিজের অভিজ্ঞতায় রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস ১০০ তে ১০০ভাগ সত্য পেয়েছি। কখনও বরং আমি দুইটা একসাথেই পেয়েছি, আল্লাহ বিপদ থেকে উদ্ধারও করেছেন, সাথেসাথে এরচেয়ে উত্তমটাও দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

দুটি সিরিয়াস বিপদজনক খবর!

১। প্যারিসে চলছে ভয়াবহ হিট ওয়েভ। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ। জারি হয়েছে রেড এ্যালার্ট। ইতালির সাতটি শহরেও রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ইউরোপের আরো অনেক দেশে নরক নেমে আসছে।
২। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে সুন্দরবন। “ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা যেসব জায়গা বিপদাপন্ন সেগুলোর সংরক্ষণের চিত্র ঘেঁটে দেখা হবে। সুন্দরবনকে এখন বন্যপ্রাণীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
# এছাড়া এর কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া, বন উজাড়সহ পরিবেশবিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবনকে ইউনেস্কো বাদ দিতে পারে।”
# দুটির কোনটাই আমাদের জন্যে তেমন গুরুত্বপূর্ণ না, তাই না? প্যারিসে হিট ওয়েভ চললে আমাদের কী ! সুন্দরবন নিয়ে অবশ্য একটু আহা-উহু করা যেতেই পারে।
# ঠিক আছে, আরেকটা খবর দেই। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে পানি নেই। ভারতের অনেক শহরেও পানির তীব্র অভাব।
# আমরাও ঠিক এই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পানি থাকবে না, ছায়া থাকবে না, সবুজ থাকবে না,
# থাকবে খালি উন্নয়ন, থাকবে খালি এনার্জি।
# কী ভেবেছেন? ধরিত্রী প্রতিশোধ নিতে পারে না? ধরিত্রী সর্বংসহা? জ্বী না। তার ওপর করা অনাচার সব সে ফিরিয়ে দিবে। অস্ট্রেলিয়ার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকতে ইন্দোনেশিয়ার সাগর থেকে প্লাস্টিকের প্রবাহ এসে জমা হচ্ছে। জলবায়ূ পরিবর্তন সম্পর্কে এতদিন যেসব ভয়ের গল্প শুনতেন, সেসব এবার সত্যি হচ্ছে। আপনি আর আমি খুব দ্রুতই টের পাবো।
আরো করেন নদী দখল, সুপেয় পানিতে মিশিয়ে দেন কেমিকেল, আরো করেন বন উজার, তৈরি করেন প্লাস্টিক অরণ্য! নদীকে উদ্ধার করতে এলে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে পাঠায়ে দেন! খুব জোর, তাই না? খুব দ্রুতই ফল পাবেন। দেখা যাবে কত জোর।

তবে কিছুটা আশার বানী হচ্ছে, কীভাবে এইসব পরিস্থিতি থেকে নিজে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবেন “আই ডি সি ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসায়” তা শিক্ষা দেয়া হবে আপনাকে এবং আপনার বাচ্ছাকে।

তাই, আমাদের বিশেষ অনূরোধ, আপনার বাচ্ছাকে অন্য প্রতিষ্ঠানে দেয়ার আগে ” আই ডি সি ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসা ” একবার ভিজিট করার অনুরোধ রইলো।

দূর আলাপোনীঃ ০১৭১৬ ৯৮৮ ৯৫৩ ( বালক শাখা) ০১৯১২ ৯৬৬ ৪৪৮ ( বালিকা শাখা)

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

 

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  এই লিংক দুটি ( লিংক০১ ও লিংক০২ ) ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

 

কুনুতে নাজেলাহ পড়ার বিধান ও পদ্ধতি

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম,

জমহুরের মতে কুনুতে নাজিলাহ পড়ার বিস্তারিত বিধান কী? কুনুতে নাজিলাহ পড়ার সময় হাত তুলে মুনাজাত করা বা করার ব্যাপারে জমহুরের মত কী? (দলীলসহ)

মোহাম্মদ জাহিদুল আলম

অস্ট্রেলিয়া

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

মুসলমানদের উপর কোন বিপদ আপদ আসলে, ইসলামের শত্রুদের জন্য হেদায়াতের দুআ বা বদদুআ করার জন্য ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে কুনুতে নাজেলা পড়া মুস্তাহাব।সর্বদা ফজরের নামাযের সময় এমনটি করবে না। বাকি যদি কেউ করে, তাহলে সেটিকে বাতিল বলে বাঁধা দেবারও প্রয়োজন নেই। তবে কথা হল, কুনুতে নাজেলা শুধু বিশেষ মুহুর্ত তথা ব্যাপক বিপদ, যুদ্ধকালীন সময় ইত্যাদি মুসিবতের সময় পড়াই মুস্তাহাব।

أَبُو مَالِكٍ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ  إِنَّكَ قَدْ ” صَلَّيْتَ خَلْفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “، وَأَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ، وَعَلِيٍّ هَاهُنَا بِالْكُوفَةِ، قَرِيبًا  مِنْ خَمْسِ سِنِينَ، أَكَانُوا يَقْنُتُونَ؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ، مُحْدَثٌ

হযরত আবু মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আমার পিতা! নিশ্চয় আপনি রাসূল সাঃ, হযরত আবু বকর রাঃ, হযরত উমর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ ও হযরত আলী রাঃ এর পিছনে কুফায় প্রায় পঞ্চাশ বছর নামায পড়েছেন, তারা কি ফজরের নামাযে সর্বদা কুনুত [নাজেলাহ] পড়তেন? তিনি বললেন, হে আমার বৎস! না এটি নতুন করে শুরু হয়েছে। [আগে পড়া হতো না]। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৫৮৭৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১২৪১, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪০২, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৪৭৪, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-১২৯২}
হাদীসটি সহীহ।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَقْنُتُ إِلَّا أَنْ يَدْعُوَ لِقَوْمٍ عَلَى قَوْمٍ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى قَوْمٍ أَوْ يَدْعُوَ لِقَوْمٍ، قَنَتَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ফজরের নামাযের সময় সর্বদা কুনুত [নাজেলাহ] পড়তেন না। শুধু পড়তেন কোন জাতির জন্য দুআ করতে বা বদদুআ করার প্রয়োজন হলে।তিনি কুনুত পড়তেন যখন ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে মাথা উঠাতেন। {সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১০৯৭, নসবুর রায়াহ, আলমুসনাদুল জামে, আসারুস সুনান-২/২০}

আল্লামা নিমাভী রহঃ বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقْنُتْ فِي الْفَجْرِ إِلَّا شَهْرًا وَاحِدًا، لَمْ يُرَ قَبْلَ ذَلِكَ، وَلَا بَعْدَهُ يَدْعُو عَلَى أُنَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ»

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূল সাঃ ফজরের নামাযের সময় কুনুত পড়তেন না, শুধুই একমাস পড়েছিলেন। এর আগে বা পড়ে আর এমনটি করতে দেখা যায়নি। সে সময় তিনি কিছু মুশরিকদের উপর বদদুআ করতে পড়েছিলেন। {মুসনাদে আবী হানীফা বিরিওয়াতে হিসকাফী, হাদীস নং-৩৪}

ان قنوت النوازل لم ينسخ بل هو مشروع اذا نزل بالمسلمين نازلة ان يقنت الامام في الفجر –

অর্থাৎ, কুনুতে নাজেলা রহিত হয়নি বরং তা এখনো বহাল রয়েছে। মুসলমানদের দুর্যোগ কালে ফজরের নামাজে ইমাম কুনুত পড়বে। (এলাউস সুনান – ৬/৮১)

মুসলমানদের উপর যদি ব্যাপক বালা-মুসিবত ও বিপদ আসে, তাহলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার নিকট সাহায্য কামণার্থে কুনুতে নাজেলা পড়া মুস্তাহাব। রাসূল সাঃ বিপদ আপতিত হলে ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় কুনুতে নাজেলা পড়েছেন। {সহীহ বুখারী-২/৬৫৫, তাহাবী শরীফ-১/১৭৪, সহীহ মুসলিম-১/২৩৭}

তাই হানাফী মাযহাব মতে কাফের, মুশরিক ও জালেমদের পক্ষ থেকে বা আসমানী কোন বিপদ আসলে কুনুতে নাজেলা পড়া উচিত। {ফাতওয়ায়ে শামী ২/৪৪৮-৪৪৯}

কুনুতে নাজেলা পড়ার পদ্ধতি

ফজরের নামাযের ফরজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে ইমাম আওয়াজ করে দু’আ পড়বেন, আর মুসল্লিগণ আস্তে আস্তে আমীন বলবেন। দুআ শেষে নিয়ম মোতাবিক সেজদা, শেষ বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে নামায শেষ করবেন। (এলাউস সুনান – ৬/৮১)

হাত তোলে দুআ করার পক্ষে কোন প্রমাণ আমাদের নজরে আসেনি।

কুনুতে নাজেলা

اللَّهُمَّ اهْدِنَا فِيمَنْ هَدَيْتَ ، وَعَافِنَا فِيمَنْ عَافَيْتَ ، وَتَوَلَّنَا فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ ، وَبَارِكْ لَنَا فِيمَا أَعْطَيْتَ ، وَقِنَا شَرَّ مَا قَضَيْتَ ، إِنَّكَ تَقْضِى وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ ، إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ (سنن البيهقى الكبرى، رقم الحديث-2960)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ ، اللَّهُمَّ الْعَنْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكُذِّبُونَ رُسُلَكَ ، وَيُقَاتِلُونَ أَوْلِيَاءَكَ اللَّهُمَّ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمَ ، وَزَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ ، وَأَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِى لاَ تَرُدُّهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ ، وَلَكَ نُصَلِّى وَنَسْجُدُ ، وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ ، نَخْشَى عَذَابَكَ الْجَدَّ ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ. (سنن البيهقى الكبرى، رقم الحديث-2962

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে, লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমি নবী ইউনুসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তাকে দু:খ থেকে মুক্তি দিয়েছি। অনুরূপভাবে যে মুমিনরা এ দোয়া পড়বে আমি তাদেরও বিভিন্ন বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি দিব।

বিভিন্ন ধরনের বালা-মুসিবত দূর করার আমল
দোয়া: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জালিমীন।

অর্থ: আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী। -সূরা আল আম্বিয়া: ৮৭

ফজিলত
ক. এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমি নবী ইউনুসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তাকে দু:খ থেকে মুক্তি দিয়েছি। অনুরূপভাবে যে মুমিনরা এ দোয়া পড়বে আমি তাদেরও বিভিন্ন বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি দিব। -সূরা আল আম্বিয়া: ৮৮

খ. হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজরত ইউনুস (আ.)-এর ভাষায় দোয়া করবে, সে যে সমস্যায়ই থাকুক আল্লাহতায়ালা তার ডাকে সাড়া দিবেন। -তিরমিজি: ৩৫০৫

গ. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, আমার ভাই ইউনুসের দোয়াটি খুব সুন্দর। এর প্রথম অংশে আছে কালিমায়ে তায়্যিবা। মাঝের অংশে আছে তাসবিহ। আর শেষের অংশে আছে অপরাধের স্বীকারোক্তি। যে কোনো চিন্তিত, দু:খিত, বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি প্রতি দিন এ দোয়া তিন বার পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তার ডাকে সাড়া দিবেন। -কানজুল উম্মাল: ৩৪২৮

আমল: কঠিন বালা-মুসিবত দূর করার জন্য বর্ণিত দোয়া বা আয়াতটি এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পাঠ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে, ওই দোয়া হয়।

শিশুর জিদ দূর করার আমল
দোয়া:
أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

উচ্চারণ: আফাগাইরা দীনিল্লাহি ইয়াবগুনা ওয়ালাহু আসলামা মান ফিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি তাউআউ ওয়া কারহান; ওয়া ইলাইহি ইয়ুরজাঊন।

অর্থ: তারা কি আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য জীবন ব্যবস্থা তালাশ করছে? নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তার অনুগত হবে। সবাই তার কাছে ফিরে যাবে। -সূরা আল ইমরান: ৮৩

ফজিলত: যে ব্যক্তির সন্তান বা প্রাণী তাকে কষ্ট দেয়, সে যেন তার কানে সূরা আল ইমরানের ৮৩ নং আয়াত পড়ে। -আল মুজামুল আউসাত লিত্ তাবারানি: ৬৪

আমল: সন্তানের অতিরিক্ত জিদ থাকলে, কথা না শোনলে, কথা না মানলে প্রতিদিন ৭ বার সন্তানের কপালের উপরিভাগের চুলে হাত রেখে এ আয়াতখানা পাঠ করে তার চেহারা ও কানে ফুঁ দিলে- জিদ কমে আসে। এ আমল নূন্যতম ২১ দিন লাগাতার করতে হয়।

শ্রেষ্ঠ দোয়া
দোয়া: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ্, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ্। ওয়াকিনা আজাবান্নার।

অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা আল বাকারা: ২০১‍ৎ

ফজিলত: এ দোয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়ে থাকে। নবী করিম (সা.) এ দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন।

বিশিষ্ট তাবেয়ি হজরত কাতাদাহ (রহ.) সাহাবি হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, নবী করিম(সা.) কোন দোয়া বেশি করতেন? উত্তরে সাহাবি হজরত আনাস (রা.) উপরোক্ত দোয়ার কথা জানালেন। তাই হজরত আনাস (রা.) নিজে যখনই দোয়া করতেন- তখনই দোয়াতে এই আয়াতকে প্রার্থনারূপে পাঠ করতেন। এমনকি কেউ তার কাছে দোয়া চাইলে তিনি তাকে এ দোয়া দিতেন। -সহিহ মুসলিম: ৭০১৬

হজরত আনাস (রা.) আরও বলেন, আল্লাহতায়ালা এ দোয়ায় দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা একত্রিত করে দিয়েছেন।

দ্বীনদার স্ত্রী লাভের আমল
দোয়া: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররি-ইয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিওঁ-ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: হে আমার প্রভু! স্ত্রী ও সন্তাদের দ্বারা আমার চোখ শীতল কর। আমাকে পরহেজগারদের আদর্শ কর। -সূরা ফোরকান: ৭৪

আমল: যারা বিয়ে করেননি তারা প্রত্যেক নামাজের (তা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল যে কোনো নামাজ হোক) শেষ বৈঠকে দোয়ায়ে মাছূরা পড়ার পর কোরআনে বর্ণিত এই আয়াতখানা পাঠ করে সালাম ফিরাবেন। বিয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ আমল করলে আশা করা যায়, আল্লাহভক্ত দ্বীনদার, পরহেজগার ও আদর্শ স্ত্রী জুটবে।

আর যারা বিয়ে করেছেন তারা স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বীনদার করার জন্য, তাদের আদর্শবান করে গড়ে তোলার জন্য- প্রতিবার দোয়ায় এ আয়াত আয়াত পাঠ করলে বিশেষ উপকার লাভ হয়।

রিজিক বৃদ্ধির আমল
দোয়া: اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লাতীফুম্ বি-ইবাদিহি ইয়ারজুকু মাইয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাভিয়্যুল আজিজ।

অর্থ: আল্লাহতায়ালা নিজের বান্দাদের প্রতি মেহেরবান। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। -সূরা শুরা: ১৯

আমল: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে, একনিষ্ঠতার সঙ্গে ৭০ বার এ আয়াত পড়বে, সে সর্বদা রিজিকের সঙ্কট থেকে হেফাজতে থাকবে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির আমল
স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকেই নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী নিজে অথবা তার পিতা-মাতা প্রতিদিন প্রত্যেক নামাজের পর সূরা আলাম নাশরাহ পড়ে তার বুকে ফুঁ দিবে। সূরা পাঠ করার শুরু ও শেষে একবার করে দরূদ শরিফ পড়বে। যদি শিক্ষার্থী সমঝদার হয়, তবে প্রতিবার পড়তে বসার সময়, প্রত্যেক ক্লাসের শুরুতে, শিক্ষার প্রতিটি আসরের শুরুতে আগে-পরে দরূদ শরিফসহ এ সূরা পড়ে নিজের বুকে ফুঁ দিবে। যে নিয়মিত এ আমল করবে, আল্লাহর রহমতে তার স্মৃতিশক্তি বাড়বে।

নোট: যে কোনো আরবির বাংলা উচ্চারণ লেখায় মূল উচ্চারণ অনেকাংশেই ব্যহত হয়। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো, বর্ণিত এসব দোয়া আপনার নিকটস্থ মসজিদের ইমাম-খতিব বা ভালো কোনো আলেমের কাছ থেকে শিখে নিবেন।

দুয়া সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

দুয়া সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এই আবেদন সোজা আল্লাহর দরবারে যাবে,যত অস্ত্র আছে সবকিছু থেকে বেশি শক্তিশালী আমাদের দুয়া। দেশের মজলুম জনগনের দুয়া। আল্লাহর এক ইশারায় সমস্ত শত্রু ধুলোয় উড়ে যাবে।
নিচের দুয়া গুলো পড়ুন,সহজ দুয়া মুখস্থ করে নেন। এবং বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার করুন।
তাওয়াক্কালতু আলা আল্লাহ

কে বদ দুয়া দিতেঃ ( এই দুয়া বেশি বেশি পড়ুন)

اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، سَرِيعَ الْحِسَابِ، اهْزِمِ الأَحْزَابَ، اللَّهُمَّ اهزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ

হে আল্লাহ, কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রুবাহিনীকে পরাভূত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে পরাজিত করুন এবং তাদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে দিন।

ও নিজের হেফাজতের জন্যঃ

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক

اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ

হে আল্লাহ! আপনি যা ইচ্ছে তা দ্বারাই এদের মোকাবিলায় আমার জন্য যথেষ্ট হোন।

اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِم، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের গলদেশে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي، وَأَنْتَ نَصِيرِي، بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ، وَبِكَ أُقَاتِلُ

হে আল্লাহ! আপনি আমার শক্তি এবং আপনি আমার সাহায্যকারী; আপনারই সাহায্যে আমি বিচরণ করি, আপনারই সাহায্যে আমি আক্রমন করি এবং আপনারই সাহায্যে আমি যুদ্ধ করি।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

 

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  এই লিংক দুটি ( লিংক০১ ও লিংক০২ ) ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।