সিনেমা হল থেকে বের হয়ে দেখি আমার ছাত্রী একটা ছেলের সাথে হাত ধরাধরি করে বের হচ্ছে। আমাকে দেখে আমার ছাত্রী চমকে গেলো। আমি কিছু না বলে চুপচাপ ওদের সামনে থেকে চলে গেলাম। পরেরদিন যখন আমি আমার ছাত্রীকে পড়াতে যায় তখন ছাত্রীর বাবা আমার শার্টের কলার ধরে বলেছিলো, আমার এত সাহস কি করে হলো তার মেয়ের শরীরে হাত দেওয়ার আর বাজে ইঙ্গিত দেওয়ার.. আমি অবাক হয়ে ছাত্রীর বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার নামে এই নোংরা কথাটা কে বললো. ছাত্রীর বাবা আমার ডানগালে থাপ্পড় মেরে বলেছিলো, এই কথাটা না কি আমার ছাত্রী নিজেই বলেছে। ছাত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে চিন্তা করতে লাগলাম, শহরের মেয়েরা স্মার্ট হয় কিন্তু এতটা স্মার্ট হয় জানতাম না। আমার অপরাধ ছিলো আমি আমার ছাত্রীকে বয়ফ্রেন্ড সহ সামনাসামনি দেখে ফেলেছিলাম। তাই আমার ছাত্রী আমার নামে তার বাবা মার কাছে নোংরা একটা জিনিস বানিয়ে বললো যাতে ওর বাবা মা আমাকে ভুল বুঝে। আর আমি কিছু বললেও যেন বিশ্বাস না করে… তার কয়েকমাস পর ইন্টারনেটে ৮ মিনিটের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটা আমার ছাত্রী ও তার বয়ফ্রেন্ডের। আমি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি একটা হাসি দিলাম… আমি যে মেসে থাকি সেই মেসে আমি বাদে সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করে। সহজ কথা বলতে গেলে আমি বাদে সবার পারিবারিক অবস্থা খুব ভালো। মেসে আমার রুম মেটের ৪ হাজার টাকা হারিয়ে গেলো। সবার ধারণা হলো আমি টাকাটা চুরি করেছি কারণ আমি সেদিন কমদামের একটা স্মার্টফোন কিনেছিলাম। পাশের রুমের এক বড় ভাই তিনি জোর গলায় বললেন, উনি না কি নিজ চোখে দেখেছেন আমি আমার রুমমেট মামুনের ব্যাগে হাত দিয়েছি। আমি তখন কিছু বললাম না কারণ আমার কিছু বলার মত পরিস্থিতি ছিলো না। বড় ভাইকে সবাই খুব মানতো আমি কিছু বললেও লাভ হতো না। আমি দোকানে গিয়ে দোকানদারের হাতে পায়ে ধরে ফোনটা ফেরত দিয়ে সেই টাকাটা আমার রুমমেটকে দিলাম। চোরের অপবাদ নিয়ে যে মেস থেকে ৫ মাস আগে বের হয়ে গিয়েছিলাম আজ সেই মেসে বড় ভাই আমাকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছে। সবার সামনে বড়ভাই আমার হাত ধরে বললো, পিয়াস আমায় ক্ষমা করে দিস। আমি সেদিন ইচ্ছে করে তকে চোর বানিয়েছিলাম। আসলে সেদিন টাকাটা আমি চুরি করেছিলাম। বড়ভাইয়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তার মাঝে মৃত্যু ভয় ঢুকে গেছে। আমি বড়ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি একটা হাসি দিলাম… শ্রাবণী তার সামনে রাখা গ্লাসটা আমার মুখে ছুড়ে মেরে বললো, তোর মত ভিখারীর কি করে সাহস হয় আমাকে এইসব বলার? তুই ভালো ছাত্র ছিলি দেখে তোর নোট পাওয়ার লোভে তোর সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম আর সেই তুই কি না আমাকে আজ প্রেমের প্রস্তাব দিস… সেই শ্রাবণীর খুব বড়লোক ছেলের সাথেই বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু বিয়ের ৩ বছর পর সে আজ আমার সামনে বসা। শ্রাবণী তার স্বামীর বিরুদ্ধে এক একটা নির্যাতনের কথা বলছে আর আমি এস আই আবুল বাশার পিয়াস সুন্দর করে নোট করছি। কথাবলার এক পর্যায়ে শ্রাবণী আমায় বললো, সেদিন যদি তোর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেতাম তাহলে আমার কপালে আজ এত কষ্ট থাকতো না। আমি কিছু না বলে শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিলাম। যে হাসির অর্থ হলো, কেউ তোমার উপর অন্যায় করলে সে তার প্রতিদান পাবেই। আজ একটা কথা খুব মনে পড়ছে, দুনিয়াতে মানুষ মানুষকে ক্ষমা করে দিলেও সৃষ্টিকর্তা কাউকে ক্ষমা করে না। সৃষ্টিকর্তা সব হিসাব করে মানুষকে ফিরিয়ে দেন… ছবিঃ সিনেমা হলের সামনে (প্রতীকি) স্বত্নঃ যুগান্তর লেখা স্বত্বঃ এসআই আবুল বাশার পিয়াস।  

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।