আজিমপুর_কবরস্থানের_অভিজ্ঞতা!

আগে আজিমপুর অনেকবার গেলেও কবরস্থানে ঢোকা হয়নি, তো ঢুকেই হাতের ডানে চোখ গেল বড় এক বোর্ডের দিকে- “নিমতলি ট্র্যাজেডিতে শহিদ একই পরিবারের ১১ জন এর কবর”! পড়তে সহজ লাগলেও মেনে নেওয়াটা ছিল খুব কঠিন। মিনিট পাঁচেক এক পলকে সারি করা ১১ টা কবরের দিকে তাকিয়ে রইলাম, এর মধ্যে অন্য কিছুই ভাবনায় আসলো না। হৃদয়টা একটু কোমল হতে শুরু করল।

সামনের দিকে হাঁটা দিলাম……

হাজার হাজার কবর তার মাঝে কিছু কবর খুব # VIP মনে হল, কারণ কারুকার্য ছিল অসাধারণ। হঠাৎ ই চোখে পড়ল একটি কবর নাম “মেয়র হানিফ” – হানিফ ফ্লাইওভারের নামে তাঁকে অনেক চিনলেও প্রথম তার সাথে দেখা এই কবরস্থানেই। সামনে আগালেই পূর্ব-দক্ষিণে আরেকটি # VIP কবর চোখে পড়বে। সেটা হল, “ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতার” – এরকম প্রচুর কবর দেখলাম হাঁটতে হাঁটতে। কবরের বাইরের কাঠামো # VIP হলেও উঁচুনিচু সবারই ভিতরের কাঠামো একই।

এতেক্ষণে আমার হৃদয়টা শীতল হয়ে গেল। এর পরেই উত্তর-পূর্ব কোণে দেখলাম ৪-৫ জন লোক কয়েকটি নতুন কবর খুঁড়ছে, আগ্রহবশতঃ গেলাম সেখানে। যেতে যেতেই দেখি একটি লোক পুরনো একটি কবর অবশ্য বেশি দিন হয়নি ২ বছর হয়েছে কেবল (কবর খোঁড়া লোকটির কাছ থেকে শোনা) এরকম একটি কবর খুঁড়ছে, সেটার ভিতর নতুন কবর দেওয়া হবে। আর আমি যেখানে দাঁড়িয়েছি সেখানেও বেশ কয়েকটি কবর আগে ছিল যার কারণে নিচের আশেপাশে অনেক ভাঙা হাড় রয়েছে মাটিতে। তখনই নিজেকে খুব তুচ্ছ লাগতেছিল, আমি কোন মানুষ, জীবন টা আসলে কি! এমন ধরণের প্রশ্ন মনে আসছে, এরকম ভাবছি আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম।

হঠাৎ ই ঐ লোকটির কোদালের সাথে একটি স্কেলিটন (মাথার খুলি) উঠে আসলো। আশেপাশে আমার মতই দু’চারজন দর্শনার্থী ছিল। সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। লোকটি কোদালের মাথা দিয়ে ঐটাকে ভাঙতে শুরু করলে আমি থামিয়ে দেই এবং হাতে নেই। মাথাটির বামপাশ কোদালের আঘাতে ভাঙা। আর চোয়ালের পাটি নিচে পড়ে আছে। পাশের লোকটি বলল ভাই আপনার সাহস তো ভালই! আমি ঐ মাথাটির মধ্যে কোন ভয় খুঁজে পাইনি পেয়েছি রক্তমাংসের দিব্যি হেঁটে চলা এক মানুষের গন্ধ। তাই হাতে নিতে একটুও দ্বিধা লাগেনি।

মাথাটি পাশে রেখেই মোবাইল নিয়ে ছবি তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নিষেধ থাকায় তুলতে পারিনি আর আমার কাছেও মনে হল কাজটি মোটেও ঠিক হচ্ছিলো না। আমি তখন হাঁটু ভেঙ্গে নিচে বসে ছিলাম। মাথাটার দিকে তাকিয়ে আছি এক পলকেই… এরপর চোখ গেল এক থোকা চুলের দিকে যেটা খুব সুন্দর করে বাঁধা ছিল একটি সাধাসিধে চুলের ব্যান্ড দিয়ে, আমি যখন চুলের দিকে তাকালাম আর তখনই কবর খোঁড়া লোকটি বলল ভাই দেখছেন চুল কখনো পঁচেনা।

তার এই কথার থেকে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ চুলের ব্যান্ড কারণ এতোক্ষণ যে মাথাটা আমার হাতে ছিল সে একজন মহিলা আর যেহেতু চুলটি বাঁধা সেহেতু লাশটির সৎকার হয়নি। এটা ভেবেই ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই লাশের তো জানাজা হয়নাই? লোকটি বলল এটা একটা মেয়ের বেওয়ারিশ লাশ ছিল। কথাটা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।

নিশ্চুপ হয়ে গেলাম…….

যেতে যেতে উপলব্ধি করলাম এই পৃথিবীতে আমরা কি নিয়ে এত অহংকার করি! আমার অনেক টাকা চাই, বিলাসি-আয়েশি জীবন চাই, অহংকারে পা মাটিতে পরে না আমাদের। সব কিছুই ঐ মুহূর্তে হাস্যকর মনে হচ্ছিল। হায়রে জীবন!

লেখা: অপুর্ব রহমান পার্থ। [ পরিমার্জিত ]

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  এই লিংক দুটি ( লিংক০১ ও লিংক০২ ) ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।